মেইন ম্যেনু

দুর্ভাগ্য, আমার বউ স্বামীর থেকে বেশি ভালবাসে টাকা

-স্যার, আমি সামান্য কমিশনের উপর সংসার চালাই। আপনি যা চাচ্ছেন, তা আমার পক্ষে দেয়া সম্ভব নয়।

-এটা মাছের বাজার নয় যে মুলামুলি করবেন। যা চেয়েছি তাই দিতে হবে। নাহলে ফাইল এভাবেই পড়ে থাকবে।

-স্যার, কার জন্য এত করছেন, কাকে খাওয়াবেন? শুনেছি পরিবারের সাথে আপনার সম্পর্ক খারাপ??

-ও শুনেছেন তাহলে!!! আমার ছেলেমেয়ে কেউ আমাকে বাবা ডাকে না। পিতা বলে কেউ সন্মানই করে না। আমার বউ, সে স্বামীর থেকে বেশি ভালবাসে টাকা। তার শুধু দরকার টাকা আর গয়না। দুর্ভাগ্য, এদের জন্যই টাকা কামাচ্ছি আমি!!

হ্যাঁ, বড়ই দুর্ভাগা ছিলেন তিনি।

ভদ্রলোক শুধু টাকা কামিয়েছেন, এবং কামিয়ে অবশেষে এ দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন চিরতরে। ভোগ করতে পারেননি সেই টাকার সুখ আর শান্তি। ভোগ করছে, পিতা, স্বামী বলে স্বীকার না করা স্ত্রী ছেলে মেয়েরা।

এই ধরণীর ছোট্ট একটি উদাহরণ, কিন্তু সত্য। আমার কাছাকাছি থাকতেন এই ভদ্রলোক পরিবার সহ।

আমার ছোট্ট বড় মা। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে।

জেনেশুনে একটি বিচ্যুতি আমি করিনি জীবনে, একটি দীর্ঘশ্বাসের কারণ হইনি কখনো। কারণ হইনি কারো এক ফোঁটা চোখের জলের। কোন একটি অভিশাপের ছায়া আমার সন্তান বা তার ভবিষ্যৎ বংশধরদের উপর পড়ে, এমন কাজ আমি জীবন থাকতে করব না, এবং করিনি। তা আমার মৃত্যুর সামিল।

আসুন আমাদের সন্তানদের জন্য, ভালবাসা দিয়ে ভরিয়ে দেই এই ধরণী। এরাই আমাদের স্বপ্ন, এরাই বাঁচিয়ে রাখবে আমাদের স্বত্বা, আমাদের অস্তিত্ব চিরদিন।

সব আনন্দ হোক আমাদের সন্তানদের। কষ্ট শুধুই আমাদের।

সেই সন্তানদের কষ্ট দেবেন না, একটি আঁচড়ও দেবেন না প্লিজ। আমরা যে অসহায় পিতা মাতা।

যুগ্ম সচিব জনাব মাহবুব কবির মিলনের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে নেওয়া






মন্তব্য চালু নেই