মেইন ম্যেনু

তদবিরে ট্রেনের টিকেট দিচ্ছেন কমলাপুর স্টেশনের ম্যানেজার

টিকেটের জন্য কাউন্টারের লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে অবশেষে টিকেট মেলা সাধারণ যাত্রীদের কাছে সোনার হরিণ যেন। কিন্তু যারা তদবির করতে পারছেন তাদের কাছে টিকেট যেন পানির মতো স্বচ্ছ কোনো বস্তু। পানির মতো স্বচ্ছ টিকেট পাওয়ায় সহায়তা করছেন কমলাপুর রেলস্টেশনের ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী।

সরেজমিন গতকাল গিয়ে এই নজির মিলেছে। যারা ম্যানেজারের কক্ষে এসে তদবির করেছেন তারাই হাসিমুখে ফিরেছেন টিকেট নিয়ে। স্টেশন ম্যানেজারের কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, একের পর এক ভিআইপি তদবিরের সুরাহা করছেন তিনি।

তার কাছে প্রথমে এক সচিবের পক্ষ থেকে তদবির নিয়ে আসেন এক মহিলা। তিনি সিতাংশু চক্রবর্তীকে বললেন, ‘স্যার কল করেছেন। অপর্ণা নামে দিনাজপুরের দুটি টিকেট বুক করার কথা ছিল। স্যার ফোন দিয়েছেন, আপনি একটু কথা বলুন।’ এই বলে মহিলাটি ফোন সিতাংশু চক্রবর্তীর কাছে এগিয়ে দিলেন। তখন কাউন্টারে লিখিত চিরকুট পাঠালেন সিতাংশু চক্রবর্তী। ব্যস মিলে গেল টিকেট।

এর কিছুক্ষণ পরই কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তী কাছে বলেন, ‘সুষ্ঠুভাবে প্রথম দিনের আগাম টিকিট বিক্রি চলছে। কোনো ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। আমরা চাপবিহীনভাবে কাজ করছি। কোনো ধরনের অনিয়মও হচ্ছে না।’

প্রতিবেদককে এ কথা বলার পরই আরেকজন যুবক মোবাইল ফোন হাতে স্টেশন ম্যানেজারের কাছে এগিয়ে আসেন। ওই যুবক বলেন, ‘স্যার আপনার সঙ্গে কথা বলবেন আমার বড় ভাই। স্যার এ মোবাইলে তিনি লাইনে আছেন। একটু কথা বলেন স্যার।’

তখন সিতাংশু চক্রবর্তী ‘আমি একটু আসছি’ বলে ওই যুবককে নিয়ে কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।

রেলওয়ে ও আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা এক সূত্রে জানা যায়, এভাবে সারাদিনই আগাম টিকিটের তদবির এসেছে এবং স্টেশন ম্যানেজার কিছুক্ষণ পর পরই কক্ষ থেকে বের হয়েছেন।

সরেজমিন বৃহস্পতিবার দেখা যায়, সকালে টিকেট কেনার জন্য প্রতিটি লাইনে দাঁড়ানোর জায়গা নেই। কিন্তু বৃষ্টির কারণে বেলা বাড়ার পর এ ভিড় কমতে শুরু করে।

টিকেট কাউন্টারগুলো ঘুরে দেখার সময় সাদা টি-শার্ট ও জিন্স প্যান্ট পরনে এক যুবক এ প্রতিবেদকের সামনে এসে বলতে লাগল ‘ভাই, টিকেট লাগবে টিকেট, টিকেট।’

প্রতিবেদক বলেন, ‘আপনার কাছে কোথাকার টিকেট আছে?’

ওই ব্লাকের টিকিট বিক্রেতা বলেন, ‘আপনার কোথাকার টিকেট লাগবে?’

প্রতিবেদক বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গার টিকিট আছে?’ বিক্রেতা বলেন, ‘এখন নেই তবে ব্যবস্থা করে দেওয়া যাবে।’

প্রতিবেদক বলেন, ‘আপনার নম্বর দেন, টিকিট আনতে পেরেছেন কিনা কল করে জানব।’

ব্লাকের টিকিট বিক্রেতা বলেন, ‘কল করা লাগবে না। এখানে আইসেন, আমি আশপাশে থাকব।’ পরে কথা বলে জানা যায়, কালোবাজারে টিকেট বিক্রেতার নাম জুবায়ের।

তবে টিকিট বিক্রি নিয়ে রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধেও রয়েছে অনেকের অভিযোগ এবং গত কয়েক বছরের মতো আগে থেকেই কালোবাজারে আগাম টিকেট হাতে দেখা যায় কাউকে।

যাত্রীদের মধ্যে কয়েকজন টিকেট বুকিংয়ে অনিয়মের অভিযোগ করেন। এদের মধ্যে একজন রাজশাহীর টিকেট কিনতে আসা জসিমউদ্দিন বলেন, ‘সকালে তো আসেননি। তখন রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতি চোখে পড়ত। তারা কোনো লাইনে দাঁড়াননি। তারা নিয়ম-নীতি না মেনে ভেতর থেকেই তাদের পছন্দমতো টিকেট কেটে নেন।’

ঈদ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে এবং আগাম এ টিকিট বিক্রি চলবে সোমবার পর্যন্ত।

সিতাংশু চক্রবর্তী আরও বলেন, ‘তদবির করে যারা টিকিট পাচ্ছেন না তারা বাইরে গিয়ে ব্লাকে টিকিট বিক্রির মিথ্যা অভিযোগ করছেন। আমরা চেষ্টা করছি তদবির এড়িয়ে যাওয়ার জন্য। নিয়ম অনুযায়ী লাইনে দাঁড়ানো ছাড়া কেউ টিকিট পাবেন না। সুনির্দিষ্ট টিকিট কাউন্টারের লাইনে দাঁড়িয়েই ট্রেনের আগাম টিকেট নিতে হবে।’






মন্তব্য চালু নেই