মেইন ম্যেনু

ডেঙ্গুতে প্যারাসিট্যামল, অন্য কিছু নয়

চিকিৎসা শাস্ত্রে ডেঙ্গুকে উপমা দিয়ে বলে ‘Break Bone Fever’। বলা হয়, এই রোগে শরীরে যে ব্যথা হয় তা হাড় ভেঙে ফেলার মতো তীব্র। তবুও এই রোগ থেকে পরিত্রাণ পেতে ব্যথানাশক খাওয়া নয়। কারণ, ডেঙ্গু জ্বরে রক্তের প্লাটিলেট অনেক কমে যায়। রক্তক্ষরণ হয়ে যেকোনো দুর্ঘটনা হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে যদি ব্যাথানাশক (কিটোরোলাক, ন্যাপ্রক্সেন ইত্যাদি গ্রুপ) খাওয়া হয় তবে রক্তের প্লাটিলেট আরও কমবে। ব্যথানাশক ওষুধ রক্তের প্লাটিলেটকে দুর্বল করে দেয়। এব্যাপারে আরও বিস্তারিত জানাচ্ছেন ইবনেসিনহা মেডিকেল কলেজ এন্ড হসপিটাল এর চিকিৎসক মাকসুদ আল হাসান (হিমেল)।

চিকিৎসক মাকসুদ আল হাসান বলেন- আগেই নিশ্চিত হতে হবে আপনার ডেঙ্গু হয়েছে কিনা। সেক্ষেত্রে,

– আপনি যেখানে আছেন তার পাশে বদ্ধ পানি বা নালা আছে কিনা।

– একটানা উচ্চ তাপমাত্রার জ্বর।

– তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে, পিঠে, সারা শরীরে ব্যথা।

– বমি ভাব বা বমি, তীব্র অরুচি।

কোনো জ্বরের রোগীর এধরনের লক্ষণ দেখা দিলে প্রথমত ধরে নেয়া যেতে পারে ডেঙ্গু হয়েছে। এসময় শরীরের অস্থিরতা কাটাতে তাই কখনোই ব্যথানাশক খাওয়া যাবে না। ডেঙ্গু ভাইরাল ফিভার। এন্টিবায়োটিক খুব বেশি প্রয়োজনীয় না। তবে প্যারাসিট্যামল জাতীয় ওষুধ খাওয়া যেতে পারে। এছাড়া রোগীর পূর্ণাঙ্গ শারীরিক সুস্থতার প্রয়োজনে-

– প্রচুর পানি বা লিক্যুইড খাবার খেতে হবে।

– প্যারাসিট্যামল- জ্বর কমাবে, কিছুটা ব্যথাও কমাবে।

– বমির জন্য- ডমপেরিডন, প্যালক্সি জাতীয় ওষুধ খাওয়া যেতে পারে।

– চুলকানি হলে(জ্বরের ৫ম দিনের পর) এন্টিহিষ্টামিন (ডেসলর, ফেক্সো জাতীয় ওষুধ) খাওয়া যেতে পারে।

সাধারণত নয় দশ দিনে জ্বর ভালো হয়ে যায়। তবে পাঁচ থেকে সাত শতাংশ রোগীর বিপদ দেখা দেয়, যেটা মৃত্যুর কারণ হতে পারে। এজন্য তীব্র উপরোক্ত লক্ষণসহ জ্বর দেখা দিলে নিকটস্থ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সুস্থ থাকতে কিছু জরুরি সাবধানতা অবলম্বন করতে পারেন।

– যতদিন বৃষ্টির মৌসুম থাকে মশারি ছাড়া ঘুমাবেন না।

– আশেপাশের পরিবেশ মশামুক্ত কিনা তা যাচাই করে পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা করুন।

– সন্ধ্যার পর ঘরে মশার প্রবেশ রোধ করুন।

– সন্ধ্যায় ঘরে আলো জ্বেলে দিন। আলো আধারিতে ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার যাতায়াত বেশি থাকে।






মন্তব্য চালু নেই