মেইন ম্যেনু

দুই লাখ প্রবাসীর এমআরপি ‘না নেওয়ার ৫ কারণ’

হাতে লেখা পাসপোর্ট যুগের অবসান ঘটলেও বিদেশে থাকা প্রায় দুই লাখ বাংলাদেশি কর্মীর এমআরপি করাতে সাড়া পাওয়া যায়নি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন এর কারণ হিসেবে পাঁচটি বিষয়কে চিহ্নিত করেছেন।

তার মতে, ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেটের’ সঙ্গে নামের মিল না থাকা, বয়সের গড়মিল, আরব দেশগুলোতে ‘কফিল’ বা চাকরিদাতার কাছে পাসপোর্ট জমা থাকা, ভিসার মেয়াদ শেষে পাসপোর্ট ফেলে দেওয়া এবং অসচেতনতাই এর কারণ।

বুধবার থেকে বিশ্বের সব বিমানবন্দরে হাতে লেখা পাসপোর্টের পরিবর্তে শুধু যন্ত্রে পাঠযোগ্য (মেশিন রিডেবল) পাসপোর্ট বা এমআরপি গ্রহণযোগ্য।

আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) সিদ্ধান্ত মেনে ২০১০ সালের ১ এপ্রিল বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর এমআরপি তৈরি ও বিতরণ শুরু করে।

এরপর দূতাবাসের মাধ্যমে প্রবাসীদের এমআরপি দেওয়া শুরু হলেও তাতে অনেক প্রবাসীর সাড়া না পাওয়ার তথ্য বিভিন্ন সময়ে উঠে আসে।

অতিরিক্ত সচিব মোস্তফা কামাল মঙ্গলবার বলেন, বিদেশে অবস্থানরত এ ধরনের ‘অনিচ্ছুক’ বাংলাদেশির সংখ্যা প্রায় দুই লাখ।

এ পর্যন্ত যে এক কোটি ২৫ লাখ নাগরিক এমআরপি নিয়েছেন, তার মধ্যে প্রায় ২৩ লাখ ১০ হাজার প্রবাসী বলে জানান তিনি।

প্রায় দুই লাখ প্রবাসীর এমআরপি না নেওয়ার কারণগুলো তুলে ধরে অতিরিক্ত সচিব বলেন, প্রথমত অনেকে ভিন্ন নামে পাসপোর্ট করে বিদেশে গিয়েছিলেন।

“এখন যদি ওই ব্যক্তি সঠিক নামে পাসপোর্ট করাতে যান, তাহলে তার চাকরি থাকবে না। এখন পাসপোর্ট করাতে হলে ফিঙ্গার প্রিন্ট দিতে হবে, তাতে নাম বা তথ্য বদলের বিষয়টি ধরা পরে যাবে। এই ভয়ে অনেকে আসছেন না।”

অনেকে আবার বয়স কমিয়ে বা বাড়িয়ে বিদেশে গিয়েছিলেন। সে কারণেও তাদের অনেকে এখন এমআরপি নিতে চাচ্ছেন না বলে মনে করেন তিনি।

তৃতীয় কারণ হিসেবে মোস্তফা কামাল বলেন, “নিয়ম না থাকলেও অনেকের পাসপোর্ট কফিলের (চাকরিদাতা) কাছে জমা আছে। পাসপোর্ট দিলে তারা অন্য প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিয়ে চলে যেতে পারেন এই ধারণা থেকেই মালিকরা পাসপোর্ট আটকে রাখেন। যাদের পাসপোর্ট এভাবে আটকে আছে তারা চাইলেও এমআরপি করাতে পারছেন না।

“আবার আরেকটি দল আছে, যারা ভিসা ও পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশ গেছেন। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাসপোর্ট ফেলে দিয়েছেন; তারাও আগ্রহী নন।”

শেষ কারণ হিসেবে অতিরিক্ত সচিব বলেন, যাদের হাতে লেখা পাসপোর্টের মেয়াদ ২০১৮ পর্যন্ত লেখা আছে। তারা মনে করছেন, দেশে এসেই এমআরপি করবেন।

নতুন নিয়মে বুধবার থেকে এমআরপি ছাড়া বাংলাদেশ থেকে কেউ বিদেশে যেতে পারবেন না। তবে বিদেশ থেকে প্রবাসীদের বাংলাদেশে ফিরতে বাধা নেই বলে জানান নিরাপত্তা ও বর্হিগমন শাখার এই কর্মকর্তা।

অবশ্য যারা বিদেশে রয়েছেন, তারা বাংলাদেশ দূতাবাসে গিয়েই পাসপোর্ট করিয়ে নিতে পারেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালও মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, বিদেশ অবস্থানরত বাংলাদেশিরা দূতাবাস থেকে সাত দিনে এমআরপি করাতে পারেন।

যারা এখনও এমআরপি নেননি বা পাননি, তাদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “কারও যদি কিছুই না থাকে, তাহলে ‘ট্রাভেল পারমিট’ ফরম পূরণ করে দূতাবাসে জমা দিলেও দেশে আসতে পারবেন।”

বর্তমানে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীর সঠিক সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেননি মন্ত্রী।

এমআরপি দেওয়া নিয়ে কোনো অভিযোগ নেই দাবি করে তিনি বলেন, “৬৪ জেলায় ৬৮ অফিস আছে। বাংলাদেশে আর বিদেশে আছে ৬০টি অফিস। এসব অফিস থেকে ডেটা নিয়ে আগারগাঁও পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আগারগাঁওয়ে আমরা প্রতিদিন ২০ হাজার পাসপোর্ট তৈরি করতে পারি।”






মন্তব্য চালু নেই