মেইন ম্যেনু

দিনাজপুরে বিলুপ্ত হতে চলেছে দেশীয় প্রজাতির মাছ !

শাহ্ আলম শাহী, স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর থেকেঃ দিনাজপুরে বিলুপ্ত হতে চলেছে দেশীয় প্রজাতির মাছ। সেই সাথে বিদায় নিয়েছে “মাছে ভাতে বাঙালি” প্রবাদ। এ অঞ্চলের খাল বিল, পুকুর, নদ-নদীসহ মুক্ত জলাশয় গুলো মাছ শূন্য হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে খাল বিল,নদ-নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ার ফলে দেশীয় প্রজাতির মাছ আর পড়ছেনা চোখে।

ইতিমধ্যে এ অঞ্চল থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে পাবদা, সরপুঁটি, চপড়া,তিতপুঁটি, টেংরা, চান্দা, কৈ, শিং, মাগুর,গচি,পোয়আ,তিন কাটা-উরুয়া, ডারিকা, বালিয়া দাড়ি পোয়আ, শৈল, কাকিলা,কৈইলসা, গজার, বোয়াল, বাইম, আইর চিতলসহ দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। গ্রামালের ছোট বড় হাট বাজারগুলোতেও এ প্রজাতির মাছ আগের মতো এখন আর তেমন দেখা যায় না। বাজারগুলোতে এ প্রজাতির মাছের আমদানি একেবারেই কমে গেছে। জেলার ১৩ উপজেলার বিভিন্ন হাট- বাজারে যাও কিছু মাছ আমদানি হয় তাও আবার চলে যায় বিত্তবানদের হাতে।

সাধারণ মানুষের কপালে এসব মাছ আর জোটে না। দেশীয় প্রজাতির প্রায় সব মাছের বংশ বৃদ্ধির হার আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। এসব স্থান দখল করে নিয়েছে বিদেশী বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। জেলার হাট বাজারগুলোতেই দেশীয় প্রজাতির মাছে ব্যাপক সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে আগামী ৫ বছরের মধ্যে নদ-নদী, খাল বিলসহ মুক্ত জলাশয় গুলো প্রাকৃৃতিক মাছ শূন্য হয়ে পরবে বলে আশংকা করছে পরিবেশবিদরা। বিগত এক দশক আগেও দেশী প্রজাতির প্রাকৃতিক মাছের কোনো ঘাটতি ছিল না।

গ্রামের মানুষ পাতাজাল, ধর্মজাল, বেড়াজাল ইত্যাদি দিয়ে মাছ ধরত। মাছ খেতে খেতে বিমুখ হয়ে যেত গ্রামাঞ্চলের মানুষ। এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাসান ফেরদৌস জানান, জলাশয় ভরাট, নদ-নদী পনি শুণ্য, জনসংখ্যা বেড়ে যাওযায় মৎস্য আহরণের চাপ বেড়ে গেছে। অপরদিকে, সেচ দিয়ে মাছ মেরে ফেলা হয়।

জমিতে কীটনাশক ব্যবহারের প্রভাবে দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্তি হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে ভাবিষ্যতে হয়তো দেশীয় প্রজাতির মাছ চিরতরে হারিয়ে যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।






মন্তব্য চালু নেই