মেইন ম্যেনু

তরুণ প্রজন্মের ধ্বংসের পেছনে কি মিডিয়া দায়ী?

তরুণ প্রজন্মের মাঝে ক্রমবর্ধমান যৌনতার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অনেকেই। অতীতের তুলনায় তরুণ প্রজন্মের মাঝে বিপথগামীতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আগের তুলনায় এখন অল্পবয়সীরা বেশিমাত্রায় যৌনতায় লিপ্ত হচ্ছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, এর পেছনে দায়ী কারা? কোন প্রণোদনায় তরুণদের মাঝে যৌনতা বৃদ্ধি পেয়েছে? এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।

তরুণদের ক্রমবর্ধমান যৌনতার পেছনে দায়ী কারা, তা নিয়ে সম্প্রতি বেশ আলোচনা তৈরি হয়েছে। অনেকেই মিডিয়াকে দায়ী করছেন এর পেছনে। বিভিন্ন মিডিয়ায় যৌনতা প্রচার করাকেই অনেকে তরুণদের উদ্বুদ্ধ হওয়ার কারণ হিসেবে ধরছেন। বাস্তবে কী এজন্য মিডিয়া দায়ী?

সম্প্রতি তরুণদের ক্রমবর্ধমান যৌনতা নিয়ে ফার্গুসন স্টেটসন ইউনিভার্সিটির গবেষক ক্রিস্টোফার ফার্গুসন অনুসন্ধান করেন। এতে তিনি মিডিয়ার বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে তরুণদের যৌন আচরণের অনুসন্ধান করেন। এতে তিনি যে ফলাফল পেয়েছেন তাতে তরুণদের যৌনতার সঙ্গে মিডিয়ার কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ক্রিস্টোফার ফার্গুসন বলেন, ‘তরুণদের অকালে যৌনতায় লিপ্ত হওয়ার পেছনে মিডিয়ার ভূমিকা নেই কিংবা তাতে যৌন সংস্পর্শ স্বাভাবিক হিসেবেও উঠে আসেনা।’

তরুণদের অকাল যৌনতার বিষয়টি অনুসন্ধানের জন্য ফার্গুসন ২২টি পুরনো গবেষণার ফলাফল বিশ্লেষণ করেন। সেসব গবেষণায় মিডিয়ার বিভিন্ন প্রভাব ও তরুণদের যৌনতার বিষয়টি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এসবে অন্তর্ভুক্ত ছিল গর্ভধারণ, ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণ ও অল্পবয়সে যৌনতায় লিপ্ত হওয়া। এসব গবেষণায় মোট ২২ হাজার অংশগ্রহণকারী ছিল, যাদের বয়স ছিল ১৮ বছরের কম।

গবেষকরা জানিয়েছেন, মিডিয়ার সঙ্গে সাধারণ অর্থে তরুণদের যৌনতার কোনো নির্দিষ্ট সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। একটি অত্যন্ত দুর্বল যোগসূত্র পাওয়া গেছে। এক্ষেত্রে মিডিয়ায় যৌনতার উপস্থিতি তাদের যৌন আচরণকে প্রভাবিত করে, এমনটা বলা যায় না।

তাহলে তরুণদের যৌনতা বৃদ্ধি করতে ভূমিকা রাখছে কী? এ প্রসঙ্গে গবেষক ফার্গুসন বলছেন, বাবা-মায়ের ভূমিকা তরুণদের যৌনতা সম্পর্কে মানসিকতা তৈরি করতে ভূমিকা রাখে। এছাড়া যৌনতায় লিপ্ত হওয়ার বিষয়ে অনেকাংশেই বন্ধু-বান্ধবের প্রভাব থাকে।

গবেষক বলেন, তরুণেরা যেন অল্পবয়সেই যৌনতার মতো ঝুঁকিপূর্ণ আচরণে লিপ্ত না হয় সেজন্য বাবা-মায়ের সচেতন হতে হবে। অল্পবয়স থেকেই তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে সচেতনতা গড়তে হবে। এছাড়া যথাযথ যৌন শিক্ষার মাধ্যমেও বিষয়টি সামাল দেওয়া যায় বলে তিনি মনে করেন।






মন্তব্য চালু নেই