মেইন ম্যেনু

দারুণ “স্বাস্থ্যসম্মত” হওয়া স্বত্বেও যে খাবারগুলো খাবেন না মোটেই !

অনেক সময় আমরা অনেক খাবার খেয়েই ভেবে থাকি যে আমরা অনেক স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাচ্ছি। খাবার গুলো নির্বাচনে হয়তো ভুল থাকে না কিন্তু ভুল থাকে খাবার রান্না বা প্রক্রিয়াজাত করণের প্রক্রিয়ার উপর, অনেক স্বাস্থ্য সম্মত খাবারও তখন বর্জন করা বাঞ্ছনীয় হয়ে পরে। এখানে সেই ধরনের কয়েকটি খাবার উল্লেখ করা হলো-

টিনজাত টমেটো: অনেকেই ভাবেন যে টমেটো একটি স্বাস্থ্যকর খাবার হোক না সেটা টিনজাত। কিন্তু না, টিনজাত টমেটো কোনভাবেই স্বাস্থ্যকর নয়। কারন টিনের ক্যানের ভেতরের দিকের আস্তরণে থাকে কৃত্রিম ইস্ট্রোজেন যা “বিসফেনল এ” বা বিপিএ(BPA)নামে পরিচিত। আর এই বিপিএ এর সাথে হৃদরোগ, প্রজনন সমস্যা, ডায়াবেটিস, স্থুলতা ইত্যাদির সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে। অনেকের এই টিনজাত টমেটো খেয়ে অ্যাসিডিটি হয় যার কারন হচ্ছে এই বিপিএ যা মোটেই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। যদি প্রক্রিয়াজাত করা টমেটো খেতেই হয় তাহলে কাঁচের বোতলের টমেটো খাবেন বা পাস্তা সস খাবেন।

প্রক্রিয়াজাত করা চেরি ফল বাজারে পাওয়া প্রক্রিয়াজাত চেরিঃ বাজারে প্রাপ্ত প্রক্রিয়াজাত করা চেরি ফল কেক বা খাবার ডেকোরেশন থেকে শুরু করে অনেক কিছুতেই ব্যবহার করা হয়।এতে থাকে অনেক ক্ষতিকর লাল রঙ এবং চিনি যা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো না। তাই প্রক্রিয়াজাত করা চেরির পরিবর্তে যদি সম্ভব হয় তাজা চেরি খান এবং ব্যবহার করুন।

সামুদ্রিক টিনজাত মাছ: আমরা জানি মাছ খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে খুবই ভালো। বিশেষ করে মাছে থাকে স্বাস্থ্যকর ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড। তবে মাছ আমাদের জন্য তখনই ভালো যখন সঠিক ধরনের মাছ আমরা বাছাই করতে পারবো। কারন তাজা মাছ খাওয়া অবশ্যই সাস্থসম্মত। টিনজাত সামুদ্রিক মাছ না খাওয়াই উত্তম। তবে অনেক সময় কিছু তাজা মাছও আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য বিপদ জনক হতে পারে যেমন সোর্ড ফিস। এই মাছটিতে মার্কারির পরিমান এতো বেশি যে, এটা যে কোন ব্যক্তির জন্য খাওয়া বিপদজনক বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের জন্য। মার্কারিতে থাকে শক্তিশালী নিউরোটক্সিন যা জন্মগত ত্রুটি ও হার্ট অ্যাটাকের জন্য দায়ী।

ফলের জুস: ফলের জুস স্বাস্থ্যকর একটি পানীয়। তবে সব ফলের জুস বেশি পরিমানে খাওয়া স্বাস্থ্যকর নয়। বাইরে থেকে কেনা এক গ্লাস কমলার জুসে থাকে প্রায় ৪ টির মত কমলা এবং অনেক চিনি।কমলাতে রয়েছে অনেক বেশি ফ্রুক্টোজ। কিন্তু আমাদের শরীর একসাথে এত বেশি ফ্রুক্টোজ গ্রহণ করার ক্ষমতা রাখে না। এটি শরীরের শর্করার মাত্রা হঠাৎ করে অনেক বৃদ্ধি করে ফেলে আবার খুব তাড়াতাড়িই নেমে যায় এর ফলে হাইপোগ্লাইসেমিয়া হতে পারে। এক গ্লাস তাজা কমলার রস মাঝে মাঝে খাওয়া কোন সমস্যা না তবে চিনি দেয়া বিশেষ করা বাইরের কেনা যেকোনো জুস প্রতিদিন খাবার তালিকায় রাখা কোন ভাবেই উচিত নয়।

এনার্জি বারঃ বাজারে যে সমস্ত এনার্জি বার পাওয়া যায় সেগুলোর সর্ব প্রথম উপাদানই হলো চিনি। এটি ক্যান্ডি বারের আরেকটি রূপ মাত্র। তাই এই এনার্জি বার গুলো এখনই খাওয়া বন্ধ করুন। এতে সামান্য কিছু ভিটামিন আর খাদ্য আঁশের কথা বলা থাকে দেখে এটাকে স্বাস্থ্যকর খাবার ভাবার কোন কারন নেই। এটি শুধুমাত্র চিনি এবং ক্যালরিতে ভরপুর থাকে। এর চেয়ে যেকোনো একটি তাজা ফল এবং এক মুঠ বাদাম খেলে অনেক বেশি শক্তি পাওয়া যাবে।

স্টিক মার্জারিনঃ আমরা অনেকেই জানি যে বাটার থেকে মার্জারিন বেশ স্বাস্থ্য সম্মত খাবার। বেশির ভাগ স্টিক বাটারে অনেক বেশি পরিমানে ট্রান্স ফ্যাট থাকে। ট্রান্স ফ্যাট হচ্ছে একটি ক্ষতিকর ফ্যাট। এটা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করে, ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় এবং রক্তনালীতে জমাট বাধায় এবং ক্ষতিগ্রস্ত করে। কিন্তু বেশির ভাগ স্টিক মার্জারিনও থাকে উচ্চ ক্যালরি সম্পন্ন। তাই খাবার তালিকায় স্টিক মার্জারিন না রাখাই ভালো।

ভেজিটেবল চিপসঃ যদি বাসায় তৈরি করে খাওয়া যায় তাহলে ভাল কিন্তু দোকানের চিপস কোনভাবেই স্বাস্থ্যকর নয়। বেশির ভাগ চিপস কোম্পানিগুলো দাবি করে যে তারা আসল ভেজিটেবল দিয়েই তৈরি করে কিন্তু আসলে তা নয়। সেগুলোর বেশির ভাগই আলু বা ভুট্টার স্টার্চে পরিপূর্ণ থাকে আর সামান্য কিছু হয়তো ভেজিটেবল থাকে শুধু রঙটা আনার জন্য। তাই যদি ভেজিটেবল চিপস খেতেই হয় ঘরে তৈরি করে খান।

সিরিয়ালঃ বিভিন্ন ধরনের তথাকথিত স্বাস্থ্যকর অনেক কর্ণফ্লেক্স ধরনের সিরিয়াল বিভ্রান্তিকর হতে পারে। কারন বেশির ভাগ চিনি বা মধুযুক্ত কর্ণফ্লেক্স থাকে চিনিতে পরিপূর্ণ। বিভিন্ন ধরনের কৃত্রিম উপাদানও যোগ করা হয়ে থাকে এসব সিরিয়াল তৈরির সময়। তাই সবচেয়ে ভালো হয় যদি অটমিল বা এই ধরনের সিরিয়াল খান বা একটি ডিম খেয়ে দিনের শুরুটা করেন।

রেস্টুরেন্টের সালাদঃ সালাদ শব্দটি শুনলেই আমাদের চোখ এবং মস্তিস্ক ধরেই নেয় যে এটি হবে একটি স্বাস্থ্যকর খাবার। তবে আপনি যখন মুরগি, চিংড়ী বা এই ধরনের কিছু দেয়া সালাদ কোন রেস্টুরেন্টে খেতে যাবেন তখন আর এই খাবারটি স্বাস্থ্যকর থাকবে না।কারন রেস্টুরেন্টের সালাদের ড্রেসিং এ থাকে প্রচুর ক্যালরিযুক্ত মেয়োনেজ, পনির এবং বাদাম আর অনেক কিছু দিয়ে সেই সালাদের ক্যালরির মাত্রা বাড়িয়ে দেবে। তাই সবচেয়ে ভাল হয় বাসায় নিজে সালাদ তৈরি করে খেলে। আমরা সবাই সচেতন থাকি আমাদের স্বাস্থ্য নিয়ে । কিন্তু প্রায় সময় এসব ভুল করে থাকি । তাই আজ থেকে জেনেশুনে আর ভুল খাবার খাওয়ার কোন মানেই হয় না । রোগ মুক্ত সুস্থ স্বাভাবিক জীবন গড়তে আমাদের এগিয়ে আসা উচিৎ ।



(পরের সংবাদ) »



মন্তব্য চালু নেই