মেইন ম্যেনু

তারকা নয়, এটা আমাদের মুস্তাফিজ

খুব কম সময়ে তারকাখ্যাতি গায়ে লেগেছে তাঁর। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানেই সাধারণ মুস্তফিজ হয়ে উঠেছেন সবার প্রিয় মুস্তাফিজ। প্রথমে পাকিস্তন এরপর ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নিজের প্রতিভার জানান দিয়েছেন সাতক্ষীরার এই ছেলে। এক সময় খেলতেন সাতক্ষীরা জেলার হয়ে, এরপর খেললেন খুলনা বিভাগের হয়ে। আর এখন পুরো বাংলাদেশের নয়নমনি মুস্তাফিজ।

জাতীয় দলের খেলা নেই এই মুহুর্তে। জাতীয় দলের সব তারকাই এখন ওয়ালটন জাতীয় ক্রিকেট লিগের খেলা নিয়ে ব্যাস্ত। নিজের প্রিয় ভেন্যুগুলোর একটি শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে ফিরেছেন মুস্তাফিজ। আজ থেকে শুরু হওয়া জাতীয় লিগে ঢাকা বিভাগের বিপক্ষে খেলছেন মুস্তাফিজ।

গত ছয় মাসে সাধারণ মুস্তাফিজ থেকে হয়ে উঠেছেন তারকা মুস্তাফিজ। অথচ খুলনায় গত দু’দিনে তার ছিটেফোটাও মিললো না মুস্তাফিজকে দেখে। এত পরিবর্তন যেন গায়েই মাখছেন না ছিপছিপে গড়নের ছোট্ট এই ছেলেটা। বুধ ও বৃহস্পতিবার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে খুলনা বিভাগের পুরো অনুশীলনের সময়টা মাতিয়ে রাখলেন এই মুস্তাফিজই। দলের সিনিয়র ক্রিকেটার আর তার মতো তরুণ কেউই যেন তার মজা থেকে রেহাই পাচ্ছে না। অবশ্য বিরক্তও হচ্ছেন না কেউই। এমন মাতিয়ে রাখা দু’একজনকে যে দলে খুবই দরকার।

শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে অনুশীলন শেষে মুস্তাফিজকে ধরা গেলো অনেকটা চেষ্টার পর। না সাক্ষাৎকার দিতে আপত্তি নেই। কিন্তু ছুটি পাচ্ছেন কই। সবাই যে তাকে নিয়েই ব্যস্ত। স্টেডিয়ামে অনুশীলন দেখতে আসা দর্শক, খুলনার ক্ষুদে ক্রিকেটার সবাই একটু কাছ থেকে দেখতে চায় মুস্তাফিজকে। সেলফি আর ছবি তোলার আবদারও অনেকের। এমনকি স্টেডিয়ামের স্টাফরাও নতুন এই হালসেশনের সাথে ছবি তোলার সুযোগটা মিস করতে চাইলেন না। আর কাউকেই হতাশ করলেন না মুস্তাফিজ। অনেকের সাথে ছবি তোলার সময় মুস্তাফিজ এমন মজা করলেন, যেন মনে হলো মুস্তাফিজের আগ্রহটাই বেশি। অবশেষে পাওয়া গেলো মুস্তাফিজকে। খুব অল্প সময়েই কথা বলার সুযোগ হলো। সাক্ষাৎকার দিতে দিতেও মজা করলেন। হঠাৎ করে বসা থেকে মাঠের মধ্যেই শুয়ে পড়লেন। না এটা তারকা মুস্তাফিজ না। এটা আমাদের মুস্তাফিজ। সবার প্রিয় মুস্তাফিজ। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে মুস্তাফিজের অভিষেক হয়েছে প্রায় দু’বছর আগে। অনূর্ধ্ব-১৮ খুলনা বিভাগীয় দলে ভালো করার পরপরই খুলনা বিভাগ জাতীয় লিগের জন্য দলে রেখে দেন তাকেই। দু’ম্যাচ পরেই অভিষেক হয় তার। সেই পথচলা শুরু, এখন তো শুধু এগিয়ে যাওয়ার পালা। তবে কতটা এগোবেন এখনই লক্ষ্য স্থির করেননি। আরও অবাক করার বিষয়, দলে সুযোগ পাওয়া নিয়েই বড় সারল্য উত্তর।

‘আগে তো পরের ম্যাচে সুযোগ পাই। দলে সুযোগ পেলে আমি সেরাটাই দিতে চেষ্টা করবো।’ এমন আশঙ্কা হয়তো যে ক্রিকেটের ব্যাকরণ অতোটা ভালো বোঝেন না তারও নেই। তারকা হয়ে ওঠা মুস্তাফিজকে উপভোগ করেন তো, এবারও ছোট্ট করে উত্তর, ‘ভালো লাগে। তবে আগের ম্যাচে কি করেছি, সেটা নিয়ে আমি ভাবি না, পরের ম্যাচে কি করবো সেটাই আসল বিষয়।’

তবে খুলনায় খেলা নিয়ে আলাদা রোমাঞ্চ আছে মুস্তাফিজের। নিজের বিভাগ বলে কথা। ‘হ্যাঁ, খুলনার হয়ে খেলতে আমার সবসময়ই ভালো লাগে। এখানে আমার প্রিয় বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় আছে। এ ম্যাচে অবশ্যই ভালো করার চেষ্টা থাকবে। ব্যক্তিগত কোন লক্ষ্য নেই। ভালো বল করার চেষ্টা করবো।’

অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে এই ম্যাচে তো আপনার জন্য প্রস্তুতির একটা ভালো সুযোগ। এবারও সেই সারল্যমাখা উত্তর, ‘এখনই তো জানি না, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলবো কি না। তবে সুযোগ পেলে ভালো পারফর্ম করার চেষ্টা থাকবে।’

ক্রিকেটে উঠে আসার গল্পটা এতবার এতজনের কাছে বলেছেন, নতুন করে আবার সেই গল্পটা বলতেই চাইলেন না। বললেন, সেই একই কথাই তো বলবো। তবে বিসিবি’র বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের অবদানের কথা বললেন তিনি। জানান, ‘বিসিবি বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে খেলোয়াড়দের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখে। এটা একজন ক্রিকেটারের জন্য খুব দরকার। আর পেস ফাউন্ডেশন থেকেও আমি অনেকটা সহায়তা পেয়েছি।’

অনুশীলন আর ম্যাচের সময় মুস্তাফিজ যতটা মজা করেন ততটাই সিরিয়াসও। ব্যাপারটার প্রমাণ দিলেন কিছুক্ষণের মধ্যেই, বেশ আয়েশ করেই কথা বলছিলেন। আরও কিছু হয়তো বলতেন। হঠাৎই আজ আর নয় বলে ছুটলেন। পাশেই খুলনার সব ক্রিকেটাররা অনুশীলন শেষ করেই মাঠের মধ্যে গোল হয়ে বসে শারীরিক কসরত করছেন। দৌড়ে যোগ দিলেন তাদের সাথে। না কোন তারকাখ্যাতি মুস্তাফিজ নয়। এটা আমাদেরই মুস্তাফিজ।






মন্তব্য চালু নেই