মেইন ম্যেনু

দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচনে যেতে চায় বিএনপি

প্রথম দিকে বিরোধিতা করলেও দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশের অন্যতম প্রধান দল বিএনপি। তবে এ জন্য তাদের কিছু শর্ত রয়েছে, তারা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের গ্যারান্টি চায়। এমনটাই জানিয়েছেন দলটির মুখপাত্রের দায়িত্বে থাকা আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন। সেই সঙ্গে গণতন্ত্র ও দেশের বৃহত্তম স্বার্থে রাজনৈতিক সমঝোতার পথ বেছে নিতেও সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানান তিনি।

স্থানীয় সরকার বিল এখনো বিএনপি পর্যবেক্ষণ করছে জানিয়ে রিপন বলেন, ‘প্রস্তাবিত দলীয় প্রতীকে এই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইনে অনেক অসমাঞ্জস্য রয়েছে। এসব নিয়ে আমাদের দল ও নাগরিক সমাজ সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও সরকার এতে কোনো পাত্তা না দিয়ে নিজেদের ভাবনা অনুযায়ী একগুঁয়েমী নীতি নিয়েই অগ্রসর হয়েছেন। আমাদের দল মনে করে, বর্তমান আজ্ঞাবাহী এই নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে কোনোভাবেই একটি সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচন করানো সম্ভব নয়। সাম্প্রতিককালের ঢাকা-চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনই তার বড় প্রমাণ।’

বিএনপির কাউন্সিল এবং আগামী পৌর নির্বাচনে বিএনপিকে বাধাগ্রস্ত করতে সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করছে অভিযোগ এনে দলের মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, সারাদেশে নতুন করে বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের বাড়িঘর তল্লাশী করা হচ্ছে এবং এ পর্যন্ত প্রায় তিন সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে গত কয়েকদিনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এমনি একটি প্রেক্ষাপটে সরকার হঠাৎ করেই দলীয় মনোনয়ন ও দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়ে একটি বিল সংসদে উত্থাপন করেছে। যে সংসদ গত ৫ জানুয়ারি বিনাভোটের নির্বাচনে গঠিত হয়েছিল এবং যার ১৫৪ সদস্যই বিনাভোটে নির্বাচিত বলে গণ্য হয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি আগেও বলেছে দলীয় প্রতীকে মনোনয়নে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলে সমাজ আরো বিভাজিত হয়ে পড়বে। সেই সঙ্গে রাজনীতির বাইরে যেসব সমাজসেবী এসব নির্বাচনে অংশ নিতেন তাদের অংশগ্রহণ আর সম্ভব হবে না।’

রিপন বলেন, ‘সরকার যদি সত্যিই স্থানীয় সরকার নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হোক এটা চায় তাহলে অবশ্যই সরকারকে গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি দিতে হবে এবং সকল ধরনের দমন নিপীড়নের কৌশল থেকে সরে আসতে হবে। আর তা না হলে অনুষ্ঠিতব্য আগামী পৌর নির্বাচন ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মতোই প্রশ্নবিদ্ধ হবে এবং দেশে-বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি আরো ক্ষুণ্ণ হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারকে এ অপরাজনীতির কৌশল থেকে সরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। গ্রেপ্তারকৃত সকল নেতাকর্মীকে মুক্তিদানের আহ্বান জানাচ্ছি। ধরপাকড় বন্ধ করারও আমরা আহ্বান জানাচ্ছি। আশা করবো চলমান রাজনৈতিক সঙ্কটকে উপলব্ধি করতে সক্ষম হবেন।’






মন্তব্য চালু নেই