মেইন ম্যেনু

দৃষ্টিহীনদের জন্যেও খুলে গেল ফেসবুকের দুয়ার

দৃষ্টিহীন যারা তারা দিব্য দৃষ্টিতে উপভোগ করেন এই পৃথিবী। আমরা যখন কোনো দর্শনীয় স্থানে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের দেখি তখন মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, তারা যেহেতু দেখেন না, তাহলে এখানে এসে কী লাভ? আসলে তারা দেখেন মনের চোখে। তাদের অন্তর্দৃষ্টি বিধাতা খুলে দেন তার অপার মহিমায়। আর এই মনের চোখ দিয়ে দেখতে যারা পিছিয়ে আছেন, অর্থাৎ যাদের কল্পনা শক্তি কম বা ধারণাগত উপভোগের ইন্দ্রিয় কম কাজ করে তাদের জন্যে এবার এগিয়ে এসেছে প্রযুক্তি।

অন্ধরা সাধারণত চোখের কাজ সারেন হাতের ছোঁয়ায়। সেই সূত্র ধরেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্যে তৈরি করা হয়েছিল একটি অ্যাপস। স্ক্রিন রিডার নামের এই প্রযুক্তি এতদিন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের সহায়তা করেছে।

এবার আরো উন্নত সংস্করণে অ্যাপসটি এসেছে গত মঙ্গলবার। অ্যাপসটি ফেসবুকের টাইমলাইনে কী রয়েছে বা ছবিতে কী কী রয়েছে, সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পড়ে শোনাবে যান্ত্রিক কণ্ঠে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে এখন থেকে অন্ধ ব্যক্তিরাও ফেসবুক পোস্ট বা ছবি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাবেন। তবে বর্তমানে এই অ্যাপস শুধুমাত্র আইফোন এবং আইট্যাবেই চলবে। নির্মাতাদের কাছ থেকে আশ্বাস মিলেছে খুব দ্রুতই এই প্রযুক্তি অ্যান্ড্রয়েডেও মিলবে।

তবে এই অ্যাপস নির্মাতারা নিয়েছেন বিশেষ সতর্কতা। কারণ গুগলের ছবি অনুবাদের অ্যাপস থেকে তারা বিরাট শিক্ষা নিয়েছেন। গুগলের ছবি অনুবাদের অ্যাপস একবার এক কালো দম্পতিকে অনুবাদ করেছিল ‘গরিলা’ বলে! ফলে বিশ্বজুড়ে শুরু হয় সমালোচনা, এমনকি বর্ণবাদের অভিযোগও উঠেছিল। তাই এবার এই অ্যাপস সাজানো হয়েছে খুব সতর্কভাবে। যাতে এটা কোনোভাবেই এর ব্যবহারকারীকে বিব্রত বা মানসিক আঘাত না করে।

বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩০ কোটি দৃষ্টিহীন মানুষ বিভিন্ন সামাজিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে। সামাজিক নেটওয়ার্কে শেয়ার করা হয় কোটি কোটি ছবি। কিন্তু দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা এসব ছবি দেখা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই তাদেরকেও সমানভাবে তথ্য ও অন্যান্য সেবা আর সবার মতো করে উপভোগের জন্যেই এই প্রযুক্তি বিশেষভাবে কাজ করে যাবে। ফলে দৃষ্টিহীন মানুষও অন্যের সহায়তা ছাড়াই বুঝতে পারবেন ছবির বিষয়বস্তু।

এই অ্যাপসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করা হয়েছে যা কিনা ছবির ব্যক্তি এবং তার চারপাশের ঘটনা বর্ণনা করতে সক্ষম। তবে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ নতুন এই প্রযুক্তি যাকে বলা হচ্ছে ‘অটোমেটিক অলটারনেটিভ টেক্সট’ নিয়ে বেশ আশাবাদী। আবার একই সঙ্গে বেশ সতর্কও। কারণ এই প্রযুক্তির একটু হেরফের অর্থাৎ ধারাবিবরণীর সামান্য ভুল বোঝাবুঝি তাদের জন্যে হতে পারে মারাত্মক হুমকি। সুতরাং বর্তমানে এর অনেকটা পরীক্ষামূলক ব্যবহার চলছে। তাই একে শুধুমাত্র আইফোনের গ্রাহকদের মাঝেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।

অ্যাপসটির সফলতাই হয়তো এর ব্যাপক ব্যবহার নিশ্চিত করবে। তবে এটাও ঠিক, অনেক বড় বড় আবিষ্কার অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার ভেতর দিয়েই যায়। আবার অনেক সুবিধার বিপরীতে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত অসুবিধাও থাকে। এটাই পৃথিবীর স্বাভাবিক নিয়ম। কেউ ইন্টারনেটের সঠিক ব্যবহার করেন আবার কেউ এর অপব্যবহার করেন। এটা নির্ভর করে ব্যবহারকারীর ওপর। তাই কেউ যদি অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে এমন কোনো ছবি এমনভাবে উপস্থাপন করেন যা ব্যবহারকারীকে বিব্রত বা আঘাত করবে, এ কারণে নিশ্চয়ই প্রযুক্তিকে দোষ দেয়া যাবে না। এখন দেখা যাক, অ্যাপসটি কতটা সফলভাবে এর ব্যবহারকারীকে সন্তুষ্ট করতে পারে।






মন্তব্য চালু নেই