মেইন ম্যেনু

তিন যুগ পর ইরান থেকে ফিরল রাউজানে রাজা মিয়া

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়ের বাসিন্দা দীর্ঘ তিন যুগ পর ইরান থেকে নিজ বাড়ী রাউজানে ফিরল মোঃ রাজা মিয়া (৫৩)। জানা যায়, দুই মাস বয়সে মারা জান রাজা মিয়ার বাবা দুলা মিয়া, আড়াই বছর বয়সে মারা জান মাতা ছাবা খাতুন। নিজ বাড়ী রাউজান উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের হলদিয়া গ্রামের ফজুর বাড়ী থেকে তাকে এনে লালন পালন করেন গর্জনীয়া হেদায়ত আলী তালূকদার বাড়ীতে তার বড় বোন।

সেখানে ৭ বছর বয়স পর্যন্ত রাজা মিয়াকে লালন পালন করে তার বোন। সেখান থেকে তাকে নিয়ে যান উত্তর চট্টগ্রামের বিশিষ্ট অলিয়ে কামেল ও গর্জনীয়া ফাজিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব আল্লামা সৈয়দ আবদুল আবদুল গফুর মাষ্টারের বাড়ীতে। সেখানে তাকে খুব আদর যতে লালন পালন করেন হুজুর ও হুজুরের স্ত্রী। তখন সেখানে রফিক ও হাশেম নামে দুই জন লালিত পালিত হচ্ছিল। সেখানে রাজা মিয়া হুজুরের সহযোগিতায় হযরত এয়াছিন শাহ পাবলিক স্কুলে নবম শ্রেণী পর্যন্ত লেখা পড়া করে।

পরবর্তীতে ১৯৭৯ ইংরেজী ২২ শে নভেম্বর সেই ঢাকা হয়ে পাকিস্তানে চলে যান। সেখানে আড়াই বছর অবস্থান করে সেখান থেকে ১৯৮২ সালে ব্ল্যাকে বেলুস্তান বর্ডার দিয়ে ইরানে চলে যান। সেখানে ইরানের বড় শহর ¯পানে একটি টেক্সটাইল সুতার ফ্যাক্টরীতে কাজ শুরু করেন। সেখানে কাজ করতে করতে সেই একদম বাংলাদেশের কথা ভুলে যায়। ভাষাও তার মনে ছিল না আর। ফার্সী ভাষায় কথা বলতে হয় তাকে। মাঝ পথে একটু রোগা গ্রস্থ হলে সে বাংলাদেশে চলে আসার জন্য চিন্তা করে।

একটু ভাল হলে আবারও তার মন সেখানে ঢেকে বসে। তার আসা হয়নি। হঠাৎ চলতি বছরের মার্চ মাসে তার জন্ম ভূমির জন্য তার মন উঠে পড়ে লাগে। একদিকে ভিসা ছাড়া অন্যদিকে বাড়ীর সাথে তার কোন যোগাযোগ ছিল না। এক ভাই তার ছিল সেও মারা গেছে। একে বারে দুই বোন ছাড়া তার খবর নিবে এমন লোকই ছিল না। সেই মনস্থ করল বাংলাদেশে এসে সংসারে হাল ধরবে। সেই ভিসা ছাড়া হওয়ায় ইরান এমবাসিতে আবেদন করেন বাংলাদেশে আসার জন্য। সেই সুবাদে সমস্ত কাগজ পত্র ঠিক করে চলতি বছরের মে মাসের ১২ তারিখ কাতার ইয়ার লাইন্সে ইরান থেকে সেই বাংলাদেশে আসে।

সেই জানান আমার এখানে সব কিছু উল্টা পাল্টা লাগছে। ইরান দেশটা খুব সুন্দর। ইরান ফল ফ্রুটের জন্য সেরা। রাস্তার ধারে একটি বালুও পাওয়া যাবে না। পরিস্কার পরিচ্ছন্ন। এই খানে সব কিছু আমার বেমানন বেমানন লাগছে। এই দিকে গর্জনীয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ শাহাজাদা সৈয়দ আহসান হাবিব জানান রাজা মিয়াকে পেয়ে আমি খুব আনন্দ বোধ করছি। সেই খুব ভাল ছেলে ছিল। আমার আব্বা তাকে লেখা পড়া শিখিয়েছে।

এই দিকে সে বাড়ী পৌছানো পর অধ্যক্ষ আহসান হাবীব ও আবদুর রাজ্জাক সেকান্দর তাকে বিবাহ করানোর উদ্দেগ নেই। আর এই বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার তারিখটি হচ্ছে ১৮ই জুন ২০১৫। এখই ইউনিয়নের উত্তর সর্তার নুরুল ইসলামের কন্যার সাথে তার বিবাহ অনুষ্ঠান হবে বৃহ¯পতিবার। ৫৩ বছর বয়সী রাজা মিয়ার সুন্দর যুগল জীবন আশা করছে এলাকাবাসী।






মন্তব্য চালু নেই