মেইন ম্যেনু

দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখুন এই ৮টি কাজে

অন্যান্য সব ইন্দ্রিয়ের চাইতে চোখ থেকেই সবচাইতে বেশি পরিমাণে অনুভূতি গ্রহণ করে মানুষের মস্তিষ্ক। দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হওয়াটা তাই কোনোভাবেই আমাদের জন্য ভালো হতে পারে না। দৃষ্টিশক্তিকে সবসময়ে তীক্ষ্ণ রাখতে হলে খুব মনোযোগ দিয়ে চোখের যত্ন নিতে হবে। এর জন্য শুধু ভিটামিন এ-যুক্ত খাবার খাওয়া যথেষ্ট নয়। ক্ষতি ও রোগের হাত থেকে চোখকে রক্ষা করুন সহজ কিছু কাজের মাধ্যমে।

১) চোখের মেকআপ ব্যবহারে সতর্ক থাকুন

আপনি প্রতিদিন আই মেকআপ ব্যবহার করুন অথবা মাসে একবার, এগুলো নিয়মিত প্রতিস্থাপন করা জরুরী। এসব মেকআপে ঘাঁটি গেড়ে থাকে ব্যক্টেরিয়া এবং সহজেই চোখে ইনফেকশনের সৃষ্টি করতে পারে। যদি এক্সপায়ারি ডেট পার হয়ে যায় অথচ অনেকটা মাসকারা অব্যবহৃত থেকে যায়, তাহলে অনেকেই দামী এই মেকআপ ফেলে দিতে দ্বিধাবোধ করেন। এক্ষেত্রে মাসকারা শুঁকে দেখতে পারেন। এর গন্ধ যদি পচা মাছের মতো লাগে তবে অবশ্যই তা ব্যবহার করা যাবে না।

২) উজ্জ্বল রঙের ফল ও সবজি খান

চোখের স্বাস্থ্যের জন্য শুধু গাজর বা ছোট মাছ নয়, আপনার প্লেটে হলুদ অথবা কমলা রঙের খাবার থাকাটা জরুরী। ডিমের কুসুম, গাজর, মিষ্টি কুমড়া সবই জিয়াজ্যান্থিন এবং লুটেইনের ভালো উৎস। এগুলো বয়সের সাথে চোখের ম্যাকুলার ডিজেনারেশন ধীর করে। বিশেষ করে বয়স ৫০ এর বেশি হলে এমন রঙ্গিন খাবার খাওয়াটা চোখ ভালো রাখতে উপকারী। এছাড়াও গাড় সবুজ রঙের শাক-সবজি যেমন ব্রকোলি, লেটুস, পালং ও অন্যান্য শাক একই উপকার দেয়।

৩) বাচ্চাদের বাইরে খেলতে পাঠান

বর্তমানে বেশীরভাগ শহুরে পরিবারেই জীবন চার দেয়ালে বন্দি। এটা বাচ্চাদের দৃষ্টিশক্তির জন্য খারাপ। বাচ্চাদের বাইরে কিছুটা সময় কাটানো উচিৎ যেখানে আলোটা প্রাকৃতিক এবং দৃষ্টি অনেকদুর যায়।

৪) গ্লুকোমা টেস্ট করান

অনেককেই আক্রান্ত করে এই চোখের রোগটি। এটা অন্ধত্বেরও কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। আগে থেকে শনাক্ত করা গেলে আপনার অপ্টিক নার্ভের ক্ষতি এড়ানো যায়। বয়স ৪০ এর ওপরে গেলে অন্তত প্রতি ২ বছর অন্তর অন্তর গ্লুকোমা টেস্ট করানো উচিৎ। গ্লুকোমার পারিবারিক ইতিহাস বা ডায়াবেটিস থাকলেও তা করানো দরকার।

৫) কাজে বিরতি দিন

অনেক বড় একটা সময় যদি কৃত্রিম আলোয়, স্ক্রিনের সামনে বসে কাজ করেন তাহলে আপনার দৃষ্টিশক্তি কমে যেতে পারে। কাজ থেকে ছোট ছোট বিরতি নিন এবং হাঁটাহাঁটি করুন। ৩০ মিনিট পর পর স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে দূরে কোথাও তাকান। এতে চোখের ওপর স্ট্রেস কম পড়বে। এছাড়াও যেসব কাজে চোখের ক্ষতি হবার সম্ভাবনা আছে সেসব ক্ষেত্রে নিরাপত্তার জন্য গগলস পরিধান করুন।

৬) ৪০ মিনিট হাঁটুন

গ্লুকোমা আছে ইতোমধ্যেই, অথবা হবার ঝুঁকি বেশি, তাহলে শারীরিকভাবে সুস্থ থাকাটা চোখ সুস্থ রাখতেও সাহায্য করবে। সপ্তাহে চারদিন ৪০ মিনিট করে হাটা শরীর সুস্থ রাখতে পারে।

৭) ধূমপান থেকে দূরে থাকুন

সারা শরীরের জন্যই ধূমপান খারাপ, চোখের জন্যেও। বয়সের কারণে সৃষ্ট ম্যাকুলার ডিজেনারেশনের সম্ভাবনা ত্বরান্বিত করে ধূমপান। ধূমপায়ীরা এ থেকে অন্ধও হয়ে যেতে পারেন। ধূমপান ছেড়ে দেবার পরেও দশ বছর পর্যন্ত এই ঝুঁকি থাকতে পারে।

৮) চোখ আর্দ্র রাখুন

অনেকেই সবসময় এসিতে থাকতে অভ্যস্ত। কিন্তু এসি বা ফ্যানের বাতাস যেন ঠিক চোখে না লাগে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকা জরুরী। কারণ এতে চোখ শুকিয়ে যায় এবং চোখে অস্বস্তি হবার পাশাপাশি আই ইনফেকশন এবং আলসারের ঝুঁকি বাড়ায়। তৈলাক্ত মাছ খাওয়াটা এক্ষেত্রে ভালো হতে পারে। বয়স্ক মানুষের চোখ শুকিয়ে যায় বেশি। তাদের জন্য এই কাজটি করা উপকারী। সামুদ্রিক এবং তৈলাক্ত মাছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড থাকে যা চোখকে আর্দ্র রাখতে পারে। এছাড়াও ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিডের অন্যান্য উৎসও খেয়ে দেখতে পারেন।

আরেকটা কাজ করতে পারেন, তা হলো কম্পিউটারের স্ক্রিন আই লেভেলের চাইতে নিচু করে রাখা। এতে আপনার চোখ কাজ করার সময়ে একটু ছোট হয়ে থাকবে, ফলে চোখ সহজে শুকাবে না।

এসব কাজ করার পাশাপাশি যথেষ্ট ঘুমানো, চোখের কিছু ব্যায়াম করা এবং সানগ্লাস ব্যবহার করাটাও জরুরী।






মন্তব্য চালু নেই