মেইন ম্যেনু

কাজ শেষ না হতেই পুরো বিল পরিশোধ

দায়িত্ব অবহেলায় ৫ বছরেও শেষ হয়নি সয়দাবাদ-এনায়েতপুর বাই লেন প্রকল্পটি

সিরাজুল ইসলাম শিশির, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপদ বিভাগের দায়িত্বরত কর্মকতাদের অব্যবস্থপনা দায়িত্ব অবহেলা এবং ঠিকাদারদের দুনীর্তির কারণে সিরাজগঞ্জ সয়দাবাদ-এনায়েতপুর ১৯.৫ কিলোমিটার বাইলেন রাস্তাটি এখন প্রায়ই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে ।

জানা যায় যে, সয়দাবাদ থেকে এনায়েদপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ পর্যন্ত ১৯.৫ কিলোমিটার রাস্তাটির করার জন্য সরকার সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপদ বিভাগকে ২৬.৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় । সড়ক ও জনপদ বিভাগ তা, ঢাকা জাতীয় সিভিল ইঞ্জিনিয়ার লি: (এনসিইএল) ফার্ম কে কাজ করার অনুমতি প্রদান করে দুটি প্যাকেজে , প্যাকেজ নং-৩ ছিল ১২.৯৩ কোটি টাকা,এবং ১৩.১৫ কোটি টাকা বরাদ্দা ছিল প্যাকেজ নং-৪, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৯ এপ্লিল ২০১১ সালে প্রকল্পটির কাজ উব্ধেধন করেন এবং সিডল অনুসারে কাজ শেষ করা কথা ছিল ৩০ জনু ২০১২ ।

কিন্তু ঠিকাদারদের চরম দুনীতি ও সড়ক বিভাগের দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের অধিক দায়িত্ব অবহেলার কারণে পাঁচ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর রাস্তাটির কাজ এখন পর্যন্ত শেষ হয়নি । প্রকল্পটির নির্ধরিত সময় ছাড়াও ২০১২, ২০১৩, ২০১৪, ২০১৫ এবং ৩০ জুন ২০১৬ পর্যন্ত চারটি ধাপে রাড়ানো হয়েছিল কিন্তু তাতে কোন ফল হয়নি ।

সরজমীনে প্রকল্পটির এলাকায় পরিদর্শন করে এই রিপোর্টার দেখেন যে, প্রথম পর্যায়ে যেটুকু রাস্তা মেরামত করা হয়েছিল সেই সকল জায়গায় বিভিন্ন স্থানে ভেঙ্গে গিয়ে মুল সড়ক থেকে ছিন্ন বিছিন্ন হয়ে রয়েছে, নিম্মমানের প্রয়োজনীয় উপকরন ব্যবহার করার ফলে একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তটির গর্ত সৃষ্টি হয় রাস্তাটি অকার্য হয়ে পড়ে , গাড়ি চলাচল তো দুরের কথা মানুষ পায়ে হেঁটেও যেতে পারে না । রাস্তাটির উপড়ে মানুষ গরুর গোবর, গাছাপালা, খেড়ের পালা ও অন্যান্য জিনিস ফেলে রেখেছে । মনে হয় সড়ক ও জনপদ বিভাগের দেখার কেউ নেই ।

বেলকুচি উপজেলার বারাকান্দি গ্রামের শহীদুল ইসলাম (৪০) জানান, নিম্মমানের উপাদান যেমন: বালি, ইট, মাটি ইত্যাদি ব্যবহার করার ফলে রাস্তাটি ব্যবহার করা অসম্ভব , তাছাড়াও সামান্য বৃষ্টি নামলে পানি বেধে মুল রাস্তা থেকে অধিকাংশ বিলীন হয়ে যায় ।

তিনি আর বলেন আমাদের এলাকা অনেক ঘনবসতি, অধিক সংখ্যাক লোক এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে সেই সঙ্গে এই বাইলেনটি হলে এই এলাকার মানুষের অনেক উপকার হবে । কিন্তু এই রাস্তাটি হতে আর কত দিন লাগবে জানি না ।

সয়দাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নবীদুর ইসলাম জানান, বেলকুচি এবং এনায়েতপুর হলো তাঁতশিল্প ও পোষাক শিল্প এলাকা এবং সেখানে প্রায় অধিক সংখ্যা যানবাহন চলাচল করে সেহেতু এই বাই লন রাস্তাটি ঐ এলাকার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ন । কিন্তু ৫ বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও রাস্তটির কাজ এখন পর্যন্ত শেষ নেই এবং জনসাধারণের জন্য খুলে দেয়া হয়নি তবে রাস্তাটি এখন বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে।

সিরাজগঞ্জ থেকে বেলকুচি রোডের বাস ড্রাইভার আব্দুল মান্নান বলেন, তিনি প্রায়ই উপরের হাইওয়ে রাস্তা দিয়ে ড্রাইভিং করতে অসুবিধা বোধ করেন কারণ এই রাস্তা দিয়ে অধিক সংখ্যাক ছোট ছোট যানবাহন যেমন:রিক্র, ভ্যান, নসিমন, সি এন জি ইত্যদি চলাচল করে যা সর্ম্পন্ন অবৈধ, রাস্তা না থাকার কারণে তারা উপড়ের রাস্তা ব্যবহার করছে এবং প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে , বাইলেনটা থাকলে দুর্ঘটনাটা অনেক অংশ কমে যাবে । কিন্তু বাইলেন সর্ম্পন্ন হওয়া দুরের কথা, কোন কুল কিনারা খুজে পাওয়া যাচ্ছে না ।

সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ-বিভাগীয় পৌকোশলী (এসডি-১) জানান যে, তারা ঠিকাদারদের উদ্দেশ্য একাধিক বার নোটিশ পাঠিয়েছেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কিন্তু তারা সেটা কানেই নেয়নি । এমনকি ধাপে ধাপে চার বার সময় বাড়ানো হয়েছে কাজ সম্পন্ন করার জন্য এবছর ৩০ জুন ২০১৬ তাদের শেষ তারিখ ছিল ।

এছাড়াও কাজ না করেও ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ হয়েছে কিনা এই রিপোর্টার তাকে জিঞ্জাস করলে, তিনি জানান, তাদের সকল বিল পরিশোধ করা হয়েছে , কিন্তু তাদের কিছ’ জামানতের টাকা আমাদের কাছে জমা আছে ।

তাছাড়াও রাস্তাটির সর্বশেষ অবস্থা কি, এই সর্ম্পকে সিরাজগঞ্জ নির্বাহী পৌকোশলী আবু হেনা মোস্তফা কামালের বক্তব্য নেওয়ার জন্য বার বার চেষ্টা করলেও তার অফিসে এবং ফোনে তাকে খুঁজে পাওয়া যায় নি ।






মন্তব্য চালু নেই