মেইন ম্যেনু

দীর্ঘ ৫ বছর পরিশ্রম করে প্রধানমন্ত্রীর জন্য তৈরী করেছেন বিশাল আকৃতির চেয়ার

মৌলভীবাজারের কুলাউউড়া উপজেলার ব্রাম্মন বাজার ইউনিয়নের হিঙ্গাজিয়া গ্রামের এক গরিব কাঠ শ্রমিক দীর্ঘ ৫ বছর পরিশ্রম করে প্রধানমন্ত্রীর জন্য তৈরী করেছেন বিশাল আকৃতির দৃষ্টিনন্দন দশ মন দশ কেজি ওজনের একটি চেয়ার।

এদিকে দীর্ঘদিন ৫ বছরপর প্রধানমন্ত্রীর জন্য তৈরী এই চেয়ারের কাজ শেষ হয়েছে শুনে উৎসুক জনতা ভীর জমিয়েছেন তার চেয়ারের পাশে। মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার হিঙ্গাজিয়া গ্রামের এক গরীব মায়ের ছেলে আতিক হাসান।

তার বয়স যখন ৮ বছর তখন সহায় সম্পদ বিক্রি করে তার বাবা সৌদি আরবে পাড়ি জমান। কিন্তু বিধি ব্যাম সৌদি আরবে যাওয়ার পর থেকে আজওবধি তার বাবা রয়েছেন নিখোঁজ। জীবিকার অন্নেসনে বাধ্য হয়ে কৈশরেই আতিক বের হন কাজের সন্ধানে ।

আর ভাগ্যে জুটে গ্রামেরই এক কাঠ মিস্তিরি রিপন সুত্র ধরের জোগালী/ হেলপার হিসেবে। নিজে কাজ শেখার কয়েক বছর পর মনে মনে কল্পনা করেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার জন্য একটি চেয়ার তৈরী করার। আর তার অদম্য ইচ্ছা শক্তির বলে নিজের চরম দারিদ্রতার মাঝেও ২০১০ সালের নভেম্বর মাসে শুরু করেন সে চেয়ার তৈরীর কাজ।

ক্রমে ক্রমে টাকা যোগার করে তিল তিল করে এক সময় তৈরী হয়ে যায় সাড়ে ৭ফুট উচ্চতা ও তিন ফুট ৪ ইঞ্চি প্রস্তের অপূর্ব সুন্দর চেয়ারটি। এ চেয়ার আতিক আট ফুট একাশী ও ৯ ফুট সেগুন কাঠ ব্যবহার করে এর মধ্যে জুড়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, জাতীয় ফুল শাপলা ও আওয়ামীলীগের প্রতিক নৌকা।

এ ছাড়াও বিভিন্ন জাতের ফুলের কারুকাজসহ চেয়ারটিতে রয়েছে চা গাছের কুড়ি, মাছের আস, আনারসের চোখ, আঁখের গিট, শংঙ্খ মোড়া, হাতির সুর, কলসী ও মার্বেলসহ অসংখ্য প্রতিকি ডিজাইন। চেয়ারের সাথে রয়েছে গোলাকৃতির একটি পা দানিও।

এর মধ্যে সোনালী ও বার্নিস কালার ছাড়াও লাল, কালো সবুজ ও সাদাসহ বিভিন্ন রং এর সংমিশ্রন ঘটিয়েছেন এই চেয়ারে। আর কাজ শেষ করে যখন চেয়ারটি কাগজে মুড়িয়েছেন এর জন্য তাকে ৫ কেজি গেজেট/পুরাতন পেপার ব্যবহার করতে হয়েছে।

এদিকে দীর্ঘ ৫বছর পর চেয়ারের কাজ গত বৃহস্পতিবার শেষ হওয়ার খবর সরব হলে চেয়ারটি দেখতে দলে দলে লোকজন ভীর করছেন তার দোখানে। তবে কিভাবে এ চেয়ারটি প্রধানমন্ত্রীকে দিতে হবে এ বিষয়টি এখনও তার জানা নেই। এ দিকে এলাকাবাসী প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবী রাখেন তিনি যেন এটি সংগ্রহের ব্যবস্থা নেন।

হতদরিদ্র আতিকের এই চেয়ারটি প্রধানমন্ত্রী যদি গ্রহন করেন তা হলে তার কর্মের সার্থকতা পাবে বলে জানান স্থানীয় বাসীন্ধারা। এ ব্যাপারে আতিক হাসান এ প্রতিবেদককে জানান, নিজের সংসার দারিদ্রতার কষাঘাতে জড়জড়িত থাকায় তার মনের ইচ্ছা পোষনের এই চেয়ারটি তৈরী করতে তার সময় লেগেছে ৫ বছর। নিজের কাজের ফাঁকে ফাঁকে অল্প অল্প কাঠ যোগার করে তিনি বাড়িতে বসে এই চেয়ারটি তৈরী করেছেন।

তবে বেশি ভাগ কাজই তিনি করেছেন রাতে। চেয়ারটিতে তিনি মোট ৮ফুট একাসী ও ৯ফুট সেগুন কাঠ ব্যবহার করেছেন । তিনি জানান ৫ বছর আগে কারিতাস থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে এই কাজের শুরু করেন। বর্তমানে এই টাকাও ফেরত দিয়ে দিয়েছেন।

তিনি জানান, চেয়ারটি তৈরী করার পর যারা জেনেছেন তারা এসে দেখে যাচ্ছেন। অনেকেই এই চেয়ারে বসে ছবি তুলতে চান কিন্তু তিনি তা করতে দেন না। এমনটি এই চেয়ারে তিনি নিজেও কখনও বসেননি। তার মনোবাসনা এই চেয়ারে বসবেন এক মাত্র প্রধানমন্ত্রী। এদিকে চেয়ারটির সৌন্দর্য দেখে সিলেটের এক শিল্পপতি এর জন্য তাকে দুই লক্ষ টাকা অফার করেছেন। কিন্তু তিনি তাকে ত্যাক্ত ভাবেই প্রত্যাখ্যান করেছেন।

তিনি জানান, এটি দুই লক্ষ নয় ২ কোটি টাকা হলেও বিক্রি করবেন না। এ চেয়ারটি নিয়ে চেখের সামনে একটিই কল্পনা চেয়ারে বসবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আলাপ করে জানাযায়, আতিক অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারে এক সন্তান। সংসারে অভাব অনটনের কারনে সহায় সম্ভল বিক্রি করে তার বাবা মো. রেণু মিয়া প্রায় ২৫ বছর আগে সৌদি আরবে যান। কিন্তু তার বাবা সৌদি আরবে যাওয়ার পর থেকেই তিনি রয়েছেন নিখুঁজ।

এরপর থেকে তার মামার বাড়িতে একটি মাটিওয়ালের ঘরে তার মা ও ২ বোনকে নিয়ে কোন রকমে জীবন যাপন করে আসছেন আতিক। ২০ বছর আগে কাঠ শ্রমিক হিসেবে যে কাজ শুরু করেছিলেন আজও তিনি কাঠ শ্রমিকই আছেন। পুজির অভাবে পারেন নি ফার্নিসারের দোখান দিতে। বর্তমানে স্থানীয় হিঙ্গাজিয়া বাজারে হামিদ ম্যানশনে একটি ঘর ভাড়া নিলেও পুঁজির অভাবে নিজে কোন কাজ করতে পারেনা।

কন্টাক বেইজে অন্য ফার্নিসার দোখানীর কাজ তিনি করেদেন। আর প্রধানমন্ত্রীর জন্য তৈরী এই চেযারটিও এই মার্কেটে মালিককে বলে একটি কক্ষে রেখেছেন। এদিকে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা বিশিষ্ট সমাজসেবী মুহিবুর রহমান জানান, এতা বড় চেয়ার তার জীবনে কোথাও দেখেননি। আতিক তার এলাকার দক্ষিন হিঙ্গাজিয়া গ্রামের দরিদ্র পরিবারে সহজসরল একটি ছেলে। তার মধ্যে বঙ্গবন্ধু প্রীতি খুব বেশি।

বঙ্গবন্ধুকে কল্পনা করে তার সুযোগ্য কন্যা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী জন নেত্রী শেখ হাসিনার জন্য সে এই চেয়ারটি তৈরি করে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় সাংবাদিকদের মাধ্যমে অবহিত হয়ে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান জানান, বাংলাদেশে অনেক প্রতিভাবান মানুষ রয়েছেন যারা প্রায়ই তাদের মেধা ও মননের পরিচয় দিয়ে থাকেন। তবে কাছাকাছি সময়ে তিনি আতিকের তৈরী ব্যতিক্রমী এই চেয়ারটি দেখতে যাবেন বলে জানান।






মন্তব্য চালু নেই