মেইন ম্যেনু

তিনতলা ভবনে পাঁচটি হাসপাতাল!

রংপুরের চেকপোস্ট এলাকার মেডিক্যাল মোড়ে তিনতলার একটি ভবনে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ মোট পাঁচটি হাসপাতাল রয়েছে। এ যেন শুধু হাসপাতাল নয়, হাসপাতালের মার্কেট। এ ছাড়া শহরের অলিগলিতে পানের দোকানের মতো অনেক হাসপাতাল আর ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন মেডিক্যাল কমপ্লেক্স নামের তিনতলাবিশিষ্ট ভবনের মালিক এস এম ওবায়দুল হক। যার এই ভবনের নিচতলায় দি ল্যাবরেটরি নামে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে।

ওবায়দুল হক এখানকার ল্যাব ইনচার্জও। যিনি রংপুর মেডিক্যাল কলেজে মেডিক্যাল প্যাথলজিস্ট হিসেবে আগে কাজ করতেন। এই ভবনের একটি নির্দিষ্ট কক্ষে তার চেম্বার রয়েছে। যেখানে তিনি রোগী দেখেন। প্রেসক্রিপশন লেখেন। পাশাপাশি রোগীর কী কী টেস্ট করাতে হবে তাও লিখে দেন।

সরেজমিন ওই ভবনে গেলে কথা হয় ওবায়দুল হকের সঙ্গে। তার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আরো পাঁচজন ডাক্তার রয়েছে বলে জানান। তবে সে সময় চেম্বারে কোনো ডাক্তারকে দেখা যায়নি।

gsge

ওবায়দুল হক : ল্যাব ইনচার্জ হয়েও রোগী দেখেন

ওবায়দুল হক বলেন, আমি কোনো ডাক্তার না, তবে আমার তিন ছেলেমেয়ে ডাক্তার। আমি মাঝেমধ্যে এলাকার পরিচিত রোগীকে দেখি এবং প্রেসক্রিপশনে লিখে দিই টেস্টের ওপর ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ছাড় নিতে। তবে এটা অন্যায় বলেও স্বীকার করেন ওবায়দুল হক।

ওবায়দুল হকের তত্ত্বাবধানে ফিরোজা বেগম নামের একজন রোগী এখানে নিয়মিত চিকিৎসা নিতে আসেন। যার হাঁটুতে ব্যথা। ব্যথার জন্য কোনো অর্থোপেডিক্স ডাক্তারের কাছে না গিয়ে ওবায়দুল হকের কাছে চিকিৎসা নিতে কেন এসেছেন জানতে চাইলে রোগীর ছেলে রাজ্জাকুল ইসলাম বলেন, ‘উনি আমাদের পরিচিত ডাক্তার। এ ছাড়া অন্য জায়গায় চিকিৎসা করে এখন নিঃস্ব। তিনি বলেছেন, এখানে আসলে অল্প খরচে চিকিৎসা করিয়ে দেবেন।’

ওবায়দুল হক এখানে অবস্থিত অন্য হাসপাতালগুলো ভাড়া দিয়েছেন। তিনি বলেন, এখানে হাসপাতালগুলো যারা ভাড়া নিয়েছেন তারা সবাই ডাক্তার। তবে গত এক মাস আগে শাহজাহান বসুনিয়া নামের এখানকার একজন ডাক্তারকে রোগীর ভুল চিকিৎসার কারণে অনেক হেনস্তা হতে হয়েছে। ওই ডাক্তার রোগীর অপারেশন করলে রোগীর পেটে সুই থেকে যায়। পরে ম্যাজিস্ট্রেট এসে ওই ডাক্তারকে খুঁজে না পেয়ে তাকে গ্রেফতার করতে চেয়েছিল বলে জানান ওবায়দুল।

heda

হাসপাতালের কেবিনগুলোর ভেতরের অবস্থা

এই ভবনের অন্য হাসপাতালগুলো হচ্ছে- আল মদিনা জেনারেল হাসপাতাল, ন্যাশনাল কমিউনিটি হাসপাতাল, সমতা ক্লিনিক ও মিনা ডেন্টাল আর্চ কেয়ার।

এবার এই হাসপাতালগুলোর চিকিৎসাব্যবস্থা এবং ডাক্তারদের অবস্থা দেখার পালা।

আল মদিনা হাসপাতালে জেনারেল হাসপাতালের মালিক আবু সাইদ। যিনি আগে ঢাকাতে ঠিকাদারি ব্যবসা করতেন। এক বছর ধরে হাসপাতাল ব্যবসায় নেমেছেন। তবে হাসপাতালে গিয়ে তাকে ছাড়া অন্য কোনো ডাক্তারকে দেখা যায়নি। এ ছাড়া হাপাতালের কেবিন ও বেডগুলো খুব সংকীর্ণ। অথচ আইনে বলা আছে, প্রতিটি রোগীর জন্য ৮-১০ ফুট জায়গা প্রয়োজন।

এ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি বলব না আমার ভুল নেই, আমার ভুল রয়েছে। কারণ আমি রোগী অনুপাতে হাসপাতালে থাকার ব্যবস্থা করে দিতে পারছি না।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমার হাসপাতালের পার্টনার আমার এক বন্ধুর স্ত্রী। যিনি ডাক্তার হলেও এখন হাসপাতালে নেই।’ তবে তার হাসপাতালের তিনজন ডাক্তার আছে বলে জানান আবু সাইদ। এ ছাড়া হাসপাতালে পাঁচটি কেবিন ও পাঁচটি বেড রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ন্যাশনাল কমিউনিটি হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, স্যাঁতসেঁতে জায়গায় চলছে চিকিৎসাসেবা। হাসপাতালের মালিক ও ডাক্তার চিকিৎসায় ব্যস্ত থাকায় তাদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

সমতা হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, এখানে রোগী থাকলেও নেই কোনো ডাক্তার ও নার্স। যেখানে চিকিৎসা চলছে ওটি ইনচার্জ দিয়ে। এখানে এসে ভয়ংকর আরেকটি তথ্য পাওয়া গেল। এই হাসপাতালের মালিক নাকি ডাক্তার শাহজাহান বসুনিয়া। যার অপারেশনের পর রোগীর পেটে সুই আটকে গিয়েছিল।

অপারেশন থিয়েটার ইনচার্জ কিসমত আরা জানান, তাদের ১২ বেডের হাসপাতালে পাঁচটি কেবিন রয়েছে। এখানে ছয়জন নার্স এবং তিনজন ডাক্তার রয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘একজন ডাক্তার ছিলেন। তবে এখন তার কাজে নিচে গেছেন আর একজন নার্স এতক্ষণ ছিল এখন তাকে খুঁজে পাচ্ছি না।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রংপুর বিভাগের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক মোজাম্মেল হক বলেন, এই ভবনটির ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং হাসপাতালগুলোর রেজিস্ট্রেশন আছে কি না খতিয়ে দেখতে হবে। যদি রেজিস্ট্রেশন না থাকে তাহলে তা বন্ধ করে দেওয়া হবে।

এ ছাড়া ভবনটি কত বড় অথবা চারটি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার করার মতো পর্যাপ্ত জায়গা আছে কি না তাও দেখা হবে। চিকিৎসাব্যবস্থা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে।

তিনি আরো বলেন, ল্যাব ইনচার্জ ওবায়দুল হক তিনি কোনো ডাক্তার না। ডাক্তার না হয়ে তিনি কোনো রোগী দেখতে পারেন না এবং রোগী কোন টেস্ট করবে তাও বলতে পারেন না। রাইজিংবিডি






মন্তব্য চালু নেই