মেইন ম্যেনু

‘দেনা শোধের পর ডিজেলের দাম কমাব’

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের ভর্তুকি দেওয়া ঋণ পরিশোধের পর প্রয়োজনে ডিজেলের দাম কমানো হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দশম সংসদের নবম অধিবেশনে বুধবার বিকেলে প্রশ্নোত্তর পর্বে ঢাকা-৭ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিমের এক সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে সংসদকে তিনি এ কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পেট্রোল আমরা কিনি না। আমাদের গ্যাস ফিল্ড থেকে বাই প্রোডাক্ট হিসেবে যে পেট্রোল আসে সেটা আমরা রফতানি করি। ডিজেলের দাম কমানোর বিষয়টা আসছে।

প্রশ্নকর্তা সংসদ সদস্যকে প্রশ্ন করে তিনি বলেন, যখন বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছিল তখন আমরা সাবসিডি দিয়ে কম দামে ডিজেল বিক্রি করেছি। যার ফলে আমাদের পেট্রোলিয়াম করপোরেশনে হাজার হাজার কোটি টাকা লোন হয়ে গেছে। ৩৮ হাজার কোটি টাকা লোন আসে। ভ্যাট, শুল্ক বাকি। এই প্রথম আমরা কিছুটা সাশ্রয় করতে পারছি। যখন আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের দাম বেড়েছিল তখন কিন্তু সংসদ সদস্য এই দাবি করেননি— আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের দাম বেড়েছে আমরাও দাম বাড়াই। সেটা কিন্তু কেউ বলেন না। বরং আমরা যদি ১ টাকা ২ টাকা বাড়িয়েছি সেটার জন্য ভাঙচুর-স্ট্রাইক এসেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন যে অবস্থা আছে তাতে আমাদের পেট্রোলিয়াম করপোরেশন কিছু আয় করে ঋণ শোধ করছে। ইতোমধ্যে ৫ হাজার কোটি টাকা লোন শোধ করা হয়েছে। আরও লোন আমাদের শোধ করতে হবে। তারপরও ট্যাক্স রয়েছে, ভ্যাট রয়েছে, তা পরিশোধ করতে হবে। এখনো প্রায় ১৫-১৬ হাজার কোটি টাকা আমাদের শোধ করার অপেক্ষা। এতদিন যাবত ভর্তুকি দিলাম। যে লোনটা নেওয়া হলো ডিজেল কেনার জন্য সেগুলো যখন পরিশোধ করা হবে তখন ধারদেনা শোধ করার পর প্রয়োজন হলে দাম কমাব।

তিনি বলেন, জাপান, চায়না, ভারত থেকে শুরু করে ইউরোপিয়ান দেশগুলো দেশে বিনিয়োগ করছে। জাপান এখানে ৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে। ভারতও দিচ্ছে। চায়নার আরও বড় বড় অফার আসছে। পৃথিবীর বড় বড় দেশ বাংলাদেশে লাইন দিচ্ছে বিনিয়োগ করার জন্য। তাদের কাছে বাংলাদেশ বিনিয়োগের সবচেয়ে উঁচু ক্ষেত্র।

পাইপ লাইনে বাসায় গ্যাস ব্যবহার নিরুৎসাহিত

সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমানের এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাইপলাইনে বাসা-বাড়িতে গ্যাস ব্যবহার আমরা নিরুৎসাহিত করতে চাচ্ছি। সিলিন্ডারে এলপিজি গ্যাস ব্যবহারের জন্য ট্যাক্স কমিয়েছি। বিভিন্ন প্রণোদনা দিচ্ছি। গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধির চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। যে সব এলাকায় শিল্প স্থাপন হচ্ছে সে সব এলাকায় আমরা গ্যাস সংযোগ দিয়ে যাচ্ছি।

আইএসের অস্তিত্ব নেই

নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুলের এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে কতিপয় সংগঠন ইসলামের নামে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করলেও এ দেশে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) কোনো অস্তিত্ব নেই। আওয়ামী লীগ সরকার যেকোনো ধরনের জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের নীতিতে বিশ্বাস করে। যেকোনো জঙ্গিবাদকে দৃঢ়তার সাথে মোকাবেলায় বদ্ধপরিকর।

জঙ্গিবাদ মোকাবেলাসহ জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় সরকারের পক্ষ থেকে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় মহাসড়ককে গুরুত্বপূর্ণ সড়কসমূহের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে জেলা পুলিশ এবং হাইওয়ে পুলিশ পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছে। নাশকতামূলক ও ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্য যাচাইপূর্বক এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণসহ গ্রেফতার অভিযান পরিচালনা করছে।

২০১৬ সালে প্রবাসী সিআইপির মর্যাদা ৫ গুণ বৃদ্ধি হবে

সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য সেলিনা বেগমের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, ১৯৭৬ সাল থেকে জানুয়ারি ২০১৬ পর্যন্ত মোট ৯৭ লাখ ৬২ হাজার ৬৮৫ জন বাংলাদেশি কর্মী বিএমইটির ছাড়পত্র নিয়ে বিদেশে গমন করেছেন। এর মধ্যে বর্তমান সরকারের ২০০৯ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিএমইটির ছাড়পত্র নিয়ে বাংলাদেশি ৩৪ লাখ ৩২ হাজার ৬৫৮ জন কর্মী বিদেশে গমন করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীগণ প্রতি বছর বিপুল অংকের রেমিট্যান্স প্রেরণ করেন। ২০১৫ সালে মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ প্রায় ১৫ দশমিক ৩১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তাদের এ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ প্রতি বছর সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রদানকারী নির্দিষ্ট সংখ্যক প্রবাসী কর্মীকে কমার্শিয়াল ইর্ম্পট্যান্ট পারসন (সিআইপি) মর্যাদা দিয়ে সম্মানিত করা হয়।

তিনি বলেন, বিগত ২০১৪ সালের জন্য সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রেরণকারী হিসেবে ১০ জন প্রবাসী বাংলাদেশিকে সিআইপি নির্বাচিত করা হয়েছে। ২০১৬ সাল থেকে ১০ জনের স্থলে ৫০ জনকে সিআইপি মর্যাদা দেওয়া হবে। সিআইপি মর্যাদাপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা তাদের কার্ড ব্যবহার করে সচিবালয়ে প্রবেশ, ব্যবসায়িক ভ্রমণে বিমান, রেল ও নৌপথে আসন সংরক্ষণের সুযোগ পান। এ ছাড়া বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চাইলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সমান সুযোগ পান। দেশে-বিদেশে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বৈঠক করতে পারেন। বিভিন্ন জাতীয় দিবসে বাংলাদেশ মিশনের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ লাভ করেন।

প্রবাসী কর্মীদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশি কর্মীদের বিভিন্ন ধরনের সেবা প্রদানের লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশে অবস্থিত শ্রম উইংয়ের সংখ্যা ১৬ থেকে ২৮-এ উন্নীত করা হয়েছে। এ ছাড়াও যে সকল দেশে ১০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি কর্মী রয়েছে, সে সকল দেশের বাংলাদেশ দূতাবাসে পর্যায়ক্রমে শ্রম উইং চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই