মেইন ম্যেনু

দাফনের সময় নড়ে উঠল নবজাতক!

ফরিদপুরে চিকিৎসকের মৃত ঘোষণার পর একটি নবজাতক বেঁচে ওঠার ঘটনায় ব্যাপক আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে। জন্ম নেওয়ার কিছু সময় পর চিকিৎসকেরা নবজাতককে মৃত ঘোষণা করেন। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে দাফনের জন্য নেওয়া হয় গোরস্থানে। দাফনের ঠিক আগে নড়েচড়ে ওঠে শিশুটি। পরে দ্রুতই শিশুটিকে নেওয়া হয় শিশু হাসপাতালে। বর্তমানে শিশুটিকে শিশু হাসপাতালের ইনকিউবিটরে রাখা হয়েছে।

এমন ঘটনায় হতবাক হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা। চিকিৎসকের অবহেলার বিচার দাবি করেছেন তারা।

ফরিদপুর শহরের কমলাপুর এলাকার বাসিন্দা নাজমুল হোসেন মিঠুর স্ত্রী অ্যাডভোকেট নাজনীন আক্তার প্রসবজনিত ব্যথা নিয়ে বুধবার রাত ১১টার দিকে ভর্তি হন ফরিদপুর শিশু হাসপাতালে। হাসপাতালে নেওয়ার পর রাত ১টার দিকে প্রসূতির নরমাল ডেলিভারি হয়। নাজনীন জন্ম দেন একটি ছেলে সন্তানের। বেশ কিছু সময় পর শিশু হাসপাতালের কর্তব্যরত গাইনি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রিজিয়া আলম নবজাতকটিকে মৃত ঘোষণা করেন। রাতেই লাশ বুঝিয়ে দেওয়া হয় পরিবারের স্বজনদের কাছে।

পরিবারের সদস্যরা বৃহস্পতিবার ভোরে নবজাতক শিশুটিকে আলীপুর গোরস্থানে দাফন করার প্রস্তুতি নিলে দাফনের আগে নড়েচড়ে ওঠে শিশুটি। সঙ্গে সঙ্গেই শিশুটিকে আবার নেওয়া হয় শিশু হাসপাতালে। শিশুটিকে হাসপাতালের ইনকিউবিটরে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকদের এমন অবহেলায় হতবাক শিশুটির স্বজন ও স্থানীয়রা।

নবজাতক শিশুর বাবা নাজমুল হোসেন মিঠু বলেন, লাশ দাফনের জন্য আলীপুর কবরস্থানে কবর খোঁড়া হয়। গোরস্থানের মসজিদের ইমাম দাফনের সব আয়োজনও সম্পন্ন করেন। কিন্তু লাশের মাথা কোনদিকে আছে দেখতে গিয়ে চোখ ছানাবড়া হয়ে ওঠে দাফন করার কাজে নিয়োজিতদের।

আলীপুর কবরস্থানের কেয়ারটেকার বিল্লাল হোসেন বলেন, শিশুটির লাশের কাফনের কাপড় খুললে দেখা যায় সে জীবিত রয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ডা. রিজিয়া আলম বলেন, এ ব্যাপারে রিপোর্ট যা করার আমি অফিসে করেছি। আমি এ বিষয়ে কোনো কথা বলবো না।

শিশু হাসপাতালের পরিচালনা পরিষদের সদস্য শওকত আলী জাহিদ বলেছে, ঘটনাটির বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হাসপাতাল থেকে মৃত ঘোষণার পর নবজাতক বেঁচে উঠার ঘটনায় শহরজুড়ে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং চিকিৎসকদের অবহেলায় আর যাতে এমন অনাকাক্ষিত ঘটনা না ঘটে সেজন্য দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন শিশুটির স্বজনেরা।






মন্তব্য চালু নেই