মেইন ম্যেনু

দাউদ ইব্রাহিমের সাক্ষাৎকার

দাউদ ইব্রাহিম। মুম্বাই হামলায় অভিযুক্ত অন্যতম আসামি এই ৩৮ বছর বয়সী মাফিয়া ডন। সম্প্রতি মুম্বাই হামলায় অপর এক অভিযুক্ত ইয়াকুব মেমনকে ভারত সরকার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে।
আর এই বিষয়াদি নিয়েই ফোনে মাফিয়া ডন দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে কথা হয় ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের সিনিয়র কপি এডিটর শিলা ভাটের সঙ্গে। পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারটি অনুবাদাকারে তুলে ধরা হলো:

ইয়াকুব মেমনের গ্রেপ্তার আপনাকে কি প্রভাবিত করেছে?
আমি খুশি যে সে ধরা পড়েছে। অন্তত তদন্ত প্রক্রিয়া এখন সঠিক লাইনে আগাচ্ছে।

আপনিই কি তাকে ভারতে পাঠিয়েছিলেন?
আমি কেন তাকে পাঠাতে যাবো? আমার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। জীবনে আমি কোনোদিন তার চেহারাও দেখিনি।

আপনি কি ইয়াকুবকে আত্মসমর্পণ করতে বলেছিলেন যাতে আপনার উপর থেকে দায় সরে যায়?
ইয়াকুবতো আপনাদের কাছেই আছে, তাকেই কেন জিজ্ঞেস করছেন না? যখন আমি এই সংবাদটি পাই তখন আমি আমার দায় নিয়ে ভেবেছিলাম। মনে আছে, ইয়াকুব জাতির সামনে টেলিভিশনে বলেছিল যে সে আমাকে কখনো দেখেইনি।

তাহলে কীভাবে তার স্বীকারোক্তি আপনার সকল অপরাধকে পরিষ্কার করলো?
কেউ একবার বললো যে দাউদ ইব্রাহিম একজন নিরীহ মানুষ। তখনই অন্যরা বলবে যে, ওই মানুষটি নিশ্চয়ই দাউদ ইব্রাহিমের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে একজন অফিসারের সঙ্গে আমার অনেক আলাপ আলোচনা হয়েছে। তিনি আমাকে বলেন, ‘আমার সংস্থা বিশ্বাস করে যে এই কেসের সঙ্গে তুমি যুক্ত নও। যদি আমি এর বেশি কিছু বলি তাহলে আজই আমাকে পদত্যাগ করতে হবে। আর আমি যদি পদত্যাগ না করি, তাহলে তারা আমাকে বরখাস্ত করবে।’

কিন্তু এটাতো নিশ্চিত যে সবসময়ই শুধু শুধু কোনো কারণ ছাড়াই বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে আপনার নাম জড়িয়ে যায়নি।
এটা আসলে রাজনৈতিক কারণ। তাদেরকে জিজ্ঞাসা করুন, আমার বিরুদ্ধে তাদের হাতে কী প্রমাণাদি আছে। কাউকে চেনা অবশ্যই অপরাধ নয়। আমি মনে করি, আমি শারদ পাওয়ার এবং এসবি চ্যাবনের রাজনীতির শিকার।

কিন্তু অভিযোগ আছে যে পাওয়ার আপনার বন্ধু।
আমরা না বন্ধু, না শত্রু। মিডিয়া যখনই বলা শুরু করলো যে দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে পাওয়ারের যোগাযোগ আছে, তখনই মূলত প্রধানমন্ত্রী পুলিশকে ওই কেসে আমাকে জড়াতে নির্দেশ দেন। কিন্তু চ্যাবন কুৎসা রটিয়ে এটা প্রমাণ করবার চেষ্টা করে যে এই কেসে আমার সংশ্লিষ্টতা আছে এবং আমার সঙ্গে পাওয়ারের যোগাযোগ আছে। এই বক্তব্যগুলো তাকে পর্যাপ্ত রসদ দেবে পাওয়ারকে উৎখাত করতে। সুতরাং তারা দু’জনেই তাদের নিজেদের স্বার্থের জন্য আমাকে ব্যবহার করছে।

১৯৯৩ সালের ১২ মার্চ মুম্বাই বোমা বিস্ফোরণের সময় আপনি কোথায় ছিলেন?
আমি তখন বাসাতেই ছিলাম এবং বিভিন্ন জায়গা থেকে ফোন আসছিল। সিন্ধি, মুসলিম, গুজরাটিরা ফোন করছিল আমাকে। আমি হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম ঘটনায়। কিন্তু যখন গাড়িটি আবিষ্কৃত হলো তখন আমি এই ভেবে নিশ্চিত হলাম যে আমার ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। আমি তখনই ভেবেছিলাম সত্যি একদিন উদঘাটিত হবেই। হঠাৎ করেই আমি জানতে পারি জেরা করবার সময় দাউদ টাকলু নামের একজন আমার নাম নিয়েছিল। তখন থেকেই পত্রিকাগুলো মুম্বাই পুলিশ প্রধান শর্মাকে আমার সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে প্রশ্ন করতে শুরু করে। তিনি কিছুই বলেননি।

আপনি কি টাইগার মেমনকে চেনেন?
সে প্রায়শই দুবাই আসতো। কিন্তু তার সঙ্গে আমার কোনো ব্যক্তিগত বা বাণিজ্যিক লেনদেন নেই। মুম্বাইয়ে যারা ধান্দা করে তাদের যেমন চিনি, তেমনি তাকেও চিনি। আমার সঙ্গে তার কয়েকবার দেখা হয়েছিল।

কিন্তু টাইগার এবং আপনারতো একই ধরনের ব্যবসা।
পুলিশকে টাইগার মেমনের যাবতীয় তথ্যাদি বের করতে বলুন এবং আমার সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল তার প্রমাণ দিক। যদি তথ্য প্রমাণাদি পাওয়া যায়, তখন যে অভিযোগ ইচ্ছে সেটাই আমার বিরুদ্ধে আনা হোক।

তাহলে আপনি কি বলতে চাচ্ছেন যে, মুম্বাই বোমা হামলায় আপনার কোনো হাত নেই?
হ্যাঁ, বিশ্বাস করুন আমার সঙ্গে বোমা হামলার কোনো যোগাযোগই নেই।

ইয়াকুব মেনন বলেছে যে ওই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হলো ‘আইএসআই’। আপনার সঙ্গে আইএসআই এবং তৌফিক জালিওয়ালার সম্পর্ক কী?
আমি আইএসআই সম্পর্কে কিছু জানি না। গত দশ বছর ধরে জালিওয়ালাকে দুবাইয়ের একজন ব্যবসায়ী হিসেবেই জানি আমি।

আমার জানি যে জালিওয়ালা একজন আইএসআই সদস্য। আপনি কি এ ব্যাপারে সতর্ক ছিলেন?
আমি যদি সত্যিই জানতাম যে তিনি একজন আইএসআই সদস্য, তাহলে আমি কেন তার বিয়ের সময় যাবো, যেখানে বোমা হামলার কেসের সঙ্গে আমার নাম জড়িয়ে আছে। অথবা, কেনই বা আমি বিয়েতে আমাকে ভিডিও করতে দেবো?

আপনি টাইগার মেমন, জালিওয়ালা এবং মুম্বাইয়ের আন্ডারওয়ার্ল্ডকে জানেন। আপনার কি মনে হয় মুম্বাই বোমাহামলার সঙ্গে পাকিস্তান এবং মেমনেরা জড়িত?
আমি বিশ্বাস করি টাইগার মেমন এর সঙ্গে জড়িত। কারণ তার নিজের ভাইও তাই বলেছে।

কিন্তু টাইগার মেমন একা এত বড় একটা ঘটনা ঘটাতে পারে না। কীভাবে আপনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করবেন?
টাইগার এবং তার ভাই এই বোমাহামলার পেছনে আছে। সুতরাং ঠিক কী ঘটেছে তা একমাত্র তারাই সবচেয়ে ভালো বলতে পারবে।

বোমা হামলায় ৩০০ মানুষ হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত আপনি। তদন্ত আপনার দিকেই নির্দেশ করছে।
বেশ, আমি যে নিরীহ সেটা প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট পরিশ্রম আমি করেছি। কিন্তু আমি জানি না সেই কথাটা জোর করে আমাকে দিয়ে বলানো যাবে না।

বোমা হামলার ওই সময়টায় পশ্চিম ভারতে আপনার যোগাযোগ বেশ ভালো ছিল।
আমার কতজন মানুষ ওই বোমাহামলায় জড়িত ছিল?

পুলিশ যা বলে সেটাই আমাদের বিশ্বাস করতে হয়। কিন্তু আপনি যদি নিজেকে নিরীহ প্রমাণ করতে চান তাহলে আপনাকে বলতে হবে যে এই বোমাহামলার পেছনে কে।
টাইগার মেমন যখন এই মামলায় অভিযুক্ত তখন আমার কী বলার থাকতে পারে।

টাইগারের পেছনে কে?
সেটা আপনি তার ভাইকে কেন জিজ্ঞাসা করছেন না?

আপনি যদি নিরীহই হয়ে থাকেন, তাহলে কেন আত্মসমর্পণ করছেন না?
আমি আত্মহত্যা করতে চাই না। এই তদন্ত শুরু হওয়ার আগেই পুলিশ সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমাকে এর সঙ্গে জড়ানোর এবং এরপর তারা আমার বিরুদ্ধে প্রমাণ তৈরি করতে শুরু করে। আমি কখনোই আমার জীবনে এরকম ভীরুতার কাজ করিনি। যদি আমি কিছু করতামই তাহলে এভাবে করতাম না। আমি তাদের বিরুদ্ধেই পদক্ষেপ নিতাম যারা সহিংসতা এবং দাঙ্গার সঙ্গে জড়িত, সাধারণ মানুষরা নয়।

বোমাহামলায় আপনি কি অর্থায়ন করেছিলেন?
আমি একটা পয়সাও দেইনি। দেখুন, আমি গ্যাং ওয়ার এবং চোরচালানির মানুষ। আমি কীভাবে এই জাতীয় পরিকল্পনা সম্পর্কে জানবো।

কিন্তু তারাতো চোরাচালানিদের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেছে।
আপনি কী বলছেন? পুলিশের মতো কথা বলা বন্ধ করুন। আমি একটা চূড়ান্ত অবস্থার ভেতর দিয়ে যাচ্ছি। তারা আমাকে ইঁদুরের মতো তাড়া করছে। আমি ফাঁদে আটকা পড়ে আছি, কোথাও যেতেও পারছি না।

ইয়াকুব কিন্তু এটাও বলেছে যে আপনি জালিওয়ালার সঙ্গে জড়িত।
জালিওয়ালা একজন ব্যবসায়ী এবং চোরাচালানি। আমি দুবাইয়ের সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব রক্ষা করি। আমি শুধু মুসলিম হওয়ার কারণেই কি শুধু পাকিস্তানীদের সঙ্গে আমার যোগাযোগ থাকতে হবে?

আপনি কি মনে করেন বোমাহামলার পেছনে জালিওয়ালা আছে?
আমি তার সম্পৃক্ততা সম্পর্কে কখনো কিছু শুনিনি। বাস্তবে, আমি এটা জানতে পেরে অবাক হয়েছিলাম।

আপনি কি দুবাইয়ে নজরদারির মধ্যে আছেন?
দুবাইয়ের মানুষ আমাকে সমর্থন করে। কিন্তু ভারতীয়দের পক্ষ থেকে চাপ আছে। ভারতীয় গণমাধ্যম ইতোমধ্যেই আমাকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে এবং সরকার যা বলে তারা শুধু সেটাই লেখে।

মুম্বাইয়ে কি আপনার কোনো সম্পত্তি আছে?
সেখানে আমার বাবা-মা এবং ভাইদের সম্পত্তি আছে।

বেনামি সম্পত্তি সম্পর্কে কী বলবেন?
কেন, মুম্বাই ছাড়া কি আর কোথাও বেনামি সম্পত্তি কেনার জায়গা নেই? আমি যেখানে বৈধভাবেই সম্পত্তি কিনতে পারি সেখানে কেন বেনামি সম্পদ কিনবো। আর আমি কেনই বা কোটি টাকার সম্পদ অন্য কোনো মানুষের নামে লিখে দিয়ে আসবো।

মানুষ মনে করে আপনি পাওয়ারের লোক।
না, আমি পাওয়ারের লোক নই। এমনকি চ্যাবনের সঙ্গেও আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আপনি যদি মনে করেন আমার সম্পদের পাহারাদার হলো পাওয়ার তাহলে আপনারা সেটা নিয়ে নিন। আমি সেটা লিখে দেয়ার জন্য প্রস্তুত আছি।

বলা হয় মুম্বাই দাঙ্গা আপনাকে খুব নাড়া দিয়েছিল এবং সেখান থেকেই আপনি প্রতিশোধ নিতে চাইছিলেন…
ওই দাঙ্গাগুলো নিয়ে গোটা বিশ্বই কথা বলেছে, আপনি কেন শুধু আমাকেই বলছেন কথাগুলো। প্রতিশোধ নেয়ার কিছু নেই। আগেও ভারতে অনেক দাঙ্গা হয়েছে। কোনো পুলিশ রেকর্ডে কি বলা আছে যে, ওই দাঙ্গাগুলোর একটির সঙ্গেও আমি জড়িত ছিলাম?

তাহলে কেন পুলিশ আপনাকে এই মামলায় জড়াচ্ছে?
কারণ আমি একজন মুসলিম। সম্প্রদায়ে আমার একটা নাম আছে। আমাকে বাদ দিন, একজন মুসলিম মেথরেরও যদি নাম হয়, তাহলে তাকেও অভিযোগে অভিযুক্ত করা হবে। তারা এটা সহ্য করবে না।

কারা সহ্য করবে না?
যারা সাম্প্রদায়িক।

যেমন?
বাল ঠ্যাকারের মতো অনেকেই আছেন। দেখুন তিনি খোলাখুলিই বলেছেন, ‘আমরা মসজিদটি ধ্বংস করেছি’। ওই কারণে ৬০০ প্রাণ নষ্ট হয়েছিল। তিনিতো চারিদিকে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আর আমাকে এখানে বলতে হচ্ছে যে, আমি বোমা হামলার সঙ্গে জড়িত নই। কিন্তু মুসলিম হওয়ার কারণে কেউ তা বিশ্বাস করছে না।

মুম্বাই দাঙ্গার পর আপনি হয়তো হিন্দুদের ওপর মুসলিম জঙ্গিদের দিয়ে প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিলেন। ১৯৯৩ সালের ১০ জানুয়ারি আপনার বাসভবনে একটি আলোচনা সভা হয়েছিল।
আবহাওয়াটা ছিল খুব স্পর্শকাতর এবং মানুষ ছিল উদ্বিগ্ন। দুবাইতেও বোমাহামলায় শিকারদের ব্যাপারে আলোচনা হয়েছিল। আপনি এধরনের মিটিংকে বোমাহামলার পরিকল্পনা বলছেন?

আপনি বলতে চাচ্ছেন যে, আপনার বাসার ওই আলোচনা সভায় আপনি ছিলেন না?
সবাই এটা নিয়ে কথা বলছিল সেসময়। এমনকি দুবাইতেও এটা বড় আলোচনার বিষয় ছিল। গোটা বিশ্ব মুম্বাই নিয়ে কথা বলছিল। আমি আমার জীবনে কখনও আরডিএক্স দেখিনি।

আচ্ছা আরেকবার এবং শেষবারের মতো আমাদের বলুন যে, আপনার সঙ্গে কি পাওয়ারের কোনো সম্পর্ক আছে?
যদি তার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্কই থাকতো তাহলে তিনি আমাকে রক্ষা করতেন।

ভাই ঠাকুরের মাধ্যমে এর আগেতো তার সঙ্গে আপনার সম্পর্ক ছিল।
দয়া করে এসব বন্ধ করুন। আমাকে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করবেন না।

আপনার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে কিছু বলুন।
আমি উর্দু মাধ্যমে এসএসসি পাস করেছি। গত নয়বছর হয় আমি বিয়ে করেছি এবং আমার তিন কন্যা এবং এক ছেলে আছে।

আপনার বর্তমান উপার্জন কত?
অতীত থেকেই আমার পর্যাপ্ত অর্থ ছিল। আপনি কি কোনো ডোনেশন চান?

আপনি কি রাজনৈতিক দলগুলোকে ডোনেশন দেন?
কংগ্রেস বাদে সব দলকে ডোনেশন দেই।

দিল্লিতে আপনার যোগাযোগ আছে?
আমাকে কেন এসব জিজ্ঞেস করছেন? আমি এমনিতেই ঝামেলায় আছি। আমাকে এই সমস্যা থেকে বের হতে দিন এরপর আমি আপনার সঙ্গে অন্যান্য বিষয় নিয়ে কথা বলতে পারবো।

ভারত সরকার বলছে যে আপনি পাকিস্তানী।
ভারত সরকার সবসময়ই এসব কথা বলে আসছে। আমি পাকিস্তানে কখনও থাকিনি কিন্তু প্রায়ই সেখানে যাওয়া হয়।

আপনি কি পাকিস্তানে থাকেন?
আপনি কেন আমার পেছনে লেগেছেন। আমাকে শান্তিতে থাকতে দিন। আমার মাথার উপর একটা ছাদ দিন। আমি পাকিস্তানে যেতেই থাকবো।

কিন্তু কীভাবে? আপনিতো সাধারণ মানুষের মতো ভ্রমণ করতে পারেন না।
আপনি বাজি ধরতে চান, পৃথিবীর যেখানে বলবেন সেখানেই আমি আপনার সঙ্গে দেখা করতে পারবো।

কিন্তু আপনিতো লন্ডন অথবা জেনেভাতে যেতে পারেন না। কারণ ভারত সরকার তাদের সঙ্গে বন্দিবিনিময় চুক্তি করেছে।
আমি অফিসিয়ালি কোথাও যাই না। তবে আমি যদি কোনো স্থানে যাই তাহলে কী সমস্যা? আমি সর্বদা সেখানেই যাবো যেখানে বন্দিবিনিময় চুক্তি নেই।

আপনার সর্বশেষ ছবিতে অনেক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। কেন?
কিছুই পাল্টায়নি। শুধুমাত্র গোঁফটা আর নেই।

আপনি যেমনটা দাবি করেন যে, আপনি নির্দোষ। তাহলে কেন আপনি মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলছেন না। খাইরনামতো সবার সঙ্গে কথা বলছে।
খাইরনাম সকলের সঙ্গে কথা বলছে এবং তাকে নিরাপত্তাও দেয়া হচ্ছে। আর গোটা বিশ্ব জানে যে সে যা বলছে তার সবই মিথ্যা।

ওই মিথ্যেগুলো কী?
সে যে দালানটিই ধ্বংস করে, সেটাই নাকি দাউদ ইব্রাহিমের। কোটি রূপির যেকোনো সম্পদই আমার, সেটাই সে মনে করে। সে মাত্র দাউদ ইব্রাহিমের একটি দালান ধ্বংস করেছে, অথচ ওই একটিকেই সে একের পর এক বাড়িয়ে যাচ্ছে। মুম্বাইয়ে অনেক মুসলিমকে গৃহহীন করার জন্য সে দায়ী।

আপনার কি মনে হয় ভারত সাম্প্রদায়িক আচরণ করছে?
হ্যাঁ, তাদের মধ্যে অনেকেই সাম্প্রদায়িক।

যেমন?
বাল ঠ্যাকারে এবং মুম্বাই পুলিশ পুরোপুরি সাম্প্রদায়িক। তারা আমার পেছনে লেগেছে কারণ আমি একজন মুসলিম। অন্য কেউ আমার মতো নাম অর্জন করেনি এবং এই কারণেই তারা আমাকে উপড়ে ফেলতে চায়। তাদের মধ্যে কেউ ভীত এই ভেবে যে আমি মুসলিমদের সর্বোচ্চ নেতা না হয়ে যাই!

আপনি এখন কী চান?
বিচার। আমি ভারতের জনগণের সামনে বিচার চাই। মৃত্যু আসবেই, আর তা একবারই। আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না। কিন্তু আমি মিথ্যে প্রমাণকে ভয় পাই। আমি আপনাকে আবারও বলছি পুলিশ আরও একটা মিথ্যে ঘটনা ঘটালো। আমি ওই মামলার লম্বা চার্জশিট পড়েছি, সেখানে বলা হয়েছে যে আমার সঙ্গে দুবাইয়ে তারা দেখা করেছিল। ভারতে আমার দুই হাজার মানুষ আছে। আমি তাদের সঙ্গে কথা বলতে পারি না?






মন্তব্য চালু নেই