মেইন ম্যেনু

ঢাকায় কোরবানির পশুর দাম বাড়ার আশঙ্কা

ঈদুল আজহা উপলক্ষে গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন কোরবানির পশুর দাম বাড়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, এবার পশুর হাটের ইজারামূল্য অন্যান্য বছরের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি হয়েছে। এর প্রভাব পড়বে পশুর দামেও।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাজারীবাগ ঝিগাতলা মাঠের পশুর হাট সর্বোচ্চ ৬৬ লাখ ১০ হাজার টাকায় ইজারা নিয়েছেন হাজী মনিরুল হক। গত বছর ওই হাটের ইজারামূল্য ছিল ৪৬ লাখ টাকা।

খিলগাঁও মেরাদিয়া হাটের জন্য ৫১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দর দিয়েছেন মোহাম্মদ শাহ আলম। গত বছর এই হাটের ইজারামূল্য ছিল ৪০ লাখ ২০ হাজার টাকা। উত্তর শাহজাহানপুর মৈত্রীসংঘ মাঠের হাটের জন্য সর্বোচ্চ ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা দর দিয়েছেন আবদুল লতিফ। গত বছর ছিল ৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। ধুপখোলা খেলার মাঠের হাটের জন্য ৯৩ লাখ টাকা দর দিয়েছেন মোর্শেদ আহমদ চৌধুরী। গত বছর ছিল ৪৫ লাখ টাকা।

ধোলাইখাল সাদেক হোসেন খোকা মাঠের সর্বোচ্চ মূল্য ১ কোটি ৫৫ লাখ ৫ হাজার টাকা দর দিয়েছেন ফরহাদ ভূঁইয়া। গত বছর ছিল ৫৮ লাখ ৫ হাজার টাকা। ইজারামূল্য বেড়েছে প্রায় তিন গুণ।

গোপীবাগ বালুর মাঠ সংলগ্ন ব্রাদার্স ইউনিয়নের মাঠ হাটের জন্য ১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা দর দিয়েছেন শহীদ উদ্দিন। গত বছর ছিল ২৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা।

এ বছর প্রথম দফায় গোপীবাগ বালুর মাঠ হাটের সর্বোচ্চ দর দিয়েছিলেন ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর এ কে এম মমিনুল হক সাঈদ। আইনগত সমস্যায় পরবর্তী সময়ে তা বাতিল হয়।

কমলাপুর স্টেডিয়াম ও আশপাশের এলাকায় প্রথমবারের মতো পশুর হাট বসাবে ডিএসসিসি। প্রথম দফায় ওই হাটের সর্বোচ্চ দর ২০ লাখ টাকা দিয়েছিলেন ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর এ কে এম মমিনুল হক সাঈদ। পরবর্তী সময়ে তা বাতিল হলে দ্বিতীয় দফায় সর্বোচ্চ ৩৮ লাখ ২০ হাজার টাকা দর দেন আমির খান।

পোস্তগোলা শ্মশানঘাট সংলগ্ন ফাঁকা স্থানে হাটের জন্য ১৫ লাখ ২০ হাজার টাকা দর দিয়েছেন আসাদুজ্জামান। গত বছর ছিল ১১ লাখ ১০ হাজার টাকা। লালবাগ মরহুম হাজী দেলোয়ার হোসেন খেলার মাঠ হাটের জন্য ১ কোটি ৬ লাখ টাকা দর দিয়েছেন মোহাম্মদ ইউসুফ। গত বছর ছিল ১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। তবে এই হাটের জন্য আবার দরপত্র আহ্ববান করা হবে বলে জানা গেছে। শ্যামপুর বালুর মাঠ নতুন হাটের জন্য ৪১ লাখ টাকা দর দিয়েছেন এস এম মাসুদ রানা।

লালবাগ রহমতগঞ্জ খেলার মাঠের জন্য সর্বোচ্চ ৯ লাখ ১৫ হাজার টাকা দর দিয়েছে রহমতগঞ্জ মুসলিম সোসাইটি। গত বছর ছিল ৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা। কামরাঙ্গীরচর ইসলাম চেয়ারম্যান বাড়ির মোড় থেকে বুড়িগঙ্গা নদীর বাঁধ সংলগ্ন হাটের জন্য ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা দর দিয়েছেন হাজী আবুল হাসান সরকার। গত বছর ছিল ৪ লাখ টাকা।

যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজারের ভেতরের হাটের জন্য ৭৫ লাখ টাকা দর দিয়েছেন আনোয়ার হোসেন।

এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় গাবতলী স্থায়ী হাটসহ মোট আটটি হাটের ইজারা চুড়ান্ত হয়েছে। বাকি আছে একটি।

উত্তরা ১৫ ও ১৬ নম্বর সেক্টরের সেতু সংলগ্ন ফাঁকা স্থানে পশুর হাটের জন্য ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা দর দিয়েছেন শফিক অ্যান্ড ব্রাদার্স। গত বছর ছিল ১ কোটি ৯ লাখ টাকা। খিলক্ষেত বনরূপা আবাসিক প্রকল্পের ফাঁকা স্থান হাটের জন্য ২ কোটি ৪১ লাখ টাকা দর দিয়েছে সালাম অ্যান্ড সন্স। গত বছর ছিল ১ কোটি ৫১ লাখ টাকা। মিরপুর সেকশন-৬ ইস্টার্ন হাউজিংয়ের ফাঁকা স্থানের জন্য সর্বোচ্চ ৫১ লাখ টাকা দর উঠেছে। গত বছর ছিল ৪৩ লাখ টাকা।

ডিএনসিসি সম্পত্তি বিভাগ থেকে জানা গেছে, বাড্ডা (ইদুলিয়া, দাউদকান্দি, বাঘাপুর), আশিয়ান সিটি হাউজিং ও ভাটারা (সাইদনগর) এলাকায় আরো তিনটি পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব এলাকার পশুর হাটের ইজারা আগে নিত ঢাকা জেলা প্রশাসন।

কোরবানিতে পশুর দাম বাড়ার আশঙ্কার বিষয়ে গরু ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজধানীর পশুর হাটে বিক্রির লক্ষ্যে আনা গরু-ছাগল পরিবহনের জন্য বিভিন্ন সেক্টরে পর্যায়ক্রমে টাকা দিয়ে আসতে হয়। তার ওপর ইজারামূল্য বেড়ে গেলে ইজারাদাররাও মাসুল বাড়িয়ে দেন। এসব অতিরিক্ত টাকা তো ব্যবসায়ীরা নিজের পকেট থেকে তো দেন না। তারা পশুর দাম বাড়িয়ে বাড়তি টাকা আদায় করেন।

তবে এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ বছর রাজধানীতে ৩ লাখ ৬১ হাজারের বেশি পশু কোরবানির সম্ভাবনা আছে। গত বছর কোরবানি হয়েছিল ৩ লাখ ৪১ হাজারের বেশি পশু।

এদিকে কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে পশু কেনার জন্য নগরবাসীর সুবিধার্থে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ঢাকার উভয় সিটি করপোরেশন। চাহিদা অনুযায়ী ঢাকা সিটি করপোরেশন (উত্তর ও দক্ষিণ) এলাকায় এ বছর ২৩টি পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে একটি স্থায়ী ও ২২টি অস্থায়ী।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় সরকারি হিসেব অনুযায়ী, ২ লাখ ৬০ হাজার পশুর চাহিদা রয়েছে। সেই চাহিদা পূরণের জন্য ডিএসসিসি এলাকায় ১৪টি হাটের ইজারা চুড়ান্ত হয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় সরকারি হিসেব মোতাবেক ১ লাখ ১ হাজার ৪১০টি পশুর চাহিদার বিপরীতে একটি স্থায়ী পশুর হাটসহ মোট নয়টি হাটের ইজারা চূড়ান্ত হয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই