মেইন ম্যেনু

তনুর খুনের বিচার দাবিতে সড়ক অবরোধ, আটক ৩০

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনুর খুনি শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও বিচারের মুখোমুখি করার দাবিতে সারাদেশে আধাবেলা হরতাল চলছে। প্রগতিশীল ছাত্র জোট ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছাত্র ঐক্য এ ডাকে। কর্মসূচি চলবে দুপুর ১২টা পর্যন্ত।

গত ৭ এপ্রিল তনু হত্যার বিচারের দাবিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে বাধা দেয় পুলিশ। প্রগতিশীল ছাত্র জোট ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছাত্র ঐক্য ওই ঘেরাও কর্মসূচি দিয়েছিল।

ওইদিন সোহাগী জাহার তনুর খুনিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবিতে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়া হয়। অন্যথায় ২৫ এপ্রিল সারাদেশে আধাবেলা হরতাল করার ঘোষণা দেয় প্রগতিশীল ছাত্রজোটের সমন্বয়ক আশরাফুল আলম সোহেল।

রাজধানী ঢাকাসহ সড়ক-মহাসড়কে হরতালের প্রভাব দেখা যায়নি। তবে অধিকাংশ শিক্ষাঙ্গনে এবং এর আশপাশে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা।

আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জানান, কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল থেকে রাজধানীর শাহবাগ অবরোধ করে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের কর্মীরা। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ছাত্ররা এখানে অবস্থান নেয় এবং তনুর খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে।

জোটের সমন্বয়ক আশরাফুল আলম সোহেল বলেছেন, ‘সারাদেশে হরতাল চলছে। আমাদের ওপর হামলা হচ্ছে। ইতোমধ্যে আমাদের ৩০ সহকর্মীকে আটক করা হয়েছে। গাজীপুর, জয়দেবপুর, জয়পুরহাট, জামালপুর, বগুড়া, দিনাজপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা করা হচ্ছে।’

পরবর্তী কর্মসূচি সম্পর্কে জানতে চাইলে আশরাফুল আলম জানান, দুপুরের পর জোটের নেতা-কর্মীরা বসে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

আন্দোলনের সমন্বয়ক সুস্মিতা রায় সুপ্তি জানান, সারাদেশে এ কর্মসূচি চলছে। তাদের দাবি না মানলে আরো কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।

এদিকে সড়ক অবরোধ বিষয়ে জানতে চাইলে রমনা জোনের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার এস এম ইমামুল ইসলাম বলেন, ‘হরতালের সমর্থনে সকাল থেকে শাহবাগে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। এ অবরোধের কারণে চার রাস্তার সংযোগস্থল দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে পারছে না।’

মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে ছাত্রদের অবরোধে ফার্মগেট ও সায়েন্স ল্যাবরেটরি থেকে গুলিস্তান ও মতিঝিলগামী যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। ফার্মগেট থেকে গুলিস্তান, মতিঝিলগামী যানবাহন মন্ত্রীপাড়া দিয়ে চলাচল শুরু হয়। এতে সকাল হতেই নগরজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগন্তিতে পড়েন অফিসগামী কর্মী এবং শিক্ষার্থীরা।

আমাদের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জানান, সকাল সাড়ে ৬টায় থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রান্তিক গেটের সামনে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে ছাত্রজোটের নেতা-কর্মীরা। এতে রাস্তার দুই পাশে শত শত বাস, ট্রাক, মিনিবাস, ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল আটকা পড়ে।

পরে পুলিশ আন্দোলনকারীদের লাঠিচার্জ করে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়। এ সময় প্রচার সম্পাদক উজ্জ্বলসহ কয়েকজন আহত হন।

ছাত্রজোটের ১৩ নেতা-কর্মীকে পুলিশ আটক করেছে বলে জানিয়েছেন ছাত্রফ্রন্টের জাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক সুস্মিতা মরিয়ম।

আমাদের নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সোমবার সকাল পৌনে ৭টায় নারায়ণগঞ্জ শহরের ডিআইটি বাণিজ্যিক এলাকা থেকে প্রগতিশীল ছাত্র জোট নারায়ণগঞ্জ জেলার ব্যানারে হরতালের পক্ষে মিছিল বের হয়। তবে ডিআইটি বাণিজ্যিক এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে চাষাঢ়া দিকে যাওয়ার সময় গ্রিনলেজ ব্যাংক মোড় এলাকায় পুলিশ তা ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

পরে সকাল ৭টায় থেকে ৮টা পর্যন্ত গ্রিনলেজ ব্যাংকের বিপরীত দিকে অবস্থান নিয়ে হরতালের পক্ষে ও তনুসহ সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেয়।

সকাল ৮টার দিকে পুলিশ তাদের গ্রিনলেজ ব্যাংকের বিপরিত দিক থেকে সরিয়ে দিলে মিছিল নিয়ে শহরের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে অবস্থান নেয়। এবং সেখানে হরতালের পক্ষে ও হত্যার বিচার দাবিতে স্লোগান দেয় ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে।

আমাদের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জানান, সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে থেকে ৯টা পর্যন্ত তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। এ সময় গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে কয়েক কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে রাবি ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক তমাশ্রী দাস বলেন, ‘কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আমরা রাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। সকালে আমরা মেইনগেটে অবস্থান নিয়ে অবস্থান ধর্মঘট করেছি। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করা হয়।’

প্রগতিশীল ছাত্রজোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গণতান্ত্রিক বামমোর্চা, সিপিবি-বাসদসহ ১৪টি রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক-পেশাজীবী সংগঠন ও নারী সংগঠনসমূহ এই হরতালের সমর্থনে মাঠে রয়েছে। এ ছাড়া অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, অধ্যাপক আহমেদ কামাল, অধ্যাপক আজফার হোসেন, গীতি আরা নাসরিন, অধ্যাপক এম এম আকাশ, শিল্পী মাহমুদুজ্জামান বাবু, শিল্পী অরূপ রাহীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাংস্কৃতিক কর্মী, সমাজকর্মী ও দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এ হরতালে সমর্থন জানিয়েছেন।

গত ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসের সুরক্ষিত এলাকায় ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী সংস্কৃতিকর্মী সোহাগী জাহান তনুকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠে সারাদেশ। কিন্তু হত্যার পর এক মাস পেরোলেও হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।






মন্তব্য চালু নেই