মেইন ম্যেনু

তদন্তে উচ্চপর্যায়ের কমিটি

‘ইতালির নাগরিক হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত’

ইতালিয়ান নাগরিক তাবেলা সিজারেকে হত্যার ঘটনায় সহকর্মী হেলেন ভেনডার পুলিশ বরাবর লিখিত যে অভিযোগ করেছেন তাতে হত্যার ব্যাপারে কিছু লেখা না থাকলেও মামলার এজাহারে পরিকল্পিত হত্যার কথা বলা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, হত্যাকারীদের খুঁজে বের করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও একই দাবি করেছেন।

গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় গুলশান-২ এর ৯০ নম্বর সড়কে তাবেলা সিজারে জগিং করার সময় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ঘটনাস্থলের পাশে আগে থেকেই মোটরসাইকেলে একজন যুবক বসে ছিলেন। কিছুক্ষণ পর আরো দুই যুবক দৌড়ে আসেন। ওই দুজন মোটর সাইকেলে চড়তেই একজন তাবেলাকে লক্ষ করে গুলি করেন। তিন রাউন্ড গুলি করে মোটর সাইকেলে চড়ে সৌদি দূতাবাসের দিকের রাস্তা দিয়ে পালিয়ে যান দুর্বৃত্তরা।

তাবেলাকে উদ্ধার করে গুলশান ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। রাতেই হাসপাতালে ছুটে যান ভারপ্রাপ্ত আইজিপি মোখলেছুর রহমান, ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়াসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উর্ধতন কর্মকর্তারা। পাশাপাশি রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন তারা।

নিহত ইতালিয়ান নাগরিক নেদারল্যান্ডস ভিত্তিক আইসিসিও নামের একটি এনজিওতে প্রজেক্ট ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন। তিনি এ বছরের মে মাস থেকে ঢাকার গুলশানে একা বাস করতেন। পাশাপাশি তিনি গুলশানে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের সুইমিং শিক্ষক হিসেবেও কাজ করতেন বলে জানা গেছে।

এদিকে সোমবার রাতেই হত্যার দায় স্বীকার করে জঙ্গি সংগঠন আইএস। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তা অস্বীকার করে বলেছেন, দেশে কোনো আইএস জঙ্গি সংগঠনের অস্তিত্ব নেই। তিনি আরো বলেন, ইতালিয়ান নাগরিককে পরিকল্পিতভাবে একটি গোষ্ঠী গুলি করে হত্যা করেছে। তাদের খুঁজে বের করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে, তাদের গ্রেফতার করা হবে।

ইতালিয়ান নাগরিকের লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে ময়না তদন্ত শেষে গুলশান থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান এসআই সাব্বির রহমান। এরপর লাশ কখন কোথায় কিভাবে কার কাছে হস্তান্তর করা হবে তা স্পষ্ট করে বলতে পারেননি তিনি।

হত্যার ঘটনা তদন্তে পুলিশের উচ্চপর্যায়ের কমিটি

রাজধানীর গুলশানে কূটনৈতিক পাড়ায় দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত ইতালির নাগরিক সিজার তাভেল্লা হত্যার ঘটনা তদন্তে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিকে সহায়তার জন্য আবার গঠন করা হয়েছে আরো একটি সহায়ক কমিটি। কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের যুগ্ম-কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম। তদন্ত কমিটিকে সাহায্যের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের বাছাই করা দক্ষ ও চৌকস কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে একটি তদন্ত সহায়তা টিম। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. রেজাউল হায়দার এই টিমের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

ভারপ্রাপ্ত আইজিপি মো. মোখলেসুর রহমানের সভাপতিত্বে মঙ্গলবার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সভায় ভারপ্রাপ্ত আইজিপি বলেন, এ ঘটনাটিকে আমরা একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। ইন্টেলিজেন্স সংগ্রহ, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তদন্তের মাধ্যমে এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন নিশ্চিত করতে হবে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সব পুলিশ ইউনিটকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করতে হবে। রাজধানীর কূটনৈতিক এলাকায় পুলিশের মোতায়েন বাড়ানো হয়েছে। ফুট ও মোটর সাইকেল পেট্রোল, চেক পোস্ট, তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও বিদেশি সংস্থার বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। দেশের নানা সংস্থার মধ্যে সহায়তা এবং সমন্বয় বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সভায় ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া, ডিআইজি (অপরাধ) মো. হেলাল উদ্দিন বদরী, সিআইডির ডিআইজি মোঃ সাইফুল আলম, ডিআইজি (সিটি এসবি) মোঃ মোশাররফ হোসেন ভূঁঞা, ডিআইজি (রাজনৈতিক) মো. মাহবুবুর রহমান, পিবিআইয়ের ডিআইজি ব্যারিস্টার মো. মাহবুবুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সোমবার রাতে সিজার তাভেল্লাকে (৫০) গুলি করে হত্যা করে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা। তার ময়না তদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খুব কাছ থেকে তার শরীরে তিনটি গুলি চালানো হয়। গুলিগুলো ছিল রিভলাবারের।

এদিকে, তাভেল্লা খুনের ঘটনায় মামলা করেছেন তার সহকর্মী হেলেন ভেনদার ভেক। সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে গুলশান থানায় তিনি এ মামলাটি (নং-৬৮) করেন।






মন্তব্য চালু নেই