মেইন ম্যেনু

দুধদাঁতের আবার যত্ন কী? কথাটি ভুল…..

শিশুর হাসি-মায়ের খুশী। শুধু কি মা? শিশুর প্রাণ খোলা হাসতে খুশী পুরো পরিবার-ই। সেই হাসি আরো প্রাণবন্ত করে তুলতে নিয়েমিত যত্ন নিতে হবে শিশুর দাঁতের। শিশুর দাঁতের যত্ন নিয়ে কথা হয় বারডেম জেনারেল হাসপোতালের দন্ত বিভাগের অধ্যাপক ডা. অরুপ রতন চৌধুরী`র সাথে। ‍`অনেকে মনে করেন শিশুর দুধদাঁত তো পড়েই যায়, এর আবার যত্ন কিসের? আসলে সুস্থ দাঁতের সূচনা-ই হয় কিন্তু দুধদাঁত থেকে। এমনকি দাঁত ওঠার পর নয়, এই দাঁতের যত্ন শুরু হয় মায়ের পেট থেকেই। মায়ের পেটে যখন শিশুর বয়স ৫ মাস তখন শুরু করা উচিত শিশুর দাঁতের যত্নের।’ এমন চমকপ্রদ কথা দিয়েই শুরু করেন ডা. অরুপ রতন চৌধুরী।

মায়ের পেটে থাকা অবস্থায় শিশুর যত্ন মানে মায়ের খাবার-দাবারের মাধ্যমে তার পুষ্টির যোগান দেওয়া। অরুপ রতন চৌধুরী আরো পরামর্শ দেন, যে নবজাতক শিশুর দাঁত এখনো ওঠেনি, তার দাঁত বা মাড়ির যত্নের প্রয়োজন নেই, তা নয়। ছোট্ট শিশুটির দাঁত ওঠার আগে ও পরে চাই যত্ন।

শিশুকে ফিডার নয় : শিশুর জন্মের পর ছয় মাস পর্যন্ত কেবল মায়ের বুকের দুধই একমাত্র আদর্শ খাদ্য- এটা সবাই জানেন। অনেক মা শিশুকে ফিডারে কৌটার দুধ, কখনো স্বাদ বাড়ানোর জন্য চিনি মিশিয়ে দিয়ে থাকেন। এটা শিশুর পুষ্টি ও স্বাস্থ্যের জন্য তো খারাপই, দাঁতের জন্যও খারাপ। এতে নতুন দুধদাঁতেও ক্যারিজ বা ক্ষয় হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। এ ছাড়া মায়ের বুকের দুধে যথেষ্ট পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও পুষ্টি উপাদান রয়েছে, যা শিশুর মজবুত দাঁত গড়তে সহায়ক। কৌটার দুধে তা নেই। দাঁত না থাকলেও নবজাতক শিশুর মুখ ও মাড়ি পরিষ্কার রাখা উচিত। তাই রাতে বুকের দুধ খাওয়ানো শেষ হলে পাতলা ফ্লানেলের কাপড় অথবা তুলা দিয়ে দাঁতের ওপর থেকে দুধের আবরণ পরিষ্কার করে দিন।

শিশুর দাঁত ওঠার পর : সাধারণত ছয় মাস বয়স থেকে শিশুর মুখে দাঁত গজাতে শুরু করে। সে তখন যা কিছু সামনে পায় সেটাই কামড়াতে চায়। তাই এ সময় শিশুর হাতের কাছে বিষাক্ত বা ধারালো কোনো দ্রব্য, নোংরা জিনিস বা ওষুধপত্র রাখা উচিত নয়। কামড়ানোর জন্য বাজারে কিছু সামগ্রী পাওয়া যায়, তা শিশুর হাতে দেওয়া যায়। কিন্তু খেয়াল রাখুন, যেন তা পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুমুক্ত থাকে। দাঁত ওঠার সময় শিশুর হাতে শক্ত বিস্কুটজাতীয় কিছু দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু এমন কিছু দেবেন না যা গিলে ফেললে তার গলায় আটকে যেতে পারে।

ব্রাশ করুক দুধদাঁতও : শিশুকাল থেকেই দাঁত ব্রাশের অভ্যাস গড়ে তুলুন। মা সকালে ও রাতে শিশুর সামনেই দাঁত ব্রাশ করবেন। শিশুরা খুব অনুকরণপ্রিয়। তাই শিশুর হাতে দাঁত ওঠার শুরুতেই একটা ব্রাশ দেওয়া ভালো। একটু বড় হলে শিশুকে হাতে ধরিয়ে সঠিক পদ্ধতিতে ব্রাশ করা শিক্ষা দিতে হবে। শিশুদের উপযোগী ব্রাশ ও টুথপেস্ট বাজারে পাওয়া যায়। এমন টুথপেস্ট যা গিলে ফেললেও সমস্যা নেই। বাড়ন্ত শিশুর দাঁতের ক্ষয় রোধে ফ্লোরাইড কার্যকরী, তাই এই টুথপেস্ট ফ্লোরাইড মিশ্রিত হলে ভালো। আর অবশ্যই ব্রাশ করার পর তাকে কুলি করার জন্য গ্লাসে বা মগে ফুটিয়ে ঠান্ডা করা খাবার পানি দিন, কলের পানি নয়।

দুধদাঁতগুলোর যত্ন নিন : শিশুর দুধদাঁত কখনো কখনো ১১ বছর বয়স পর্যন্ত মুখে অবস্থান করে। অনেকের ধারণা এই দাঁত তো পড়ে যাবে, তাই এর যত্নের দরকার নেই। কিন্তু তা যদি সুস্থ ও সুরক্ষিত না থাকে পরবর্তী স্থায়ী দাঁতগুলোতেও সমস্যা হতে পারে। দুধদাঁতের শিকড়ে প্রদাহ অনেক দিন স্থায়ী থাকলে স্থায়ী দাঁতের ক্ষতি হয়। দুধদাঁত পড়া ও স্থায়ী দাঁত ওঠার সময়ে শিশুর দিকে নজর রাখা প্রয়োজন। নয়তো স্থায়ী দাঁতগুলো আঁকাবাঁকা বা অসমানভাবে বেড়ে উঠতে পারে।






মন্তব্য চালু নেই