মেইন ম্যেনু

দুই হাজার বছর পুরনো রোমান ভিলা

পৃথিবীর উল্লেখযোগ্য সভ্যতাগুলোর মধ্যে রোমান সভ্যতা অন্যতম। অর্থনৈতিক-সামরিক ও কৌশলগত দিক দিয়ে তৎকালীন সময়ে রোমান সাম্রাজ্যের সমকক্ষ কেউ ছিল বলে জানা যায় না। বর্তমান সভ্যতার নানান সময়ে রোমান সভ্যতার অনেক নিদর্শন প্রত্নতাত্ত্বিকদের কল্যাণে পাওয়া গিয়েছে। আবার এমনও হয়েছে যে, প্রত্মতাত্ত্বিকদের খোড়াকুড়ি ছাড়াই সাধারণ মানুষও অনেক নিদর্শন আবিষ্কার করেছে। যেমনটা করেছে রোম শহরের রাস্তায় খোড়াখুড়ির কাজে রত শ্রমিকেরা।

সম্প্রতি রোমের একটি রাস্তার নিচে কাজ করার সময় শ্রমিকরা প্রায় দুই হাজার বছরের পুরনো একটি রোমান ভিলা আবিষ্কার করে। যে স্তরে ভিলাটি পাওয়া যায়, সেখান থেকে প্রায় বারো ফুট গভীরে গেলেই ভিলাটির মূল প্রাঙ্গণে চলে যাওয়া যায়। প্রত্নতাত্ত্বিকদের একটি দল প্রাপ্ত ধ্বংসস্তুপ থেকে প্রাপ্ত নানান উপাদান পরীক্ষা করে আরও নিখুতভাবে তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা চালাচ্ছেন। ভিলাটির দেয়ালগুলো বিভিন্ন রংয়ের ফুলের নকশা করা। যার মধ্যে মূলত লাল, সবুজ এবং রক্তবর্ণ রংয়ের কাজই বেশি।

প্রত্নতাত্ত্বিকরা ধারণা করছেন, ভিলাটির মূল কক্ষ যা অনেকটাই ভিলার বাইরে অনেকদূর বিস্তৃত, তার আয়তন প্রায় বিশ ফুট লম্বা। এত বড় কক্ষ থেকেই অনুমান করা যায় যে, ভিলাটি তৎকালীন সময়ে কোনো ধনাঢ্য ব্যক্তিরই ছিল। রোমের ইসকুইলিন রাস্তায় এর আগেও এমন কয়েকটি ছোটো স্থাপনা পাওয়া গিয়েছিল, কিন্তু এবারের ভিলাটি অন্যান্য সকল প্রাপ্ত নির্দশন থেকে অনেক বেশি আনকোড়া। ভৌগোলিকভাবে দেখতে দেখা যায়, রোমের এই স্থানেই মূলত তৎকালীন শহর ব্যবস্থায় সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের বসবাস ছিল।

প্রত্নতাত্ত্বিক মিরেল্লা সেরোলরযেন্নি বলেন, ‘এই ভিলাটি সম্পর্কে নিখুত তথ্য দেয়া এখনই সম্ভব নয়। অনেক পরীক্ষা করেই তবে কিছু বলা যেতে পারে। তবে এটা ঠিক যে, এটা সত্যিই একটা দুর্দান্ত আবিষ্কার। এই এলাকায় আগে শহর ব্যবস্থাপনা খুব পরিপাটি করে করা হয়েছিল তা এই ভিলা দেখে বোঝা যাচ্ছে। ভিলাটি থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন মুর্তি ও সামগ্রী জাদুঘরে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।’ বর্তমানে পুরো ভিলাটি ঢেকে রাখা হয়েছে এবং সার্বক্ষনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই