মেইন ম্যেনু

দাঁত ও মাড়ি দেখে যে স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো বুঝতে পারেন ডেন্টিস্টরা

আমাদের দাঁতে যখন কোন সমস্যা হয় তখনই আমরা দাঁতের ডাক্তারের কাছে যাই। কিন্তু দন্ত চিকিৎসক দাঁতে ছিদ্র হয়েছে বা প্লাক জমেছে কিনা শুধু তাই দেখেন না, আরো অনেক বেশি কিছু বুঝতে পারেন কেবল দাঁত দেখেই। একজন ডেন্টিস্ট আপনার মুখ গহবর ও দাঁত একনজর দেখে আপনার স্বাস্থ্য সম্পর্কে অনেক কিছু বুঝতে পারেন। অনেক ধরণের ক্যান্সার এবং দীর্ঘ মেয়াদি অসুস্থতার লক্ষণগুলো শরীরের অন্যান্য স্থানে প্রতিভাত হওয়ার আগেই মুখে চিহ্নিত করা যায়। নিউ জার্সির Livingston এ অবস্থিত The Silverstrom Group এর DDS,David Silverstrom বলেন, “মুখগহবর হচ্ছে শরীরের জানালা”। তিনি আরো বলেন, “একজন ডেন্টিস্ট নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে প্রাথমিক অবস্থাতেই বিভিন্ন প্রকার রোগ যেমন-ক্যান্সার, এনিমিয়া ও ডায়াবেটিস সনাক্ত করতে পারেন যার ফলে জীবন রক্ষা পায়”। শুধুমাত্র অসুখই না আপনার বদভ্যাস থেকে শুরু করে আপনার প্রিয় পানীয় সম্পর্কে বলে দিতে পারেন। এই বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের বিডিএস প্রথম ব্যাচের শেষ বর্ষের ছাত্রী ফারহানা দিলশাদ সুকি। আসুন তাহলে আজ জেনে নিই সেই বিষয় গুলো সম্পর্কে যা একজন ডেন্টিস্ট আপনার মুখ দেখে বলতে পারেন।

১। আপনি শুধুমাত্র ডেন্টিস্টের কাছে যাওয়ার আগেই দাঁতে ফ্লস ব্যবহার করেছেন

আপনি আপনার ডেন্টিস্টকে এটা বলে বোকা বানাতে পারবেন না যে, আপনি প্রতিদিন রাতে ও সকালে দাঁতে ফ্লস ব্যবহার করেন। “যারা শুধুমাত্র ডেন্টিস্টের কাছে যাওয়ার আগে দাঁতে ফ্লস করেন তাঁদের মাড়িতে রক্ত দেখা যায় বা মাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ দেখায়”- কথাটি বলেন, শিকাগোর Algonquin, IL এ অবস্থিত All Smiles Dental এর DDS, Timothy Stirneman।

২। আপনি নখ কামড়ান

আপনার হাতের দিকে না তাকিয়েও একজন ডেন্টিস্ট আপনার দাঁত দিয়ে নখ কামড়ানোর বদভ্যাস আছে এটা সনাক্ত করতে পারেন। নিউ ইয়র্ক সিটির Arbeitman & Shein এর DDS, Keith Arbeitman বলেন, “আপনার দাঁতে ক্রমাগত শক্ত জিনিস চিবালে দাঁতের যে ক্ষয় হয় তা দেখে ডেন্টিস্ট আপনার নখ কামড়ানোর স্বভাব আছে বুঝতে পারেন”। এর ফলে আপনার দাঁত বিশেষ করে সামনের দাঁত অমসৃণ হয়ে পড়ে এবং মাড়িতে ব্যাথা ও অস্বস্তি হতে পারে।

৩। আপনি প্রেগন্যান্ট কিনা

দাঁতের ভিতরের দিকের মাড়িতে ছোট ছোট লাল বৃদ্ধি দেখে আপনি প্রেগন্যান্ট কিনা সেটা বুঝতে পারেন। একে প্রেগন্যান্সি টিউমার ও বলে, এটা ৫% প্রেগন্যান্ট মহিলাদের হয়ে থাকে। এরা বিপদজনক নয়, কিন্তু মুখে সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি করে। এজন্য তাঁদের দাঁতের বিশেষ যত্নের প্রয়োজন হয়।

৪। রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন কিনা

ওয়াশিংটন ডিসির American Dental Association এর পেরিওডন্টিস্ট ও ভোক্তা উপদেষ্টা Dr. Sally Cram এর মতে, “হালকা গোলাপি ম্লান মাড়ি রক্তস্বল্পতার একটি লক্ষণ”। যখন মানুষের শরীরে আয়রনের ঘাটতি হয় তখন তাঁদের দাঁতের মাড়ি লাল রঙ হারিয়ে গোলাপি বা সাদা হয়ে যায়।

৫। ছোট বেলায় আঙ্গুল চোষার অভ্যাস ছিলো

যাদের ৭ বা ৮ বছর বয়সে হাতের বুড়ো আঙ্গুল চোষার স্বভাব ছিলো তাঁদের দাঁতের অবস্থান এবং কামড় দেয়ার ধরণ, মাড়ির বৃদ্ধি ইত্যাদি অনেকটাই প্রভাবিত হয়। এমনকি তাঁদের কথা বলার ধরণেও সেই প্রভাব পরিলক্ষিত হয় যা ডেন্টিস্ট বুঝতে পারেন।

৬। নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ

কোন কোন ক্ষেত্রে গুরুতর কোন স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিত বহন করে নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ। নিঃশ্বাসে ফলের মত সুগন্ধ হলে বুঝা যায় আপনার অনিয়মিত ডায়াবেটিস আছে অথবা আপনি উপবাস করছেন যা মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। নিঃশ্বাসে মাছের ন্যায় গন্ধ আপনার কিডনি বা লিভার ফেইলিউর এর লক্ষণ প্রকাশ করে।

৭। সাইনাস ইনফেকশন আছে

দাঁতের মাড়িতে চাপের ফলে অনেকেই মনে করেন যে, তাঁদের রুট ক্যানেল করা প্রয়োজন কিন্তু সাইনাস ইনফেকশনের কারণেও এমন হতে পারে। কিছু ডেন্টিস্ট এই পরামর্শ দেন যে, আপনি উপুর হয়ে আপনার পায়ের আঙ্গুল ধরুন, এতে যদি আপনার মুখে অনেক বেশি খারাপ লাগে তাহলে এটা অবশ্যই সাইনাস ইনফেকশনের জন্য হয়েছে বুঝতে হবে। যা দাঁতের সমস্যার বিপরীত।

৮। দীর্ঘমেয়াদি রোগ বা লুপাস আছে

মাড়িতে ব্যথাযুক্ত প্রদাহ হলে অটোইমিউন কন্ডিশন যেমন- lichen planus এর জন্য হতে পারে। এর ফলে মাড়ি অনেক লাল হয়ে যায় অথবা সাদা দাগ দেখা যায়। এই দাগ গুলো ব্যাথা সৃষ্টি করতে পারে এবং মুখের আলসার সৃষ্টি করতে পারে।

৯। হার্টের সমস্যা আছে

খুবই সাধারণ মাড়ির রোগ ও হার্ট ডিজিজ এর ঝুঁকির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

১০। অ্যান্টি ডিপ্রেশন ঔষধ সেবন করছেন

মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য যে ঔষধ গুলো সেবন করা হয় তার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় লালার প্রবাহ কমিয়ে দেয় যা দাঁতের সুরক্ষায় কাজ করে। অ্যালার্জির ঔষধেও এই সমস্যা হতে পারে।

১১। আপনি উদ্বিগ্ন আছেন

আপনি যদি ঘন ঘন উদ্বিগ্নতার সমস্যায় ভোগেন তাহলে শরীরে করটিসোল হরমোনের নিঃসরণ বৃদ্ধি পায়। যা প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং ইনফেকশনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করাটা কঠিন হয়ে পরে। এই স্ট্রেস হরমোন ও প্রদাহ মাড়ির রোগ সৃষ্টি করে, যার কারণে দাঁত ও হাড়ের ক্ষয় হয়।

তাই দাঁতের ও মাড়ির কোন সমস্যা দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত ডেন্টিস্টের কাছে যান তাহলে বড় কোন স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন।






মন্তব্য চালু নেই