মেইন ম্যেনু

তাসকিন ইস্যুতে প্রতিবাদ জানাবে বিসিবি

আবারো ১৯ মার্চ, আবারো দু:স্বপ্নের একটি দিন পার করলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ১৯ মার্চই আম্পায়ারদের বিতর্কিত ‘নো বল’ সিদ্ধান্তের বলি দিতে হয়েছিল মাশরাফি বাহিনীর বিশ্বকাপ স্বপ্ন। এবার আইসিসির সিদ্ধান্তের বলি দিতে হলো তাসকিন আহমেদ এবং আরাফাত সানিকেও।

অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের দায়ে বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে গেলেন বাংলাদেশের এই দুই সেরা বোলার। আরাফাত সানির অ্যাকশনকে অবৈধ ঘোষণা সবাই মেনে নিলেও তাসকিন আহমেদের অ্যাকশনকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না এ দেশের ক্রিকেটপ্রেমরী। সবারই প্রশ্ন, আসলেই কি তাসকিনের অ্যাকশন অবৈধ? সেই প্রশ্ন এখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডেরও (বিসিবি)।

আইসিসি জানিয়েছে, কোনো কোনো ডেলিভারিতে তাসকিনের কনুইও ১৫ ডিগ্রির বেশি বেঁকে যায়। সানির সঙ্গে তাই তিনিও বোলিং থেকে নিষিদ্ধ। তবে চেন্নাইয়ের রামাচন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগারে তাসকিনের বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষায় যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে, প্রশ্ন উঠেছে সেটির বৈধতা নিয়েই।

গত ১৫ মার্চের পরীক্ষায় মাত্র ৩-৪ মিনিটের মধ্যে তাসকিনকে ৮-৯টি বাউন্সার দিতে বলা হয়। এর মধ্যে তিনটি বাউন্সারে অবৈধ অ্যাকশন ধরা পড়েছে। এত অল্প সময়ে অতগুলো বাউন্সার দিতে হলে এ রকম হওয়াটা অস্বাভাবিকও নয়। মূলত এই পরীক্ষার ফলের ওপর ভিত্তি করেই তাসকিনের বোলিং নিষিদ্ধ ঘোষণা করে আইসিসি। কিন্তু নিয়ম হলো, ম্যাচের যে ডেলিভারিতে অ্যাকশন সন্দেহজনক মনে হয়েছে, পরীক্ষায় সেটাই করতে বলা হবে বোলারকে। সে অনুযায়ী পরীক্ষায় তাসকিনকে বাউন্সার দিতে বলার কথা নয়।

অথচ নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচের দিন তাসকিন কোনো বাউন্সারই দেননি! বাউন্সারে তার অ্যাকশন নিয়ে সন্দেহ ওঠারও তাই কোনো অবকাশ ছিল না ওই ম্যাচে। এ ছাড়া আইসিসির সিদ্ধান্তে আরেকটি নিয়মেরও ব্যত্যয় ঘটার অভিযোগ আছে। ‘স্টক ডেলিভারি’ ছাড়া অন্য কোনো ডেলিভারিতে কনুই ১৫ ডিগ্রির বেশি বাঁকা হলেও আইসিসি কোনো বোলারের বোলিং নিষিদ্ধ করতে পারে না বলে জানিয়েছে বিসিবির সংশ্লিষ্ট সূত্র। শুধু ভবিষ্যতের জন্য সতর্কই করতে পারে। আর এসব কারণে বিসিবি এখন আইনি পথে হাঁটার চিন্তা-ভাবনা শুরু করেছে।

বিশেষ করে নেদারল্যান্ডসের ম্যাচের ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এসব বিষয়ে আরো নিশ্চিত হন কোচ চন্ডিকা হাথুররুসিংহে। তাসকিনের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর তার পরামর্শেই আইনজীবীদের শরণাপন্ন হয় বিসিবি। আম্পায়ারদের আনা অভিযোগ, রামাচন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগারে হওয়া তাসকিনের বোলিং অ্যাকশন পরীক্ষা এবং আইসিসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের যথার্থতা বিবেচনা করে দেখছেন আইনজীবীরা।

এ ব্যাপারে বিসিবির আইনি পরামর্শক সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মুস্তাফিজুর রহমান খান বলেন, ‘তাসকিনের বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষায় প্রক্রিয়াগত কিছু ত্রুটি আছে। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী এ ধরনের পরীক্ষায় প্রক্রিয়াগত ত্রুটি থাকলে সংশ্লিষ্ট বোর্ড রিভিউ চাইতে পারে। আমি মনে করি বিসিবিরও রিভিউ চাওয়া উচিত।’

বিসিবি এখন সেই পথেই হাঁটার চিন্তা করছে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বোর্ড কর্মকর্তা, ‘আমরা তাসকিনের অ্যাকশন পরীক্ষার যাবতীয় কাগজপত্র আমাদের আইনজীবীদের দিয়েছি। তারা সেসব বিশ্লেষণ করে দেখছেন। আইনজীবীদের মতামত নিয়ে প্রয়োজনে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমরা আইসিসিতে প্রতিবাদ জানাব।’

একই ধরনের ইঙ্গিত দিলেন বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুজন। তাসকিনের এই সিদ্ধান্তের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত আমাদের কাছে বিস্ময়কর। আমরা আইসিসির নিয়মকানুন বিশ্লেষণ করে দেখছি। যদি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার কোনো সুযোগ থাকে। তাহলে আমরা বোর্ডের সবার মতামত নিয়ে সে ব্যাপারে আইসিসির দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করব।’






মন্তব্য চালু নেই