মেইন ম্যেনু

ত্রিশালের মতো ঘটনার পরিকল্পনা আঁটছে হুজি

২০১৪ সালে প্রিজনভ্যানে গুলি করে সিনেমাটিক কায়দায় আসামি ছিনতাই করেছিল নিষিদ্ধ ঘোষিত জামায়াতুল মুজাহিদিনের সদস্যরা। এবার একই কায়দায় শীর্ষ নেতাদের কারাগার থেকে মুক্ত করতে মাঠে নামার পরিকল্পনা করছে আরেক নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি) সদস্যরা।

গোয়েন্দারা বলছেন, নেতাদের কারামুক্ত করতে নানাভাবে চেষ্টা করেছে মুক্ত সদস্যরা। এমনকি উপার্জনের বড় অংশই তারা এর পেছনে খরচ করেছে। এতে কাজ না হওয়ায় এবার তারা দেশজুড়ে বড় পরিকল্পনা নিয়ে নামছে।

রাজধানী থেকে গ্রেপ্তার হুজির ছয় সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

এ বিষয়ে গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার (এসি) মাহমুদা আফরোজ লাকী বলেন, গ্রেপ্তার ওই ছয় জনের টার্গেটই ছিল শীর্ষ নেতাদের কারাগার মুক্ত করা। আর এর জন্য তারা নিজেদের উপার্জনের পুরো টাকাই খরচ করতো। এছাড়া কুয়েত ও সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশের কিছু প্রবাসী বাংলাদেশিও এতে অর্থায়ন করতো বলে তাদের কাছ থেকে জানা গেছে।

গোয়েন্দা সূত্র বলছে, ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত হুজির শীর্ষ নেতা মুফতি হান্নান ও মো. জাহাঙ্গীর আলমকে কারাগার থেকে মুক্ত করতেই সংগঠনের সদস্যরা দেশজুড়ে সক্রিয় হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় রাজধানীর কোতয়ালী থানা এলাকার জিন্দাবাজারের সিরাজ-উদ-দৌলা পার্ক ও উত্তরা এলাকা গোপন বৈঠকে উপস্থিত হয় হুজির ছয় সদস্য। পরে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও কাউন্টার ট্যারোরিজম ইউনিটের সদস্যরা তাদের আটক করে।

তাদের মধ্যে মুফতি সাজ্জাদুর রহমান কুষ্টিয়া অঞ্চলের কমান্ডার। তিনি কুষ্টিয়া লাহিনী উচ্চ বিদ্যালয়ের গণিতের শিক্ষক। শিক্ষকতার পাশাপাশি প্রাইভেট পড়িয়েও আয় করতেন।

আরেকজন মেজবাউর রহমান প্রদীপ, কুষ্টিয়া মিরপুর ফায়ার সার্ভিসের গাড়িচালক। তিনিও বেতনের টাকা সংগঠনের কাজে ব্যয় করতেন। বাকিদের মধ্যে আবুল বাশার মসজিদের ইমাম ও আশরাফ কম্পিউটার অপারেটর। এছাড়া আজিজ বাবু ও শফিক পলাশ ওরফে বিজয় নামে দু’জন ঢাকায় গার্মেন্টে উচ্চ বেতনের কর্মচারী।

গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, হরকাতুল জিহাদের দু’টি ভাগ আছে: একটি ভাগ দেশের বাইরে জিহাদে অংশ নিতে চেয়েছিল। অন্য অংশ সংগঠনের মূল নেতাদের কথামতো নিজ দেশেই জিহাদি কাজ পরিচালনা করছিল। সেই লক্ষ্যেই তারা ‘খেলাফত’ কায়েম করতে নাশকতা ও হামলার ছক তৈরি করছিল।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারিতে ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রিজন ভ্যানে বোমা হামলা চালিয়ে জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের মৃত্যৃদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটে।

এদের মধ্যে সালাউদ্দিন সালেহীন ওরফে সানি (৩৮) এবং রাকিবুল হাসান ওরফে হাফেজ মাহমুদ (৩৫) মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত। অন্যজন জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমারু মিজান (৩৫) যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত।

একটি মামলায় হাজিরার জন্য গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে তিনজনকে ময়মনসিংহের আদালতে নেয়ার পথে ছিনতাইয়ের এই ঘটনা বাংলাদেশজুড়ে তোলপাড় তোলে।






মন্তব্য চালু নেই