মেইন ম্যেনু

তামিম-ইমরুল-মাহমুদউল্লাহর ফিফটিতে ২৭৬

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে লড়াকু পুঁজি গড়েছে বাংলাদেশ। তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস ও মাহমুদউল্লাহর ফিফটিতে ৯ উইকেটে ২৭৬ রান করেছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। জয়ের জন্য জিম্বাবুয়ের চাই ২৭৭ রান।

১৪৭ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়া ইমরুল ও তামিম- দুজনের ব্যাট থেকেই রান আসে ৭৩ করে। আর মাহমুদউল্লাহ ৪০ বলে ৫২ রানের ইনিংস খেলেন। এ ছাড়া মুশফিকুর রহিম ২৮ ও লিটন দাস ১৭ রান করেন।

বুধবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। আর ব্যাট করতে নেমে দলকে ভালো সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার ইমরুল কায়েস ও তামিম ইকবাল।

তামিমের চেয়ে বেশি আগ্রাসী ব্যাটিং শুরু করেন প্রথম ম্যাচে ফিফটি করা ইমরুল। ইনিংসের ১১তম ওভারে এল্টন চিগুম্বুরার তৃতীয় বলে ছক্কা হাঁকিয়ে দলের স্কোর ৫৩-এ নিয়ে যান এই বাঁহাতি। এর আগেই অবশ্য আরো দুটি বিশাল ছক্কা হাঁকান ইমরুল।

শুরু থেকেই দারুণ ব্যাটিংয়ে ইমরুল-তামিম দুজনই ফিফটি তুলে নেন। ইনিংসের ২৩তম ওভারে গ্রায়েম ক্রেমারের বলে সিঙ্গেল নিয়ে সিরিজে টানা দ্বিতীয় ফিফটি পূর্ণ করেন ইমরুল। খানিক বাদে সিরিজে নিজের প্রথম ফিফটির স্বাদ নেন তামিম। আর এই দুজনের ফিফটিতে ২৭ ওভারে বিনা উইকেটে ১৩৩ রান তোলে বাংলাদেশ।

তবে ইমরুল আগের ম্যাচের মতো এদিনও ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে রূপান্তর করতে ব্যর্থ হন। রাজার বলে ক্রিজ ছেড়ে বাইরে এসে মারতে গিয়ে রেগিস চাকাবার হাতে স্টাম্পড হন এই বাঁহাতি। ৯৫ বলে ৬টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৭৩ রান করেন ইমরুল। তামিমের সঙ্গে তার ২৯.৩ ওভারের উদ্বোধনী জুটিতে আসে ১৪৭ রান।

এরপর দলীয় ১৭৩ রানে তামিমও ইমরুলের দেখানো পথে হাঁটেন। ক্রেমারের বলে ক্রিজ ছেড়ে উঠে এসে মারতে গিয়ে ওই চাকাভার হাতে তামিমও স্টাম্পড হন। ৯৮ বলে ৭টি চার ও একটি ছক্কায় তামিমও ৭৩ রানই করেন। ইমরুল ও তামিমের পর মুশফিকুর রহিমও স্টাম্পড হন! দলীয় ১৯০ রানে ম্যালকম ওয়ালারের বল মুশফিক (২৮) ক্রিজ ছেড়ে বাইরে এসে মারতে গেলে তাকে স্টাম্পড করেন চাকাবা।

প্রথম দুই ওয়ানডেতে ব্যাট হাতে ব্যর্থ লিটন এদিনও সুযোগ পেয়ে বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। অবশ্য লিটনকে দুর্দান্ত এক ক্যাচেই ফিরিয়েছেন দ্বাদশ খেলোয়াড় হিসেবে ফিল্ডিংয়ে নামা ওয়েলিংটন মাসাকাদজা। ক্রেমারের বলে এক্সট্রা কাভারে শট খেলেছিলেন লিটন। তবে ঝাঁপিয়ে পড়ে দুর্দান্ত এক ক্যাচ দেন মাসাকাদাজা। দলীয় ২২৪ রানে বিদায় নেওয়ার সময় লিটনের ব্যাট থেকে আসে ১৭ রান।

লিটনের বিদায়ের পর ক্রিজে আসা সাব্বির রহমানও দ্রুতই সাজঘরে ফেরেন। পরের ওভারেই লুক জংউইয়ের বলে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্রেমারকে ক্যাচ দেন সাব্বির (১)। জংউইয়ের এই ওভারের শেষ বলে ডাক মেরে বিদায় নেন নাসির হোসেন। ফলে এক পর্যায়ে ৩ উইকেটে ২২২ থেকে দ্রুতই বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ২২৬ রান। ৪ রানেই নেই ৩ উইকেট!

এর আগে সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডেতে টসে হেরে ব্যাটিং করেছিল বাংলাদেশ।

সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ জিতে এরই মধ্যে সিরিজ নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে ১৪৫ রানে জয়ের পর দ্বিতীয় ওয়ানতে ৫৮ রানে জিম্বাবুয়েকে হারায় বাংলাদেশ।

আজ বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের একাদশে কোনো পরিবর্তন আসেনি। দ্বিতীয় ওয়ানডের দল নিয়েই তৃতীয় ওয়ানডেতে মাঠে নামছে দুই দল।

বাংলাদেশ দল: তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস, লিটন কুমার দাস, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহিম, সাব্বির রহমান, নাসির হোসেন, মাশরাফি বিন মুর্তজা, আরাফাত সানী, আল-আমিন হোসেন ও মুস্তাফিজুর রহমান।

জিম্বাবুয়ে দল: চামু চিবাবা, রেগিস চাকাবা, ক্রেইগ আরভিন, শন উইলিয়ামস, এল্টন চিগুম্বুরা, সিকান্দার রাজা, লুক জংউই, ম্যালকম ওয়ালার, গ্রায়েম ক্রেমার, তাউরাও মুজারাবানি ও তিনাশে পানিয়াঙ্গারা।






মন্তব্য চালু নেই