মেইন ম্যেনু

থমকে গেছে ঈদের বাজার

দীর্ঘ ৯ দিন সরকারি ছুটি পাওয়ায় অধিকাংশ নাগরিক ঢাকা ছেড়েছেন ১ জুলাই। এরই মধ্যে শুক্রবার গুলশান ২ নম্বরে হলি আর্টিসান বেকারি নামের রেস্টুরেন্টে জঙ্গি হামলার পর গোটা রাজধানী থমকে গিয়েছে।

শনিবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় বেশিরভাগ বিপণিবিতানগুলো ক্রেতা শূন্য। তবে বাংলাদেশের অন্যতম বড় শপিংমল বসুন্ধরা সিটিতে দুপুর থেকে বহু ক্রেতার সমাগম দেখা যায়। কেউ কাঙ্খিত পণ্য কিনে বের হচ্ছেন, কেউবা তখনো খুঁজে বেড়াচ্ছেন পছন্দের পোশাক কিংবা গয়নাগাটি।

মিরপুর থেকে বসুন্ধরা সিটিতে আসা সামিরা বেগম বলেন, যানজটের কারণে আগে কেনা- কাটা করতে বের হইনি। ঢাকা ফাঁকা হওয়ায় দ্রুত কাজ শেষ করতে পারছি, এসময় ভিড় কম থাকে। নিজের মনমতো কেনাকাটা করা যায়। তবে পণ্যের দাম নিয়ে সন্তুষ্ট নই। আমরা কাপড় পছন্দ হলেও দামের সাথে মিলছে না।

গত কয়েক দিন আগে ঈদের বাজারে শাড়ি-চুড়ি-গয়নার পাশাপাশি বাহারি রঙ আর নিত্য-নতুন নকশার দেশি ব্র্যান্ডের পাঞ্জাবির দোকানে বেশ ভিড় দেখে গেলেও আজ ভিন্ন চিত্র রাজধানীর। সকাল থেকে রাস্তা-ঘাট ও ফুটপাত ফাঁকা, শুধু বড় বড় শপিংকমপ্লেক্সগুলোতে বেশ কিছু ক্রেতা দেখা যায়।

এদিকে রাজধানীর চন্দ্রিমা মার্কেটের দোকানি ফরিদ বলেন, কয়েকদিন আগেও আমাদের বেচা-কেনা অনেক ভাল হয়েছে, গতকালও ক্রেতা ছিল। কিন্তু আজ হুট করে ক্রেতাদের আনাগোনা কমে গেছে। আল্লাহ জানে বাঁকি দিনগুলো কি হবে।

নয়া পল্টনের গাজী ভবনের মালিহা ফ্যাশনের বিক্রয় প্রতিনিধি মো. লিটন বলেন ‘এ সময়টায় ক্রেতাদের সঙ্গে দরদাম করারই সময় থাকে না। অথচ এবার এই যে দেখেন হাত গুটিয়ে বসে আছি।’ তার কাছে জানা গেল, এবার পোশাকের দাম বেশ চড়া। কারণ শুল্ক বৃদ্ধি।

একই মন্তব্য করলেন বোরহান ট্রেডার্সের লুৎফর রহমান। এবার ঈদে চীনের তৈরি হাফ শার্টের দাম ৫০০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে, ফুল শার্ট ৮০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা। জিনস প্যান্ট এক হাজার ৪০০ থেকে এক হাজার ৬০০ এবং গ্যাবার্ডিন প্যান্ট এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৪০০ টাকা। থাইল্যান্ডের জিনস প্যান্ট এক হাজার ৫০০ থেকে এক হাজার ৮০০ টাকা।

শার্টপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা দাম বেড়েছে। প্যান্টের ক্ষেত্রেও তাই। ফারুক এন্টারপ্রাইজের মো. লিমন জানালেন, বাচ্চাদের পোশাকের মধ্যে ছেলেদের ‘কিডস টি-শার্ট’-এর দাম ৪০০ টাকা। এগুলো গত বছর ছিল ৩০০ টাকা। টি-শার্ট ও থ্রি কোয়ার্টার প্যান্টের সেট ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা। বাচ্চাদের স্কার্ট-টপস সাড়ে ৮০০ টাকা। পলওয়েল মার্কেটের রিফাত ট্রেডিংয়ের আইয়ুব হোসেন জানালেন, ভারতের ডিজাইন চেক শার্টের চাহিদা বেশি। এগুলো এক হাজার থেকে দুই হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের টি-শার্ট আছে ৫০০ থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত।






মন্তব্য চালু নেই