মেইন ম্যেনু

দুই নারী জঙ্গি ফের ৬ দিনের রিমান্ডে

রাজধানীর আশকোনার সূর্য ভিলায় জঙ্গিবিরোধী অভিযানে আত্মসমর্পণকারী দুই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফের ৬ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

শুনানি শেষে সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত সিকদারের আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এই দুই নারী হলো- প্রাক্তন মেজর ও মিরপুরের রূপপুরে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিহত জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী জেবুন্নাহার শীলা এবং পলাতক জঙ্গিনেতা মুসার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা ওরফে তৃষ্ণা।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পরিদর্শক সায়েদুর রহমান সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় দুই নারীকে আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের পুনরায় দশ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের বৃহৎ স্বার্থে ও তাদের সহযোগী পলাতক জঙ্গি সদস্যদের নাম, ঠিকানা সংগ্রহ, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার উদ্দেশ্যে অর্থের যোগানদাতাদের তথ্য সংগ্রহ এবং গ্রেপ্তার ও ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে আরো জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন। এ জন্য তাদের দশ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হোক।

তবে এদিন আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। আসামিদের কিছু বলার আছে কি না তা জানতে চান বিচারক। আসামিদের মধ্যে জেবুন্নাহার আদালতকে জানান, মেয়েকে নিয়ে কষ্ট হচ্ছে।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক আদেশে উল্লেখ করেন, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হলো। উচ্চ আদালতের নির্দেশ মেনে সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেওয়া হলো। আসামিরা নারী বিধায় জিজ্ঞাসাবাদের সময় নারী পুলিশকে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেন বিচারক।

রিমান্ড শুনানিকালে জেবুন্নাহারের কোলে দেড় বছরের শিশু এবং তৃষ্ণার কোলে চার মাসের শিশু ছিল।

এর আগে গত ২৬ ডিসেম্বর এ দুই আসামির সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

প্রসঙ্গত, গত ২৩ ডিসেম্বর রাত ২টার দিকে দক্ষিণখানের পূর্ব আশকোনায় ৫০ নম্বর সূর্য ভিলায় জঙ্গি আস্তানা ঘেরাও করে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ও ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট। সেখানে ১৬ ঘণ্টার ‘অপারেশন রিপল ২৪’ নামের জঙ্গিবিরোধী অভিযানে দুই জঙ্গি নিহত হয়। তারা হলো- জঙ্গি সুমনের স্ত্রী শাকিরা এবং আজিমপুরে নিহত জঙ্গি তানভীর কাদরীর কিশোর ছেলে আফিফ ওরফে শহীদ ওরফে আদর কাদরী। এ সময় এক শিশু আহত হয়। দুই শিশুসহ দুই নারী আত্মসমর্পণ করে।

এ ঘটনায় ২৫ ডিসেম্বর রাতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে পুলিশ বাদী হয়ে দক্ষিণখান থানায় মামলা দায়ের করে। অভিযানের সময় আত্মসমর্পণকারী চারজনসহ আটজনকে আসামি করা হয়।






মন্তব্য চালু নেই