মেইন ম্যেনু

‘দশ বছরে ৮ বার বিক্রি করা হয় আমাকে’

বোনের সঙ্গে ১০ বছর আগের এক বিকেলে ভারতের রাজধানী দিল্লি ঘুরতে বেরিয়েছিলেন কমলা (ছদ্মনাম)। তার বয়স তখন ১২। ওই দিন সন্ধ্যার পর বাসায় ফেরার পথে বোনকে আহত করে রাস্তায় অচেতন করে অপহরণ করা হয় তাকে।

এরপর গণধর্ষণের শিকার হন কমলা। ১০ বছর পরে বাড়ি ফিরে সেই যুবতী জানান, এই সময়ে কমপক্ষে ৩০ বার ধর্ষণের শিকার হতে হয়েছে তাঁকে। বিক্রি হয়েছেন মোট ৮ বার।

শুধু ধর্ষণের শিকার হওয়াই নয়। এ বছর বাড়ি ফিরে কমলা জানান, ওই সময়ে জোর করে তাঁর ধর্মও পরিবর্তন করা হয়। বলা হয় অতীত ভুলে যেতে।

সম্প্রতি ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার কাছে নিজের জীবনের এই দুর্বিষহ ১০ বছরের বর্ণনা দেন কমলা। তিনি জানান, বেচাকেনার মধ্য দিয়ে জীবনযাপন করতে করতেই তাঁকে বিয়ে করেন মাখন সিং নামে এক ব্যক্তি। কিছুদিন পরেই মাখন কমলাকে বেচে দেন তাঁরই অর্ধেকের বেশি বয়স্ক বয়সের এক আত্মীয়ের কাছে। সেখানেই তিনি জন্ম দেন এক শিশুর। কিন্তু কিছুদিন পর ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়।

এরপর সন্তানকে নিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে চলে আসেন কমলা। পথে আলাপ হয় দিল্লির নারী অধিকারকর্মী গীতা ভেলের সঙ্গে। তাঁর সাহায্যেই বাড়ি ফেরেন কমলা।

অপহরণকারীদের হাত ধরে পাচার হওয়া কমলার এই দুর্বিষহ মুহূর্তগুলো নিয়ে একটি তথ্যচিত্র নির্মাণ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দিল্লির একটি নারী সংগঠনের ওই তথ্যচিত্রের প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে কমলা সাংবাদিকদের কাছে নিজের জীবনের দুর্বিষহ মুহূর্তগুলোর বর্ণনা দেন।

এদিকে কমলার পাচার হওয়ার পরের জীবন নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্রের প্রদর্শনীতে উপস্থিত ভারতের পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অভিদেব কৌর সিংঘলা জানিয়েছেন, প্রতিবছর ভারতে অন্তত ১০ হাজার শিশু এবং নারীকে অপহরণ করে বেচে দেওয়া হয়। ভারত সরকার এই অপহরণ রুখতে কাজ করে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।






মন্তব্য চালু নেই