মেইন ম্যেনু

‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ডিসিদের নালিশ

পরীক্ষার সময় নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের উত্তর বলে দেয়া ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে নালিশ করেছেন জেলা প্রশাসকরা। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নেয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার বিকেলে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের প্রথম দিনে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সভায় তারা এ অভিযোগ করেন। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদও দুর্নীতিগ্রস্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে তাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন।

মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে জেলা প্রশাসকরা ছাড়াও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। সভার সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা।

দুর্নীতিগ্রস্ত শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘যেসব শিক্ষকদের কাছে শিক্ষার্থীরা প্রাইভেট পড়েন কিংবা কোনো অনৈতিক সুবিধা লোভে এসব করছেন, তারা শিক্ষক নামে কলঙ্ক। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সভা শেষে সাংবাদিকদের শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘সভায় জেলা প্রশাসকরা নিজেদের বিভিন্ন সমস্যার কথা আমাদের কাছে তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে তারা আমাদেরকে পরামর্শও দিয়েছেন। আমরা প্রশাসকদের সমস্যার কথা শুনেছি, সেই সঙ্গে আমাদের সীমাবদ্ধতার কথাও জানিয়েছি। পুরো সভার মূল আলোচ্য ছিলো শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের বিষয়টি।’

সভায় পঞ্চগড়, মাগুড়া ও শরিয়তপুরের জেলা প্রশাসকরা মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম বাড়ানোর দাবি জানান। এ দাবির প্রেক্ষিতে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে সাড়ে ২০ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম চালু করেছি। পর্যায়ক্রমে সারাদেশে করা হবে।’ সেই সঙ্গে ক্লাসরুম ব্যবহারের জন্য প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান প্রশাসকরা। একই সঙ্গে নষ্ট মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমগুলোর মেরামতের জন্য বরাদ্দের দাবি জানান তারা।

বর্তমান পরীক্ষা পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশাসকরা বলেন, ‘শ্রেণীকক্ষ বন্ধ রেখে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। এতে লেখাপড়া বাধগ্রস্ত হয়।’ মন্ত্রী এ সম্পর্কে বলেন, ‘এ জন্য পরীক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন আনতে হবে। নতুন করতে গেলে অভিভাবকদের পক্ষ থেকে বাঁধা আসে। সৃজনশীল প্রশ্নপদ্ধতি চালুর সময়ও বাঁধা এসেছিলো।’

তিনি বলেন, ‘শিক্ষায় নতুন কিছু বিষয়ে পরিবর্তন এসেছে। প্রশাসকরা সেসব বিষয়ে জানিয়েছেন।’ এজন্য প্রশিক্ষণ দেওয়াসহ আরো পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

প্রশাসকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক জেলায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) রয়েছেন। তাকে শিক্ষার পুরো বিষয় সম্পৃক্ত করে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন করতে হবে। সেই সঙ্গে স্কুলগুলোতে নিয়মিত পরিদর্শন করতে হবে। যেসব স্কুলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ চলছে, তা সঠিবভাবে হচ্ছে কিনা সেটার বিষয়েও খেয়াল রাখতে হবে।’

শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে প্রশাসকদের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসায় শিক্ষক নিয়োগের জন্য পিএসসির আদলে এনটিআরসিই প্রতিষ্ঠা করা হবে। এ প্রতিষ্ঠান শিক্ষক বাছাই থেকে শুরু করে শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি দেখবে।’ এর ফলে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি বন্ধ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী।

সভায় জেলা প্রশাসকরা যা বললেন

সভায় মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক বলেন, ‘সদ্য জাতীয়করণ হওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় ও ৩য় পর্যায়ের শিক্ষকদের এখনো গেজেট প্রকাশিত না হওয়ায় তারা বেতন ভাতা পাচ্ছেন না।’ সভায় প্রশাসকরা দ্রুত গেজেট প্রকাশের দাবি জানান।

মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক বলেন, ‘বেসরকারি একেক প্রতিষ্ঠানে একেক রকম বেতন-ফি নেয়া হয়। এ অবস্থা দূর করার জন্য সব প্রতিষ্ঠানে এক বেতন নীতিমালা গঠন করার প্রস্তাব করছি।’

টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক বলেন, ‘টাঙ্গাইল একটি নদী ভাঙ্গন প্রবণ এলাকা। প্রতিবছরই নদীগর্ভে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিলীন হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রক্ষার্থে আগাম বরাদ্দ দিতে হবে।’

বরিশাল জেলা প্রশাসক বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতি বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। বগুড়ার জেলা প্রশাসক তার জেলায় একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক হাওরাঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর গ্রীষ্মকালীন ছুটি এপ্রিল মাসে নিয়ে আসার দাবি জানান। আর মাগুরার জেলা প্রশাসক প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষক সঙ্কটের কথা উল্লেখ করে নতুন শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানান।






মন্তব্য চালু নেই