মেইন ম্যেনু

তুরাগ তীরে লাখো মুসল্লি, আম বয়ানে ইজতেমা শুরু

আম বয়ানের মধ্য দিয়ে আজ শুক্রবার ফজর নামাজের পর বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু হয়েছে।ইজতেমাকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। জুম্মার নামাজ আদায় করার জন্য সকাল থেকে শত শত সুসল্লি ইজতেমা ময়দানে জড়ো হতে শুরু করেছেন।

দেশ বিদেশের কয়েক লাখ মুসল্লি এরই মধ্যে তুরাগের তীরে জড়ো হয়েছে।সকাল থেকেই চলছে মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বয়ান।দূর দূরান্ত ছাড়াও আশপাশের লোকজন জুম্মার নামাজ আদায় করার জন্য জড়ো হয়েছেন।

ইজতেমার মূল প্যান্ডেল ছাপিয়ে এরই মধ্যে আশপাশের জায়গাগুলোও কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে।বেলা ১২টার পর গাজীপুরগামী সড়কটি বন্ধ করে দেয়া হবে মুসল্লিদের নামাজ আদায় করার জন্য।

মুসল্লিদের থাকা খাওয়া ওজু গোসলের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রতিদিনি সাড়ে তিন কোটি লিটার পানি ইজতেমা ময়দানে সরবরাহ করা হয়েছে। র‌্যাব ও পুলিশের টহল চলছে।

আজ সকালে র‌্যাবের পক্ষ থেকে ইজতেমা ময়দানে এক ব্রিফ করা হয়। এতে র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসাান বলেন, জঙ্গি হামলা হতে পারে বিষয়টি মাথায় রেখেই আমরা নিরাপত্তা সাজিয়েছি।আমরা কাজ করে যাচ্ছি।তিনি বলেন, জঙ্গিদের কোনো দেশ নেই, জঙ্গিদের পরিচয় জঙ্গি। তাদের অন্য কোনো পরিচয় থাকতে পারে না।৩ দিনব্যাপী বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্যায়ে আখেরি মোনাজাত আগামী ১০ জানুয়ারি রবিবার অনুষ্ঠিত হবে।

২০১১ সাল থেকে প্রতিবছর দুই পর্বে বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন করা হচ্ছিল। এবার থেকে দুই বছরে চার পর্বে দেশের ৬৪ জেলার তাবলিগ সদস্যদের জন্য ইজতেমায় অংশগ্রহণের ব্যবস্থা হয়েছে।

ইজতেমা পরিচালনা কমিটির সদস্য প্রকৌশলী মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, এবার প্রথম দফার ইজতেমায় অংশ নিচ্ছেন ১৭টি জেলার মুসলমানরা।

জেলাগুলো হলো- ঢাকা জেলার একাংশ, নারায়ণগঞ্জ, শেরপুর, মাদারীপুর, সিরাজগঞ্জ, নাটোর, গাইবান্ধা, নীলফামারী, পঞ্চগড়, লক্ষ্মীপুর, সিলেট, নড়াইল, মাগুরা, চট্টগ্রাম, পটুয়াখালী, ভোলা ও ঝালকাঠি।

১০ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে ইজতেমার প্রথম পর্ব শেষ হবে।

এরপর ১৫ জানুয়ারি শুরু হবে এবারের ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব, যাতে অংশ নেবেন ১৫টি জেলার মুসলমানরা। এর বাইরে দেশের বাকি ৩২টি জেলার মানুষ আগামী বছর দুই পর্বে ইজতেমায় অংশ নেবেন।

ইজতেমার প্রথম পর্বে যোগ দিতে বৃহস্পতিবার থেকেই তাবলিগ জামাতের সদস্যরা মালামালসহ তুরাগ তীরে হাজির হতে থাকেন। লাখ লাখ মুসলমানের ‘আল্লাহু আকবার’ ধ্বনিতে টঙ্গী পরিণত হয় ধর্মীয় উৎসবের নগরীতে।

ইজতেমা পরিচালনা কমিটির সদস্য প্রকৌশলী মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, শুক্রবার ফজরের নামাজের পর ভারতের মাওলানা আব্দুর রহমানের আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ইজতেমার আনুষ্ঠানিকতা। বয়ান বাংলায় তরজমা করে শোনান বাংলাদেশের মাওলানা মো. আব্দুল মতিন।

দুপুরে ইজতেমা ময়দানে জুমার নামাজে ইমামতি করবেন বাংলাদেশের ক্বারী মো.জুবায়ের।দ্বিতীয় পর্যায়ে ইজতেমা ১৫ জানুয়ারি শুরু হবে এবং আগামী ১৭ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।

ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন।

কোন জেলার অবস্থান কোথায়

ইজতেমা প্রাঙ্গণে প্রতিবারের মতই তাবলিগের সদস্যদের জন্য স্থান নির্দিষ্ট করা হয়েছে। ১৭টি জেলার তাবলিগ সদস্যরা এবার ২৭টি স্থানে বিভক্ত হয়ে সম্মিলনের এই তিনদিন অবস্থান করবেন। এই নির্দিষ্ট এলাকাকে বলা হয় খিত্তা।

১ থেকে ৬ নম্বর খিত্তায় ঢাকা, ৭-এ শেরপুর, ৮ ও ১১-তে নারায়ণগঞ্জ, ৯-এ নীলফামারী, ১০-এ সিরাজগঞ্জ, ১২-তে নাটোর, ১৩-তে গাইবান্ধা, ১৪ ও ১৫-তে লক্ষীপুর, ১৬ ও ১৭-তে সিলেট, ১৮ ও ১৯-এ চট্টগ্রাম, ২০-তে নড়াইল, ২১-এ মাদারীপুর, ২২ ও ২৩-এ ভোলা, ২৪-এ মাগুড়া, ২৫-এ পটুয়াখালী, ২৬-এ ঝালকাঠি ও ২৭-এ পঞ্চগড় জেলা থেকে আসা তাবলিগের সদস্যরা অবস্থান করবেন।

ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ইতোমধ্যে ইজতেমাস্থলে আসতে শুরু করেছেন।তারা রেলপথ, সড়ক পথ, নৌপথ এবং অনেকে পায়ে হেঁটে ইজতেমাস্থলে আসছেন।

ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান আজ বিশ্ব ইজতেমায় হামদর্দের একটি ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প উদ্বোধন করেছেন এবং রেলমন্ত্রী মজিবুল হক আজ টঙ্গী জংশনে মুসল্লীদের সার্বিক নিরাপত্তার ব্যবস্থাদী পরিদর্শন করেছেন।






মন্তব্য চালু নেই