মেইন ম্যেনু

খুশি পর্যটকেরা

দার্জিলিংয়ে ফের চালু টয়ট্রেন

পাহাড়ের পাকদণ্ডী বেয়ে ফের ছুটবে টয়ট্রেন। ট্রয়টেন বলতে এক কথাতেই চলে আসে ভারতের প্রকৃতিকন্যা দার্জিলিং এর নাম। ৫বছর পর ফের ঐতিহাসিক এ ট্রেন সার্ভিস চালু হচ্ছে সেখানে, যেখানে রয়েছে বিশ্বের সর্বোচ্চ রেলস্টেশন ‘ঘুম’ স্টেশন। এটি চালু হচ্ছে একেবারে নিউ জলপাইগুড়ি থেকে দার্জিলিং পর্যন্তই। পরীক্ষামূলক চলাচল সফল হওয়ার পরে, শুক্রবার সকালে বৃষ্টির মধ্যেই ফের এনজেপি থেকে দার্জিলিং রওনা দিল ইউনেস্কোর ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের’ তালিকায় থাকা এই ট্রেন।

২০১০ সালের ১৬ জুন পাগলাঝোরা এলাকায় ধস নেমে ট্রেনের লাইন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছিল। তা মেরামতির আগেই ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ভূমিকম্পে তিনধারিয়া ফের ধস নেমে লাইন উপড়ে যায়। তখন থেকেই পাকাপাকি ভাবেই শিলিগুড়ি-দার্জিলিং সরাসরি ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এরপরে বিক্ষিপ্ত ভাবে শিলিগুড়ি জংশন থেকে তিনধারিয়া এবং পাহাড়ে দার্জিলিং থেকে ঘুম পর্যন্ত টয় ট্রেনে পর্যটকদের জন্য ‘জঙ্গল সাফারি’ বা ‘জয় রাইড’ চললেও শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত সরাসরি টয় ট্রেনের যোগাযোগ ছিল না।

গত বছরের ডিসেম্বর মাস থেকেই শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত পরীক্ষামূলক ভাবে ট্রেন চালাতে শুরু করে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল কর্তৃপক্ষ। তা সফল হওয়ার পরে এ দিন ফের এনজেপি থেকে দার্জিলিঙের উদ্দেশ্যে রওনা দিল টয়ট্রেন। প্রথম দিনে শিলিগুড়ি থেকে এক জন বিদেশি পর্যটক-সহ ১২ জন যাত্রী ছিলেন। সকাল ৯টা নাগাদ নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে টয়ট্রেন ছেড়ে শিলিগুড়ি জংশনে পৌঁছয় ১০টা নাগাদ। দীর্ঘদিন পরে শিলিগুড়ি থেকে সরাসরি দার্জিলিং পর্যন্ত যাওয়ার ট্রেন চালু হওয়ায় উৎসাহিত উত্তরবঙ্গের পর্যটন ব্যবসায়ীরাও। তবে এ দিন ট্রেনের টিকিট কোন কাউন্টারে মিলবে তা নিয়ে এনজেপি এবং শিলিগুড়ি জংশন দুই স্টেশনেই বিভ্রান্তি ছিল। শেষ পর্যন্ত রেল কর্তৃপক্ষ টিকিট ছাড়াই পর্যটকদের ট্রেনে তুলে দেন। পরে সুকনা স্টেশন থেকে সকলের টিকিটের ব্যবস্থা করে দেয় রেল।

রেলের সূচি অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টার সময় এনজেপি থেকে টয়ট্রেন ছাড়বে। শিলিগুড়ি জংশনে পৌঁছে, সেখান থেকে ট্রেন ছাড়বে ৮টা ৪৬ মিনিটে। এরপরে সুকনা, রংটং, তিনধারিয়া হয়ে, টুং, সোনাদা, ঘুম পেরিয়ে টয় ট্রেন দার্জিলিঙে পৌঁছবে বিকেল চারটের সময়। দার্জিলিং থেকেও প্রতিদিনই শিলিগুড়িগামী টয় ট্রেন ছাড়বে। দার্জিলিং স্টেশন থেকে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে ট্রেনটি ছেড়ে এনজেপি পৌঁছবে সন্ধে পৌনে ছ’টা নাগাদ। ট্রেনে দু’টি প্রথম শ্রেণি এবং একটি দ্বিতীয় শ্রেণির কামরা রয়েছে।



« (পূর্বের সংবাদ)
(পরের সংবাদ) »



মন্তব্য চালু নেই