মেইন ম্যেনু

তালগোল পাকিয়ে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের হার

শুরুটা ভালোই ছিল বাংলাদেশের। ২ উইকেটে ১০৫ রান। এরপর হঠাৎ করে ছন্দপতন টাইগারদের। স্কোর বোর্ডে পরের ৩৬ রান যোগ করতে পাঁচ ব্যাটসম্যান প্যাভিলিয়নে। বলের গুণাগুণ বিবেচনা না করে অহেতুক শর্ট খেলা, রান নিতে গিয়ে ভুল বুঝাবুঝি আর ফিল্ডারের হাতে সহজ ক্যাচ তুলে দেয়া ছাড়া বাংলাদেশ ইনিংসে উল্লেখ করার মতো তেমন কিছু চোখে পড়েনি। শেষমেশ তালগোল পাকিয়ে কিউইদের কাছে ৬৭ রানে হারল মাশরাফিরা।

লক্ষ্য ২৫২। আগের ম্যাচের থেকে অনেক কম। যে কারণে জয়ের আশাও ছিল উজ্জ্বল। কিন্তু সে আর হলো কোথায়। শুরুতে ঝলক দেখিয়ে শেষটা হল মলিনভাবে। দলীয় ৩০ রানের মাথায় ড্যান্সিং ডাউন দ্যা উইকেটে এসে বড় শর্ট খেলতে গিয়ে মিড অফে টিম সাউদির হাতে ধরা পড়েন তামিম ইকবাল। আউট হওয়ার আগে ৩ চারে ২৩ বলে ১৬ রান করেন তামিম। তামিমকে হারানোর পরও আশা জিইয়ে রাখেন সাব্বির আর ইমরুল। দেখে-শুনে ব্যাটিং করে ধীরে ধীরে এগোতে থাকেন কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যের দিকে। কিন্তু ব্যক্তিগত ৩৮ করে নাটকীয় রান আউটে কাটা পড়ে বিদায় নেন সাব্বির রহমান।

এরপর রানের খাতা খুলেই সাজঘরে ফিরলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (১)। দলের প্রয়োজনে ভরসার প্রদীপ হয়ে দাঁড়াতে পারেননি সাকিব আল হাসানও। ফিরে গেছেন ৭ রান করে। পরপর তিন উইকেট হারানো বাংলাদেশকে কিছু সময় স্বস্তি দেন ইমরুল। একপ্রান্ত আগলে রেখে তুলে নেন নিজের ১৩তম অর্ধশতক। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি তাঁরও। ব্যক্তিগত ৫৯ রান করে তিনিও পা রাখেন সাজঘরের আঙিনায়।

বাকি কাজটা আরও কঠিন করে দেন কিউই দলনেতা কেন উইলিয়ামসন। ৩০তম ওভারের চতুর্থ বলে নীশামের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন আগের ম্যাচের হাফ-সেঞ্চুরিয়ান মোসাদ্দেক। প্রায় হারের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। এমন বিপদে সুবিধা করতে পারেননি অভিষিক্ত ক্রিকেটার তানভীর হায়দারও। ২ রান করে আউট হয়েছেন তিনি।

সাত ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশ তখনও তাকিয়ে মাশরাফি ও সোহানের দিকে। কিন্তু হতাশ করলেন তারা। ২৪ রান করে বিদায় নেন সোহান। আর খানিকটা লড়াই শেষে ফিরে যান মাশরাফিও। দ্রুত রান তুলতে গিয়ে বোল্টের বলে উইলিয়ামসনের হাতে ক্যাচ তুলে দেন টাইগার দলনেতা। মাঠ ছাড়ার আগে ১৯ বলে ২ চার ১ ছয়ে ১৭ রান করেছেন মাশরাফি।

এর আগে টস জিতে বল হাতে শুরুতেই চমক দেখান দলনেতা মাশরাফি বিন মর্তুজা। মারটিন গাপটিলকে শূন্য রানে বিদায় করেন ম্যাশ। এরপর সাকিবের ঘূর্ণি সামলাতে বেশ হিমশিম খেতে হয় কিউই ব্যাটসম্যানদের। ১০ ওভার বল করে ৪৫ রান খরচায় ২টি উইকেট তুলে নেন সাকিব। মূলত নিউজিল্যান্ডরে টুটি চেপে ধরার কাজটি করেছেন মাশরাফি। তাঁকে সঙ্গ দিয়েছেন তাসকিন। ৪৫ রান দিয়ে শিকার করেছেন ২টি উইকেট। বিপদজনক হয়ে ওঠার আগের কলিন্স মুনরোকে সরাসরি বোল্ড আর বাংলাদেশের ‘দুর্বলতা খুঁজে পাওয়া’ ফারগুসনকে ৪ রানে সাজঘরে পাঠান। পাঁচ নম্বর ব্যাটসম্যান জেমস নীশামকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে ব্রেক থ্রু এনে দেন মোসাদ্দেক।

নেলসনে মুশফিক-মোস্তাফিজের মতো নির্ভরযোগ্য দুই তারকাকে ছাড়াই মাঠে নামে বাংলাদেশ। তারপরও খারাপ করেননি বাংলাদেশ। বেশ আঁটসাঁট বোলিং করেছে মাশরাফিরা। শেষমেশ নেইল ব্রুমের অপরাজিত ১০৯ রানে ভর করে ২৫১ রান সংগ্রহ করে ব্ল্যাক ক্যাপসরা। ১০৯ রানের অপরাজিত ইনিংসের সুবাদে ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হয়েছেন নেইল ব্রুম। আজকের ম্যাচে বাংলাদেশ দলে অভিষেক হয়েছে তিন ক্রিকেটারের। মুশফিকুর রহিমের জায়গায় নুরুল হাসান। মোস্তাফিজুর রহমান ও সৌম্য সরকারের পরিবর্তে অভিষেক হয়েছে পেসার শুভাশিষ ও লেগ স্পিনার তানভীরের।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

নিউজিল্যান্ড: ৫০ ওভারে ২৫১ (গাপটিল ০, ল্যাথাম ২২, উইলিয়ামসন ১৪, ব্রুম ১০৯*, নিশাম ২৮, মানরো ৩, রনকি ৩৫, স্যান্টনার ৯, সাউদি ২, ফার্গুসন ৪, বোল্ট ১২ ; মাশরাফি ৩/৪৯, শুভাশীষ ১/৪৫, তাসকিন ২/৪৫, সাকিব ২/৪৭, তানবীর ০/৪৭, মোসাদ্দেক ১/১২)

বাংলাদেশ: ৪২.৪ ওভার ১৮৪ (তামিম ১৬, ইমরুল ৫৯, সাব্বির ৩৮, মাহমুদউল্লাহ ১, সাকিব ৭, মোসাদ্দেক ৩, তানভীর ২, নুরুল ২৪, মাশরাফি ১৭, তাসকিন ০, শুভাষিস ১*; বোল্ট ২/২৬, সাউদি ২/৩৩, ফারগুসন ১/৫৩, সান্তার ১/২০, উইলিয়ামসন ৩/২২)

ফল: নিউজিল্যান্ড ৬৭ রানে জয়ী

ম্যাচ সেরা: নেইল ব্রুম (নিউজিল্যান্ড)

সিরিজ: নিউজিল্যান্ডের ২ জয় (৩ ম্যাচ)






মন্তব্য চালু নেই