মেইন ম্যেনু

তনুর ঘাতকরা মারা গেলেও ডিএনএ শনাক্ত করা সম্ভব

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলা তদন্তে সিআইডি আবারো তৎপর হয়ে উঠেছে।

বুধবার বিকেলে সিআইডির একটি দল কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় তনুর লাশ উদ্ধারস্থল পরিদর্শন করে এবং তনুর বাবা-মা ও এক স্কুল শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে।

এর আগে সকালের দিকে সিআইডির কার্যালয়ে তনুর পরিচিত গায়ক সারওয়ার, বাপ্পী ও মিউজিসিয়ান খোকনকে দেড় ঘণ্টাব্যাপী জিজ্ঞাসাবাদ করে।

এদিকে দেরীতে হলেও তনুর ঘাতকদের বিচারের আওতায় আনা সম্ভব বলে দাবি করেছেন সিআইডি-কুমিল্লা-নোয়াখালী অঞ্চলের বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম খান।

বুধবার বিকেলে তিনি সাংবাদিকদের আরও জানান, আসামি মারা গেলেও কবর থেকে লাশ তুলেও ডিএনএ শনাক্ত করা সম্ভব।

বৃহস্পতিবার ঢাকায় মামলার সর্বশেষ তদন্ত অগ্রগতি নিয়ে মামলার তদন্ত সহায়ক দলের সঙ্গে কুমিল্লার একটি প্রতিনিধি দলের বৈঠক হতে পারে বলে সিআইডি সূত্রে জানা গেছে।

জানা যায়, গত ২০ মার্চ রাতে তনুর মরদেহ কুমিল্লা সেনানিবাসের একটি জঙ্গল থেকে উদ্ধার করার পরদিন তার বাবা ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। গত সোমবার হত্যাকাণ্ডের ৩ মাস পূর্তি উপলক্ষে গণজাগরণ মঞ্চ-কুমিল্লার উদ্যোগে নগরীর কান্দিরপাড়ে বিক্ষোভ সমাবেশে প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করেন তনুর মা আনোয়ারা বেগম।

এ সমাবেশে তার দেয়া বক্তব্যে দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হয়। বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ৮ম দফায় সিআইডি-কুমিল্লা অঞ্চলের বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম খানের নেতৃত্বে কুমিল্লা সেনানিবাসে যায় সিআইডির তদন্ত দল। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার প্রনব কুমার রায়, সহকারী পুলিশ সুপার জালাল উদ্দিন, সহকারী পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক, পরিদর্শক শাহনেয়াজ, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডির পরিদর্শক গাজী মোহাম্মদ ইব্রাহিম।

সূত্র জানায়, এসময় তদন্তকারী দল ২০ মার্চ রাতে তনুর লাশ সেনানিবাসের যে স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল সে স্থানটি পুনরায় পরিদর্শনসহ ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড বয়েজ স্কুলের এক শিক্ষক ও তনুর বাবা-মার সঙ্গে কথা বলেন।

সিআইডি-কুমিল্লার বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম খান বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, ডিএনএ পরীক্ষায় প্রাপ্ত ৩ ব্যক্তির শুক্রানু নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের মাঝে ইতোমধ্যে অন্তর্দহন শুরু হয়ে গেছে। ৪০ বছর পর বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে, দেশ স্বাধীনের ৪২ বছরে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার হচ্ছে। ডিএনএ’র মাধ্যমে সঠিক বিষয়টি আমরা ওপেন করে দিয়েছি। ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। তনুর হত্যাকারীরা যতই দাম্ভিকতা করুক না কেন বা যতই ক্ষমতাসীন হোক না কেন দেরীতে হলেও একদিন তাদের শাস্তি পেতেই হবে। তবে লোক দেখানো দু-একটা গ্রেফতার করা হলে তা অন্যায় হবে। নিশ্চিত না হয়ে গ্রেফতার করা ঠিক হবে না। আমরা শতভাগ নিশ্চিত হয়েই সামনের দিকে এগুবো। কারণ আমরা অনেক গুমের মামলায় কোনো প্রমাণ পাইনা, লাশ পাই না। কিন্তু ডিএনএ পরীক্ষায় তনুর কাপড়ে তিনজনের শুক্রানু পাওয়া গেছে। তনু হত্যার ঘটনার স্থান একটি স্পর্শকাতর এলাকায়। সেখানে ইচ্ছে মতো সোর্স ব্যবহার করা যায় না। তনুর কাপড়ে পাওয়া তিন পুরুষের ডিএনএ সন্দেহভাজনদের সঙ্গে মেলানোর বিষয়ে বলেন, এবিষয়ে ঢাকা অফিসে আলোচনা চলছে। আদালতের অনুমতি নিয়ে পর্যায়েক্রমে সিভিল থেকে সামরিক সকল সন্দেহভাজনের ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে।

তিনি আরো বলেন, ময়নাতদন্ত চিকিৎসকদের থেকে যে সব সহযোগিতা পাওয়ার কথা ছিলো তা আমরা পাইনি। সহযোগিতা পেলে আমাদের কাজ অনেক সহজ হতো।






মন্তব্য চালু নেই