মেইন ম্যেনু

দেশভর্তি বারাক ওবামা

গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সফরকে কেন্দ্র করে আমার সহকর্মী পশ্চিম কেনিয়ায় তাদের গ্রামে গিয়েছিলেন। ওই গ্রাম তাদের শেকড়, তার বাবা জন্মেছিলেন ওখানে। ওখানে যাওয়ার পর আমার বন্ধু কেভিন সিফ এক অদ্ভুত অবস্থার মুখোমুখি হলেন। কেভিনের সঙ্গে মুখোমুখি সাক্ষাত হয় বারাক ওবামা ওকথের। কেনিয়ার তৎকালীন নাগরিক ওবামা যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন তখন কেনিয়ার অনেক পরিবারই উদ্বেলিত হয়ে তাদের সন্তানদের নাম ওবামার নামে রেখেছিলেন।

হোয়াইট হাউসের বারাক ওবামা কেনিয়ার প্রত্যন্ত গ্রামের ওবামা ওকথের কাছে রাজার সমান। ওকথ আমার বন্ধুকে বলেছিল যে, ‘তিনি আমেরিকা বাস করেন এবং তিনি একজন রাজা।’ পরিস্থিতি শুধু ব্যক্তি নামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ওকথ যে স্কুলে পড়ালেখা করে তার নামও বারাক ওবামা প্রাইমেরি স্কুল। স্কুলটি বারাক ওবামা সাফারি পার্ক থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত। বন্ধুটির সঙ্গে ওবামা ওকথের কথা হলে জানা যায়, ওকথ বড় হয়ে ডাক্তার হতে চায়। কিন্তু এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে শিক্ষার কোনো সুযোগই নেই বলা চলে, সেখান থেকে ডাক্তার হওয়ার আশাও সুদূর পরাহত।

চলতি সপ্তাহে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের একজন রিপোর্টার বারাক ওবামা অয়ো নামের পাঁচ বছর বয়সী অপর এক শিশুর দেখা পেয়েছেন। সেই সাংবাদিকের সঙ্গে ওবামা অয়োর কথা হলে সে জানায়, ‘আমি যখন ওবামার মতো প্রেসিডেন্ট হবো তখন আমি বড় গাড়ি ও বিমানে চড়বো।’ সুতরাং দেখাই যাচ্ছে, বারাক ওবামা নামটির সঙ্গে কেনিয়ার মানুষের স্থানিক অবস্থা ভেদে চাহিদার সামঞ্জস্যতা রয়েছে। অয়ো’র বাবা অবশ্য গার্ডিয়ানের ওই সাংবাদিককে জানান, ‘আমার সন্তানের মধ্যে আমি প্রেসিডেন্ট ওবামাকে দেখতে পাই। এই নামটি আসলে একটা ম্যাজিক। যখনই এই শব্দটি নেই তখনই আমার ভেতরে কিছু একটা হয়। আমি জানি সে অনেক দূর যাবে। আমার সন্তান মামুলি কেউ নয় যে এখানেই থাকবে।’

আট বছর বয়সী অপর এক শিশু ম্যালকম ওবামা গার্ডিয়ানকে জানায়, ‘ওবামা নামটি আমাকে গর্বিত করে। আমার সঙ্গে যদি ওবামার দেখা হয় তাহলে আমি তাকে বলবো আমার এবং পরিবারের অন্য সবার শিক্ষার ব্যবস্থা করতে, যাতে আমি একজন ডাক্তার হতে পারি। আমি অনেক কঠোর পরিশ্রম করবো এবং জাতিকে সাহায্য করবো।’ অপরদিকে বারাক অতিয়েনো ওবামা নামের আরেক স্থানীয় ছেলে আরও বিনয়ী হয়ে আবেদন জানায় যে, সে শুধু তার নিজের হাত দিয়ে বারাক ওবামার হাতটি ধরতে চায়।






মন্তব্য চালু নেই