মেইন ম্যেনু

দিনাজপুরের সেই ভিক্ষুকের মেয়ে এখন জার্মানির এমপি!

পশ্চিমবঙ্গর রাজ্যের উত্তর দিরাজপুরের দিনাজপুর জেলার এক হত দরিদ্র ভিক্ষুকের মেয়ে নন্দিনী এখন জার্মানির প্রভাবশালী সংসদ সদস্য (এমপি)। আবারও প্রমাণিত হলো- দারিদ্রতা কখনও চলার পথের বাঁধা হতে পারে না।

হ্যাঁ, ভারতের পশ্চিম বঙ্গের উত্তর দিরাজপুরের এক বাঙালি মেয়ের সাফল্যগাঁথা এখানে তুলে ধরা হয়েছে। বাবা ভিক্ষুক হওয়া সত্ত্বেও নিজের ইস্পাত কঠিন ইচ্ছাশক্তির জোরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি ভারতের উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের মেয়ে হলেও তার পূর্বপূরুষ ছিলেন বাংলাদেশের দিনাজপুরের বাসিন্দা।

তিনি ভিক্ষুক বাবার পরিবারে দারিদ্র্যতাকে নিত্য সঙ্গী করে বেড়ে উঠেছেন রায়গঞ্জ আর দূর্গাপুরে। তার বাবা ফকির ছিলেন স্থানীয় একটি মন্দিরের দায়িত্বে। প্রতিদিন মন্দিরের আশেপাশের বাড়িগুলো থেকে চাউল তুলতেন মন্দিরের জন্য, সে চাউলের একটি অংশ মন্দিরে দিতেন আর একটি অংশ তিনি নিজে রাখতেন। মাঝেমধ্যে নন্দিনীও তার বাবার সাথে গ্রামে গ্রামে ঘুরতেন চাউল সংগ্রহ করার জন্য। তার বয়স যখন ৬ বছর তখন তিনি ভর্তি হন দুর্গাপুর স্কুলে।

ভালো ফলাফল করে নন্দিনী আসেন রায়গঞ্জ কলেজে। তার বয়স যখন ১৮ বছর তখন হরিনাথ ফকির মারা যান। যদিও নন্দিনীর আর কোন ভাই বোন ছিলেন না তবুও তার মাকে নিয়ে খুব বেকায়দায় পড়েন তিনি। কিন্তু হাল ছাড়েননি। প্রতিকূলতার মাঝে নন্দিনী কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা সাহিত্যে ভর্তি হন।

সেখানে পড়াকালীন তিনি একটি ছোট্ট পত্রিকায় খন্ডকালীন চাকরি পান মডারেটর হিসেবে। নন্দিনী বেশ সফলতার সঙ্গে তার পড়াশোনা চালিয়ে যেতে থাকেন। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে আবারো বাধ সাধে বিধাতা। নন্দিনীর একমাত্র ভরসা তার মা পৃথিবী থেকে স্বর্গে চলে যান। মা হারানোর শোকে তখন তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েন।

এরপর কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সবাইকে অবাক করে অভাবনীয় ফলাফল করেন নন্দিনী। ইতিহাস ঐতিহ্য এবং ভাষা ও সংস্কৃতিতে উচ্চতর গবেষণার জন্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বৃত্তি নিয়ে পাড়ি জমান সুদূর জার্মানিতে। সেখানে সারলান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।

একসময় বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন বিদেশী শিক্ষার্থীরা তাদের ফান্ড বৃদ্ধির জন্য আন্দোলন করেন নন্দিনী সে আন্দোলনের অগ্রভাগে ছিলেন। সবার দৃষ্টি পড়ে নন্দিনীর উপর। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন নন্দিনী জড়িয়ে পড়েন রাজনীতিতে।

সোস্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি অফ জার্মানি দলের সাথে নন্দিনীর সখ্যতা ক্রমেই বাড়তে থাকে। একসময় এ পার্টিতে নন্দিনীর অবস্থান হয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে (এশীয় অঞ্চল)।

একই সাথে ওই পার্টি থেকে প্রকাশিত পত্রিকার মূল সম্পাদনার দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন অদ্যবধি। গতবছরের নভেম্বরে সারলান্ডের আনাট্রপলি অঞ্চলের উপনির্বাচনে নন্দিনী তার পার্টি থেকে নমিনেশন পান এবং সিডিএফের প্রার্থী জন্টসকে ৩০২ ভোটের ব্যাবধানে হারান।

প্রায় ১০ বছর হলো কোলকাতা থেকে নন্দিনী জার্মানিতে রয়েছেন। তবে এরমধ্যে দেশে এসেছেন মাত্র ২ বার। নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন জার্মানিতে অবস্থানরত প্রবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য। নন্দিনী বিয়ে করেছেন সারলান্ড অঞ্চলের স্বনামধন্য ব্যাবসায়ী বেঞ্জামিনকে।

নন্দিনী-বেঞ্জামিন দম্পতির বর্তমানে ২ ছেলে রয়েছে। আসছে মার্চে কোলকাতা আসবেন দারিদ্র্যকে জয় করা এ কৃতী নারী। সময় পেলে পূর্ব পুরুষের ভিটা বাংলাদেশেও একবার ঢুঁ মারবেন। নিবেন বুক ভরে সজীব নিঃশ্বাস।






মন্তব্য চালু নেই