মেইন ম্যেনু

দালালের কারণেই বিপদে ৪৪ নেপালি!

চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে কাজের সন্ধানে বাংলাদেশে এসেছিলেন ৪৭ জন নেপালি নাগরিক। এদের মধ্যে ৪৪ জনের ভিসার মেয়াদ গত জুলাই মাসে শেষ হয়ে যায়। কিন্তু তারপরেও থেকে যাওয়ার কারণে তাদের আটক করেছে পুলিশ। তবে ঢাকায় নিযুক্ত নেপালি রাষ্ট্রদূত এই পরিস্থিতির জন্য এক বাংলাদেশি দালালকে দায়ী করেছেন।

শুক্রবার সকালে পল্লবী থানা এলাকার ডিওএইচএসের ৭ নম্বর রোডের ১০৬০ নম্বর বাসা থেকে ওই নেপালিদের আটক করে পুলিশ। অভিযানের নেতৃত্বে থাকা পল্লবী থানার এসআই শরীফ বলেন, ‘গত মাসেই তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। তাই আইন অনুযায়ী তারা এখন অবৈধ। এই অপরাধেই তাদের আটক করা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘নেপালিদের বাড়িটি ভাড়া নিয়ে দেন ওয়ালিউল্লা নামের এক বাংলাদেশি। তাকেও আটক করা হয়েছে।’

ডিওএইচএসের ওই বাড়িটি ঘুরে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৬তলা বাড়িটিতে রয়েছে ১২টি ফ্ল্যাট। পুরো বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতেন ৪৭ জন নেপালি। সবাই পুরুষ, বয়স ২০ থেকে ৩০। কথা বলতেন হিন্দি ও উর্দুতে। তবে বাইরের কারো সঙ্গে তারা মিশতেন না। প্রতিদিন গাড়িতে করে তাদের নিয়ে যাওয়া হতো। আবার গাড়িতে করে বাসায় রেখে যাওয়া হতো। মাঝে মধ্যে তারা সিগারেট নিতে বা মোবইাল রিচার্জ কার্ড কিনতে নিচে নামতেন।

বাড়িটির কেয়ারটেকার জালাল জানান, কিছু বিদেশি থাকবেন বলে মে মাসে বাড়িটি ভাড়া নেন ওয়ালিউল্লা। গত ২২ মে ৪৭ জন নেপালি ওই বাড়িতে ওঠেন। তারা বনানীর একটি রেস্টুরেন্টে চাকরি করতেন। সময়মত বাড়ি ভাড়াও পরিশোধ করতেন। কিন্তু ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিসান হোটেলে হামলার পরই ডিওএইচএসে কোনো মেস না রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বাড়ির মালিকেরা। সে অনুযায়ী ওই বাড়ির মালিক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশরাফুল আলম খানও ব্যাচেলার নেপালিদের বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দেন।

এদিকে জুলাই মাসেই ৪৭ জনের মধ্যে ৪৪ জনেরই ভিসার মেয়াদ শেষ হয়। মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য তারা পাসপোর্টগুলো দেন ওয়ালিউল্লাকে। কিন্তু তিনি সময়মতো মেয়াদ বাড়িয়ে নিতে না পারায় সমস্যায় পড়েন নেপালিরা। তারা আর বাসাও ছাড়তে পারেন না। ভিসার মেয়াদ থাকায় ৩ জন বাসা ছেড়ে যান।

পল্লবী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দাদন ফকির বলেন, তাদের এখন ওই বাসাতেই নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। নেপাল দূতাবাসের সঙ্গে কথা বলে তাদের ফেরত পাঠানোর কাজও শুরু হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘অ্যাম্বাসি যদি আটকদের ফেরত নেয়ার ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ না নেয়, সেক্ষত্রে ৪৪ নেপালির বিরুদ্ধে ফরেন অ্যাক্টে মামলা করা হবে।’

তবে আটক নেপালিদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া ছাড়া অন্য কোনো অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেও জানান ওসি দাদন ফকির।

এদিকে অবৈধভাবে অবস্থানের অভিযাগো রাজধানীর পল্লবী থেকে আটক ৪৪ নেপালি নাগরিকের মধ্যে অনেকেই শুক্রবার (০৫ আগস্ট) রাতেই ফেরত যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত নেপালের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ধান বাহাদুর আলী। বাকিদেরও শনিবার (০৬ আগস্ট) বা রোববারের (০৭ আগস্ট) মধ্যে সড়ক পথে দেশে পাঠানো হবে।

রাষ্ট্রদূত বলেছেন, ‘বাংলাদেশ-নেপালের বন্ধুত্ব অনেক দৃঢ়। সেখানে যেন কোনো প্রতারক চিড় ধরাতে না পারে, সেটিও দু’পক্ষকেই লক্ষ্য রাখতে হবে।’

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন, ‘এ ঘটনায় ওয়ালিউল্লা নামে একজন দালাল ঢাকায় হোটেল কর্তৃপক্ষকে যেমন প্রতারিত করেছে, তেমনি নেপাল থেকে আসা মানুষদেরও প্রতারিত করেছে। এ ধরনের প্রতারকদের বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’



(পরের সংবাদ) »



মন্তব্য চালু নেই