মেইন ম্যেনু

দুর্নীতির অভিযোগ থেকে এবার এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যানকে অব্যাহতি

এবার দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদ্য অবসরে সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম হোসেনকে ‘অব্যাহতি’ দিলো দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক)। দুই দফায় অনুসন্ধান শেষে কোনো তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় এসব অভিযোগ থেকে তাকে অব্যহতি দিয়ে কমিশন।

দুদক সচিব আবু মো. মোস্তফা কামাল স্বাক্ষরিত এক নোটিশের মাধ্যমে (যার স্মারক নং- দুদক/ বি. অনু. ও তদন্ত-১/৮০-২০১৩) বিষয়টি নথিভুক্তির (অব্যাহতি) মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়। ইতিমধ্যে এ সংক্রান্ত চিঠির অনুলিপি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট আট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার দুদক সূত্র বাংলামেইল এ তথ্য নিশ্চত করে।

সূত্রটি জানায়, ২০১৩ সালের ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এনবিআরের এই সাবেক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নানা ধরনের দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আমলে নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অভিযোগগুলো অনুসন্ধানের জন্য দুদক উপপরিচালক মো. নাসির উদ্দিনকে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছিল কমিশন। অনুসন্ধান শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা গোলাম হোসেনের দুর্নীতির কোনো তথ্য-প্রমাণ না পেয়ে অভিযোগ থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করে কমিশনে প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলেন তদন্ত কর্মকর্তা। কিন্তু ওই প্রতিবেদন আমলে না নিয়ে পুনরায় অনুসন্ধানের নির্দেশ দেয় কমিশন। তবে দ্বিতীয় দফার অনুসন্ধানেও কোনো ধরনের দুর্নীতির প্রমাণ খুঁজে না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত গত ২ ডিসেম্বর কমিশন থেকে বিষয়টি নথিভুক্তির (অব্যাহতি) মাধ্যমে নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

দুদকে আসা ওই অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অবৈধ সুবিধা নিয়ে রিকন্ডিশন্ড গাড়ির শুল্কায়ন প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান আইনকে পাস কাটিয়ে অবচয় সুবিধা দেয়া, শুল্ক সুবিধায় পণ্য এনে খোলাবাজারে বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও শুল্ক গোয়েন্দাদের সংশ্লিষ্ট গার্মেন্টসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া থেকে বিরত রাখা এবং দেশের একাধিক মোবাইল কোম্পানির সিম প্রতিস্থাপনের জন্য ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় না করার অভিযোগ আনা হয় গোলাম হোসেনের বিরুদ্ধে। তিনি এনবিআর চেয়ারম্যান থাকাকালীন রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিতে ৪৫ শতাংশ অবচয় সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন (এসআরও) জারি করা হয়। এই অবচয় সুবিধা ৬ জুন ২০১৩ সালের আগে আমদানি করা বিল অব এন্ট্রি নেটিংকৃত গাড়ির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু গাড়ি অবচয় সুবিধার বিদ্যমান ১৪৯ নম্বর প্রজ্ঞাপনটি সংশোধন করে নতুন ৩৫৩ নম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। এর ফলে ৬ জুন ২০১৩ সালের আগে আমদানি করা ও নেটিংকৃত প্রায় সাড়ে ৩ হাজার গাড়ি ৪৫ শতাংশ অবচয় সুবিধায় খালাসের সুযোগ পায়। গাড়ি অবচয় সুবিধাসংক্রান্ত সংশোধিত এসআরওর কারণে সরকার ২৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হবে।

এছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও এনবিআরের নিয়োগ ও বদলিতে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ ছিল গোলাম হোসেনের বিরুদ্ধে। এর মাধ্যমে বিপুল পরিমান অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের দীর্ঘ দুই বছরের অনুসন্ধান শেষে অব্যাহতি পেলেন তিনি।

প্রসঙ্গত, এই চলতি মাসেই ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাসকিম এ খানের বিরুদ্ধে আসা ‘ওয়াসার পদ্মা জশলদিয়া পানি শোধনাগার প্রকল্পে সরকারের প্রায় ৫০০ কোটি টাকার ক্ষতিসাধনের আশঙ্কা’ সংক্রান্ত অভিযোগ থেকে শর্ত সাপেক্ষে অব্যাহতি দিয়ে নথিভুক্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করেছে দুদক।



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই