মেইন ম্যেনু

ঢাকা মেডিকেল কর্মচারীর এতো সম্পদ!

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আবদুল খালেক। এই চাকরির সুবাদে বিপুল অবৈধ অর্থ সম্পদ গড়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। ঢাকার কেরানিগঞ্জের রুহিতপুরে ও কামরাঙ্গীরচরের রনি মার্কেটের কাছে গড়ে তুলেছেন দুইটি বাড়ি। নিয়োগ বাণিজ্য, নিন্মমানের পোশাক সরবরাহ, নামমাত্রমূল্যে হাসপাতালের পুরনো যন্ত্রপাতি কেনা আর ফুটপাত দখল বাণিজ্যের সঙ্গে থেকেই এই বিপুল সম্পদ বানিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও সব অভিযোগই প্রতিন্দ্বন্দ¦ীদের অপপ্রচার বলে উড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।

আবদুল খালেকের পৈত্রিক ভিটা ঢাকার অদুরে কেরানীগঞ্জের রুহিতপুরে তিনি ছয়তলা একটি বাড়ি নির্মাণ করেছেন।এছাড়াও তিনি কামরাঙ্গীচরের রনি মার্কেটের অদুরে একটি বাড়ি নির্মাণ করছেন।

জানতে চাইলে আবদুল খালেক বলেন, ‘রুহিতপুরের মুলারচরে বাপ-দাদার পৈত্রিক নিবাস। সেখানে বাড়িটি ২০ থেকে ২৫ কাঠার। ওই জমির মালিক আমি একা নই। আর কামরাঙ্গীরচরে এক ভদ্রলোক পৌনে এক কাঠা জমি আমাকে দান করেছেন। ওই জমিতে আমি একটি ডেরার মত তৈরি করেছি’।

খালেকের ঘনিষ্ঠ সহকর্মীরা জানাচ্ছেন, দুই বছরে নিয়োগ বাণিজ্যে অন্তত ১৫ কোটি টাকা আয় করেছেন তিনি। ১৭১ জনবল নিয়োগ দেওয়া কথা থাকলেও ভুয়া নিয়োগপত্র তৈরি করে নিয়োগ দেয়া হয়েছে ৩৫৪ জনকে। এদের কারও কাছ থেকে তিন লাখ, কারো কাছ থেকে চার লাখ টাকা নিয়েছেন। ওই টাকার ভাগ হাসপাতালের শীর্ষ কর্মকর্তারাও পেয়েছেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক হাজার দুইশ কর্মচারীর পোশাক বরাদ্দ বাবদ সরকার থেকে আট হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। এই পোশাক সরবরাহের কাজটি ভাগিয়ে নেন আবদুল খালেক। অভিযোগ আছে আট হাজার টাকার জায়গায় তিন হাজারে নিম্মমানের পোশাক সরবরাহ করেছেন তিনি। এভাবে প্রায় ৬০ লাখ টাকা কামানোর অভিযোগ আছে খালেকের বিরুদ্ধে।
সরকারি কর্মচারী স্থায়ী নিয়োগ যার পেয়েছেন তাদের আবাসনের ব্যবস্থা করেছে সরকার। প্রায় ৬০ জন কর্মচারী বাসস্থান পেয়েছেন। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা নিয়েছেন। এভাবে দুই কোটি টাকারও বেশি ঘুষ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে খালেকের বিরুদ্ধে।

গত আট বছরে হাসপাতালের পুরনো যন্ত্রপাতি ও মালামাল কিনেছেন ২৫ লাখ টাকায়। এর প্রকৃত মূল্য অন্তত পাঁচ কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের কর্মীরা।

হাসপাতালের সামনে ফুটপাত দখল করে দোকান তোলার অভিযোগও আছে খালেকের বিরুদ্ধে। চাঁনখারপুল মোড় থেকে জরুরি বিভাগের গেট পর্যন্ত ৩০০ টি দোকান রয়েছে। সেখান থেকে প্রতিটি দোকানে প্রতিদিন ৬০ টাকা করে ১৮ হাজার টাকা ওঠে। সেখানে খালেকের নিজের সাতটি দোকানও আছে। এগুলো ভাড়া দিয়েছেন, মাসে দোকানপ্রতি ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা ভাড়া পান।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মসজিদের পিছনে খালি জায়গা দখল করে একটি স্টোর বানিয়েছে। সেখানেও ভাড়া নেন আবদুল খালেক।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আবদুল খালেক বলেন, ‘দেখুন আমি রাজনীতি করি। আমাকে নিয়ে সবার একটা এলার্জি আছে। তারাই নানা কথা ছড়ায়’।

নিজের প্রভাব বজায় রাখতে কর্মচারী ইউনিয়নের নির্বাচন পাঁচ বছর ধরে আটকে রাখার অভিযোগও আছে আবদুল খালেকের বিরুদ্ধে। ২০০৮ সালে যেখানে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি ভয়ভীতি দেখিয়ে আজ পর্যন্ত সেই নির্বাচন হতে দেননি। যদিও খালেকের জবাব এ রকম- ‘আমাদের কেন্দ্রীয় কমিটিতে সমস্যা রয়েছে। আমি হাসপাতালের কমিটির নির্বাচন কিভাবে দেবো?’।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘খালেককে নিয়ে অনেক কথা শোনা যায়। অনেক ঘটনার সত্যতাও রয়েছে। তিনি অবৈধ নিয়োগ বাণিজ্য, কমদামে হাসপাতালের যন্ত্রপাতি কেনা, ফুটপাত দখল, স্টাফ কোয়ার্টার বরাদ্দে অনিয়মের মত গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত’।

জানতে চাইলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক খাজা আবদুল গফুর বলেন, ‘আবদুল খালেকের বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।ঢাকাটাইমস






মন্তব্য চালু নেই