মেইন ম্যেনু

দুষ্টু ছেলের উদ্দেশ্যে এক মায়ের খোলা চিঠি, ফেসবুকে তোলপাড়

দুষ্টু ছেলের উদ্দেশ্যে এক মা’য়ের খোলা চিঠি ফেসবুকে রীতিমত তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। অনেকেই চিঠিটিকে দুষ্টু ছেলেকে শাসনের উচিত পদ্ধতি বলেও অ্যাখ্যায়িত করেছেন। জনসন ছদ্মনামে লেখা ওই মায়ের হাতে লেখা অভিনব এই চিঠি তার ছেলের উদ্দেশ্যে ফেসবুকে পোস্ট করেন। ছবিটি পোস্ট করা মাত্রই লাইক আর শেয়ায়ের ধুম লেগে যায়। ইতোমধ্যে ছবিটি প্রায় ৮৭ হাজারেরও বেশি লাইক এবং দেড় লাখের বেশি শেয়ার হয়েছে।

ঐ নারীর ছেলের নাম অ্যারন। তিনি ছেলেকে উদ্দেশ্য করে লেখেন, ‘প্রিয় অ্যারন, তুমি হয়তো ভুলে গেছ তোমার বয়স মাত্র ১৩ এবং আমি তোমার মা। কিন্তু তুমি আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছ। আমার ধারণা তোমার স্বাধীনতা সম্পর্কে আরও শিক্ষা প্রয়োজন।’

ঐ নারী তার ছেলের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে চিঠিতে আরও লেখেন, ‘তুমি আমার মুখের ওপর বললে, তুমি এখন পয়সা আয় করতে শুরু করেছ। তোমার উপার্জন দিয়ে তোমার জন্য আমার কেনা সব জিনিসপত্র তুমি নাকি কিনতে পারো। তোমার যদি তাই মনে হয় তবে তুমি এখন থেকে আমার সঙ্গে শেয়ার করা সব জিনিসপত্র এবং অন্যান্য সব খরচ বহন করবে।’

রুমমেটের মত শেয়ার করে থাকতে হলে কি কি খরচ হবে সেটাও চিঠিতে এ নারী উল্লেখ করেছেন। তিনি রীতিমত একটি ফর্দ তৈরি করেছেন। তাতে লেখা আছে, বাড়ি ভাড়া বাবদ অ্যারনকে দিতে হবে ৪৩০ ডলার, বিদ্যুৎ বিল বাবদ ১১৬ ডলার, ইন্টারনেট বিল বাবদ ২১ ডলার এবং খাবার বাবদ ৫০ ডলার। সবমিলিয়ে অ্যারনের খরচ পড়বে ৭১৭ ডলার।

এসব খরচ ছাড়াও মায়ের সঙ্গে অ্যারনের থাকলে সাংসারিক কাজ করতে হবে। চিঠিতে অ্যারনের মা লেখেন, ‘তোমাকে সপ্তাহে তিনদিন অথাৎ শুক্র, সোম এবং বুধবার ময়লার ঝুড়ি ডাস্টবিনে ফেলে দিয়ে আসতে হবে।’

এই তিনদিন ঘরদোর সাফ-সুতোরও করতে হবে। অবশ্যই টয়লেট পরিস্কার করতে হবে। খাবার তৈরি করতে হবে। এসব করতে ব্যর্থ হলে অ্যারনকে গৃহপরিচারিকার ফি বাবদ প্রতিদিন আর ৩০ ডলার গুনতে হবে। যা তাকে অবশ্যই দিতে হবে।

তবে চিঠির নিচের অংশে ঐ নারী সন্তানের ওপর দরদ দেখিয়ে লিখেছেন, তুমি যদি অামাকে রুমমেটের পরিবর্তে মা মনে করো তবে আসো আমরা আলোচনায় বসি।

জনসন ছদ্মনামের ঐ নারী আরেকটি পোস্টে জানিয়েছেন, এই চিঠি তার ছেলের দৃষ্টিগোচড় হয়েছে। তার ছেলের মনোভাব কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে।

এদিকে চিঠিটি নিয়ে ফেসবুক এবং টুইটারে আলোচনা এবং সমালোচনা দুটোই হচ্ছে। তবে বেশির ভাগ মানুষই ঐ নারীর পক্ষ নিয়েছেন। তারা ঐ নারীর বখে যাওয়া সন্তানকে শায়েস্তা করার জন্য এটাকে যুগোপযোগী পন্থা বলে ভাবছেন।






মন্তব্য চালু নেই