মেইন ম্যেনু

দুই দফা রিমান্ডেও মুখ খুলতে চাইছেন না হাসনাত

দুই দফা রিমান্ডেও মুখ খুলতে চাইছেন না গুলশানে হলি আর্টিজার বেকারিতে জঙ্গি গ্রেপ্তার হাসনাত আর করিম। পুলিশ বলছে, যথেষ্ট প্রমাণ দেখানোর পরও ইনিয়ে বিনিয়ে সব অস্বীকারের চেষ্টা করছেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সাবেক এই শিক্ষক। ফলে তাকে আরো জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন বলে মনে করছে পুলিশ।

পুলিশ বলছে, গুলশানের হলি আর্টিজানে হাসনাত করিমের উপস্থিতি, তার শারীরিক ভাষা, জঙ্গিদের সঙ্গে তার হাস্যোজ্জ্বল ছবি এবং কথোপকথন প্রমাণ করে তিনি এই ঘটনায় জড়িত। এসব কিছু জিজ্ঞাসাবাদে হাসনাতকে বলাও হয়েছে। কিন্তু তিনি একেকবার একেক কথা বলে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন।

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, ‘হাসনাত করিমকে দুই দফায় রিমান্ডে নিয়ে তথ্য আদায় আমাদের কাছে যথেষ্ট নয়। তাকে আরো নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন।’

নর্থ সাউথের সাবেক শিক্ষকের বিরুদ্ধে উগ্রবাদে সম্পৃক্ততার অভিযোগ পুরনো। নিষিদ্ধ সংঘঠন হিযবুত তাহরীর সঙ্গে সম্পৃক্ততার দায়ে ২০১২ সালে তাকে নর্থ সাউথ থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর কয়েক বছর তিনি কী করেছেন, কেন সেদিন হলি আর্টিজানে গিয়েছেন, কেন তার মোবাইল ফোনে বিশেষ অ্যাপস ডাউনলোড করে জঙ্গিদের ছবি পাঠিয়েছেন-এসব বিষয় রিমান্ডে জানতে চেয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

হাসনাতের দাবি, স্ত্রী- ছেলে মেয়েদেরকে নিয়ে তিনি জন্মদিন পালন করতে আর্টিজান বেকারিতে গিয়েছিলেন। ওই রাতে সেখানে হামলার পর জঙ্গিরা ১৭ বিদেশিসহ ২০ জনকে হত্যা করলেও হাসনাতের গোটা পরিবারকেই কিছু বলেনি।

শুধু তাই নয়, জঙ্গিরা সেদিন হাসনাতের পরিবারের সদস্যদেরকে সেহরি খাওয়ার সুযোগ দিয়েছেন। এতগুলো মানুষের মরদেহের পাশে বসে অবলীলায় তারা খাবার খেয়েছেনও। হামলার পর হাসনাত জঙ্গিদের সঙ্গে ছবি তুলেছেন এমন কথাও প্রচার আছে।

ওই হামলার পরদিন সকালে আর্টিকানের ছাদে অস্ত্রধারী জঙ্গিদের সঙ্গে হাসনাতকে হাঁটতে দেখা গেছে। এ সময় তিনি ধূমপান করছিলেন, অনেকক্ষণ আলাপ-আলোচনা করেছেন।

তবে হাসনাত করিমের বাবা রেজাউল করিম বলেছেন, ‘আমার ছেলে পরিস্থিতির শিকার। সে যদি প্রকৃতভাবে জঙ্গিদের সঙ্গে জড়িত থাকত তাহলে সে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে কেন সেখানে যাবেন।’

গুলশানের জঙ্গি হামলার পরের দিন যে ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয় তার মধ্যে ছিলেন হাসনাত করিম ও তার পরিবারের সদস্যরা। পরে সবাইকে ছেড়ে দিলেও হাসনাত আর কানাডার বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র তাহমিদ হাসিব খান বাড়ি ফেরেননি। তাদেরকে পুলিশ আটক করেছে- স্বজনরা এমন অভিযোগ করেছিলেন, যদিও পুলিশ তা অস্বীকার করে।

আর গুলশান হামলার এক মাসের কিছু সময় পর গত ৪ আগস্ট গুলশানের-তেজগাঁও লিঙ্ক রোড থেকে হাসনাত করিমকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় পুলিশ। আর পরদিন আদালতে উপস্থাপন করে আট দিনের রিমান্ড চায় বাহিনীটি।

রিমান্ড শেষে গত ১৩ আগস্ট আবার আদালতে তুলে আবার আট দিনের রিমান্ডে নেন তদন্ত কর্মকর্তা। সেদিন তাকে গুলশান মামলায় প্রথম আসামি হিসেবে গ্রেপ্তারও দেখানো হয়। তাহমিদকে সেদিন পুলিশ দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে নিলেও তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।খবর ঢাকাটাইমসের।






মন্তব্য চালু নেই