মেইন ম্যেনু

‘তারেকের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে সরকার রং খেলছে’

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ‘কোনোভাবেই দমন করতে না পেরে’ সরকার তার বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা মামলায়’ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করছে বলে অভিযোগ করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, ‘তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের বিচিত্র কোনো ঘটনা নয়। তার বিরুদ্ধে যে কত মামলা আর কত গ্রেফতারি পরোয়ানা এর হিসাব রাখা মুশকিল।

‘তাস খেলায় একটি কথা প্রচলিত আছে, আর কিছু না খেলার থাকলে রং খেলে দাও। এই সরকারের হয়তো তেমন অবস্থা হয়েছে। তাকে (তারেক রহমান) কোনো ভাবেই দমন করতে না পেরে মিথ্যা মামলা আর পরোয়ানা জারি করছে।’

সরকার তারেক রহমানকে বিভিন্ন কায়দায় আটকানোর চেষ্টা করছে বলেও দাবি করেন বিএনপির এই নেতা।

আওয়ামী লীগের প্রতি ইঙ্গিত করে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘তারেক রহমানকে যদি আটকানো না যায় বিএনপি এতো বেশি শক্তিশালী হবে যে আর মোকাবেলা করা যাবে না। সেজন্য আপনাদের পছন্দের সরকার (ফখরুদ্দিন-মঈনুদ্দিন সরকার) দিয়ে তাকে হত্যার চেষ্টা করেছেন। আল্লাহর রহমাতে তিনি জানে বেঁচে গেছেন।’

‘তারেক রহমান আদালতের অনুমতি নিয়ে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে গেছেন। তার চিকিৎসা চলছে। আপনাদের এই মামলা, গ্রেফতারি পরোয়ানা তাকে ঠেকাতে পারবে না। বীরের বেশেই দেশে ফিরবেন তিনি’, বলেন নজরুল ইসলাম।

তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে জাতীয়তাবাদী যুবদল এ সভার আয়োজন করে।

‘সরকার তারেক রহমানকে ভয় পায়’ মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘ঢাকা ময়মনসিংহ হাইওয়ের পশ্চিম পাশে গ্রামের একটি স্থানের মোড়কে ভালোবেসে সেখানকার মানুষ তারেক রহমান মোড় বলে ডাকে। গত আন্দোলনের সময়ে সেখানে একটি কে বা কারা একটি গাড়ি পুড়িয়েছে। এতে তারেক রহমানকে আসামি করে মামলা দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এভাবে অসংখ্য মিথ্যা মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে।’

২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় তারেক রহমানকে উদ্দেশ্যমুলকভাবে জড়ানো হয়েছে উল্লেখ করে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এই মামলায় কখনো তার নাম আসেনি। বারবার চার্জশিট হয়, কিন্তু চার্জশিট গ্রহনযোগ্য হয় না। পরে একজন অবসর নেওয়া পুলিশ কর্মকর্তা যে আওয়ামী লীগের নির্বাচন করার জন্য তার এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছিলেন, তাকে ফিরিয়ে এনে উচ্চতর পদে বসিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হলো। তিনি একজন বন্দি আসামীকে ১৬৪ দিতে বাধ্য করলেন। একটি স্বীকাররোক্তিমুলক জবানবন্দি এবং সেখানে তারেক রহমানকে আসামি করা হলো। যখন এটি করা হলো তখন চার্জশিট গ্রহনযোগ্য হলো।’

দুই মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের সাত বছর এবং এক-এগারোর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুই বছরে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেন বিএনপির এই নেতা।

তিনি বলেন, ‘তার (তারেক রহমান) বিরুদ্ধে এতোদিন দুর্নীতি, দুর্নীতি আর দুর্নীতি মামলা হয়েছে। নয় বছরেও দুর্নীতি মামলা প্রমাণ করতে পারেনি। কারণ তারেক রহমান দুর্নীতি করেনি। দুর্নীতির মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত, বানোয়াট। তাকে হেয় কারার চেষ্টা। কারণ একটিই, খালেদা জিয়াকে ক্ষমতাসীনরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা মনে করেন। আর তার অনুপস্থিতিতে মুল প্রতিদ্বন্দ্বি হবে তারেক রহমান।’

তিনি বলেন, ‘রাজনীতিতে কোনো কোনো প্রতিবাদ আপনার পছন্দ হবে না। অনেক ক্ষেত্রে প্রতিবাদ সঠিকও নাও হতে পারে। কিন্তু রাজনীতির নিয়ম হলো কেউ সমালোচনা করলে বক্তব্য দিয়ে তার জবাব দেওয়া। কেউ ১০ হাজার লোকের মিছিল দিলে ২০ হাজার লোক দিয়ে মিছিল করে তার জবাব দেওয়া। কেউ পত্রিকায় লিখলে লিখে তার প্রতিবাদ দেওয়া।’

৭ নভেম্বর নিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তিনি বলেছেন, কর্নেল তাহের নায়ক আর জিয়া খলনায়ক। কে নায়ক, কে খলনায়ক- দেশের মানুষ জানে না? ক্যান্টমেন্টে সৈনিকরা কাকে মাথায় করে নেচেছিলো? জিয়াউর রহমানকে না তাহের সাহেবকে। জিয়াউর রহমানকে। কার নামে স্লোগান দিয়েছে। জিয়াউর রহমানের নামে।’

সরকার যুবদলসহ বিএনপির নেতাদের নামে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের আত্মগোপণে থাকতে বাধ্য করছে বলেও অভিযোগ করেন নজরুল ইসলাম।

যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের সভাপতিত্বে সংগঠনের নেতাদের মধ্যে আবদুস সালাম আজাদ, সাইফুল ইসলাম পটু, আবদুল খালেক, সেলিমুজ্জামান সেলিম, আ ক ম মোজাম্মেল হক, অমেলেন্দু দাস, স্বেচ্ছাসেবক দলের দফতর সম্পাদক আক্তারুজ্জামান বাচ্চু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।






মন্তব্য চালু নেই