মেইন ম্যেনু

দুই বিদেশি খুনে পুলিশের সন্দেহ রাষ্ট্রবিরোধী চক্রান্তে

রাজধানীতে ইতালির এক নাগরিক দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হওয়ার ছয়দিনের মধ্যেই রংপুরে এক জাপানিকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ছয়দিনের মধ্যে দেশে দুই বিদেশিকে হত্যার ঘটনাকে পরিকল্পিত বলছেন গোয়েন্দারা।

দুটি হত্যাকাণ্ডেই তৃতীয় কোনো পক্ষকে সন্দেহের তালিকায় রেখে জোর তদন্ত শুরু করেছেন তারা। এর বাইরে ওই দুই বিদেশির নিজ দেশে এবং বাংলাদেশে কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল কি না সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে দেশকে অস্থিতিশীল করতে তৃতীয় কোনো রাষ্ট্রবিরোধী চক্র এই ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে- এমন সন্দেহকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

গত সোমবার সন্ধ্যার পর গুলশান-২ এলাকার কূটনৈতিক পাড়ায় তাভেল্লা সিজার নামে এক ইতালির নাগরিককে গুলি করে হত্যা করে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

এরপর আজ শনিবার সকালে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার আলুটালি মহিষওয়ালা মোড়ে হোসি কোনিও নামে এক জাপানি নাগরিককে হত্যা করে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

পুলিশ ও র‌্যাবের গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, দুটি ঘটনাই পরিকল্পিত এবং আগে থেকেই রেকি করে হত্যার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। দুটি হত্যাকাণ্ডের ধরণ দেখে এই বিষয়টি স্পষ্ট যে, দীর্ঘ সময় ধরে পরিকল্পনা করে ঘটনা ঘটানো হয়েছে। হত্যার ধরনও প্রায় একই। এ কারণেই, তদন্তে দেশবিরোধী চক্রান্তকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

তাভেল্লা সিজারকে হত্যার ছয়দিন পরও তদন্তের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি করতে পারেনি পুলিশ। সিজার হত্যার ঘটনা তদন্তকারী সংস্থার তদন্ত সংশ্লিষ্ট দুইজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বীকার করেন, এই ঘটনার তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। তবে তারা যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করছেন।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম শুরু থেকেই বলে আসছেন, এই ঘটনায় তৃতীয় কোনো পক্ষ জড়িত আছে কি না, তা গোয়েন্দারা জোর দিয়ে তদন্ত করছেন।

ঘটনার ছায়া তদেন্ত করছে র‌্যাব। র‌্যাব-১ এর কর্মকর্তা মেজর আসিফ কুদ্দুস বলেন, এই ঘটনার তদন্তে এখনো পর্যন্ত বলার মতো কোনো অগ্রগতি নেই। তবে সব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েই আমরা তদন্ত করছি।

এদিকে রংপুরে জাপানি নাগরিক হোসি কনিওকে হত্যার পেছনে দেশবিরোধী চক্র জড়িত রয়েছে কি না এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাব-১৩ এর অপারেশন অফিসার মো. দোলন বলেন, সব বিষয়কেই গুরুত্ব দিয়ে ছায়া তদন্ত করছে র‌্যাব। দেশবিরোধী চক্র এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

র‌্যাব-১৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল কিসমত হায়াৎ বলেন, র‌্যাব ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। ঘটনার পর থেকেই র‌্যাবের একাধিক টিম তদন্ত কাজ শুরু করেছে।

রংপুর জেলা পুলিশ জানিয়েছে, দুর্বৃত্তদের গুলিতে জাপানি নাগরিক হোসি কোনিও হত্যার ঘটনায় কোনিও যে বাড়িতে থাকতেন সেই বাড়ির মালিক, ব্যবসায়িক অংশীদার, রিকশাওয়ালাসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে।

রংপুর জেলা পুলিশ সুপার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এই ঘটনায় চারজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনাটি পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। হত্যার পেছনে ব্যক্তিগত, ব্যবসায়িক বা অন্য কোনো কারণ আছে কি না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

সাত মাস আগে ইতালিয় নাগরিক তাভেল্লা সিজার বাংলাদেশে আসেন। অপরদিকে জাপানি নাগরিক হোসি কনিও আসেন ২৮ আগস্ট।



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই