মেইন ম্যেনু

তাদের ছাড়া নাগরিকদের ঈদ চলছে কেমন?

সময় গড়িয়ে তখন দুপুর। বাতাসে ধ্বনিত হচ্ছে জুমার নামাজের আহ্বান। ঠিক তেমন সময়ই আগারগাঁওয়ের এক চায়ের দোকানে বসে কথা হচ্ছিল পোশাক শ্রমিক আজিজুলের সঙ্গে। চায়ের ধোঁয়ার সঙ্গে জমাট আড্ডার এক পর্যায়ে তিনি বলে উঠলেন, ‘শেখ হাসিনা আর খালেদা জিয়া- দুইজনেই দ্যাশের বাইরে। তাই তো ঈদটা জানি কেমন! যাই হোক, একদিক থেকে শান্তিরই। দুই জন থাকলে এক অপরের গাল দিতো, এর চেয়ে না থাকায় সবাই শান্তিতে ঈদ করতে পারছেন।’

আজিজুলের সঙ্গে আলাপ শেষে রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে এ বিষয়ে প্রতিবেদকরা কথা বলেছেন বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষদের সঙ্গে। কারো উত্তর ছিল সরস, কারো আবার গরল। একজন বলে উঠলেন- ‘দুই নেত্রী দেশে থাকলে দাওয়াত দিতাম। মাংস খাওয়াইতাম!’ আরেকজন বললেন, ‘না থাকায় শান্তিতে আছি। দেশে থাকলেই বা কি, না থাকলেই বা কি?’ আরেকজনের উত্তর- ‘থাকলে ভালোই হতো। দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানাতেন। নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করতেন, এতে ভালো লাগত।’

প্রসঙ্গত, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে অংশ নিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে। অন্যদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া রয়েছেন লন্ডনে। এই প্রথম দুই নেত্রীই দেশের বাইরে ঈদ কাটাচ্ছেন। শুধু তা-ই নয় দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতারাও এখন প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়ে যুক্তরাষ্টে অবস্থান করছেন।

সাধারণ পথচারী ফিরোজ খান বলেন, ‘এই দুই নেত্রী ঈদের সময় দেশে নেই তাই খারাপ লাগছে। দেশে থাকলে দুই জনকেই মাংস খাওয়াতাম। দুই জনকেই দাওয়াত দিতাম। একবার গণভবনে গিয়েছিলাম। দাওয়াত খাইছি, খুব মজা লাগছে!’

সাংবাদিক রতন মিয়া বলেন, ‘দুই জনই দেশে থাকলে ভালো হতো। নেতাকর্মীদের সঙ্গে স্বাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করতেন। এতে তারা আনন্দ পেতেন। টেলিভিশনে আমি এটা দেখে মজা পেতাম। দেশের তাদের অনেক ভক্ত আছে, তারাও মজা পেতো। অনেকেরই মন খারাপ দুই নেত্রী দেশে নেই।’

আব্দুল মান্নান শেখ নামে একজন বলেন, ‘শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া দুই জনই দেশের জনপ্রিয় নেত্রী। ওনারা এদেশের ৯০ শতাংশ মানুষের মনে আছেন। তাই এই দুই নেত্রী ঈদের সময় দেশে থাকলে আরো ভালো লাগত।’

সাধারণ নাগরিক আকরাম হোসেনের এতে কিছু আসে যায় না। তিনি বলেন, ‘দুই নেত্রী থাকুক আর না থাকুক আমার কিছু যায় আসে না। তারা আমার ঈদ করে দেবে না। আমার টাকা কামাই করতে হবে। সেই টাকা দিয়ে ঈদ করতে হবে।’

মোশাররফ মনে করেন, দুই নেত্রী দেশের বাইরে আছেন বলেই আজ শান্তিতে ঈদ করতে পারছে মানুষ। তারা দুই জন দেশের বাইরে থাকাই ভালো। ঈদেও একজন আরেক জনের বিরুদ্ধে কথা বলতেন। একে অপেরর বিরুদ্ধে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি করতেন। নাই, তাই ভালোই আছি! বাংলামেইল






মন্তব্য চালু নেই