মেইন ম্যেনু

তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষরের সময় জানতে চাইবে বাংলাদেশ

অভিন্ন নদী সংযোগ, তিস্তার পানির নায্য হিস্যা এবং নৌপথে চোরাচালান রোধে বাংলাদেশ-ভারত নৌ-সচিব পর্যায়ের বৈঠক আগামী ১৬-১৮ নভেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে। নৌ পরিবহন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

বাংলাদেশের ১২ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব শফিক আলম মেহেদী। প্রতিনিধিদল ১৪ নভেম্বর বিকেলে নয়াদিল্লির উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবে।

ভারতের বর্তমান মোদি সরকার তিস্তা চুক্তির বিষয়ে আগ্রহী হলেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির আপত্তির কারণে এটি এখনো সই হয়নি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরে তিস্তার পানিবন্টন চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি থাকলে শেষ মুহুর্তে মমতার কারণে তা ভেস্তে যায়।

২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের পূর্ব মুহূর্তে তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষরের বিরোধিতা করে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীর তালিকা থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেন মমতা। ফলে তিস্তার পানির ভাগাভাগির ফর্মুলা চূড়ান্ত হওয়ার পরও চুক্তিটি সই হতে পারেনি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, এবারের নৌ সচিব পর্যায়ের বৈঠকে তিস্তা চুক্তি কবে নাগাদ স্বাক্ষরের সম্ভবনা রয়েছে সে বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হবে। নৌ সচিবের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক সুব্রত রায় মৈত্র, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নাসির আরিফ মাহমুদ, মংলা বন্দরের সদস্য (অপারেশনাল) মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন, আইন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব সাঈদ আহমেদ, সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ও জাহাজ জরিপকারক ফখরুল ইসলাম, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালক মো. মনোয়ার হোসেন, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. সাইফুল ইসলাম, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য সুলতান মো. ইকবাল, চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল ম্যানেজার এনামুল করিম, বিআইডব্লিউটিএ-এর পরিচালক মো. শফিকুল হক এবং গালফ অরিয়েন্ট সিউজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মাহফুজ হামিদ।

বৈঠকে তিস্তার পাশাপাশি প্রটোকল অন ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রানজিট অ্যান্ড ট্রেডের (পিআইডব্লিউটিটি) আওতায় বাংলাদেশ-ভারত নৌ-প্রটোকল রুটে আশুগঞ্জ নৌবন্দরকে ট্রান্সশিপমেন্ট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করে ট্রানজিট সংক্রান্ত সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ, কোস্টাল শিপিং চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) স্বাক্ষর, নৌ-প্রটোকল রুটের নাব্যতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহায়তায় বাংলাদেশ, ভারত ও ভূটানের আর্থিক দায়-দায়িত্ব ও করণীয়, চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহার সংক্রান্ত প্রটোকল অনুস্বাক্ষর এবং বাংলাদেশে ও ভারতের মধ্যে যাত্রী ও পর্যটকবাহী নৌ-যান চলাচল সংক্রান্ত খসড়া সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।






মন্তব্য চালু নেই