মেইন ম্যেনু

দেশি মাংসাশী উদ্ভিদ ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপ

কলস উদ্ভিদ নামের মাংসাশী উদ্ভিদের কথা আগেই শোনা গেছে। এটা ছাড়াও ভেনাস ফ্লাইট্রাপ নামের আরেক মাংসাশী উদ্ভিদের সন্ধান পাওয়া গেছে।

ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপ নামটা শুনে মনে হতে পারে আফ্রিকা বা আমাজন অঞ্চলের কোনো উদ্ভিদ বুঝি। আসলে তা নয়। এর বাস আমাদের দেশেই। যদিও আমাদের দেশ একমাত্র আবাসস্থল নয়। বাংলাদেশের সিলেটের খাসিয়া অঞ্চলের টিলার ওপরে জন্মায় এই ভয়ঙ্কর পোকা শিকারি উদ্ভিদটি।

এমনিতে দেখতে সাদামাটা। একফুটের মতো উঁচু হয়। বসন্তকালে সাদা সাদা ফুলও ফোটে এই গাছে। তবে এর কদর সেসবের জন্য নয়। আসল কারিশমা এর পাতায়। এই গাছে কাণ্ডের গোড়ার দিকে ঝিনুকের খোলসের মতো পাতা আছে। দুই পাতার মাঝখানে জানালা-দরজায় লাগানো কব্জার মতো মধ্যশিরা থাকে। মধ্যশিরার দু’পাশে ঝিনুকের খোলসের মতো পত্রফলক দুটির অবস্থান। এই পত্রফলককেই ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার করে ভেনাস ফ্রাইট্র্যাপ।

প্রতিটি পত্রফলেক ভেতরের দিকে ট্রিগার হেয়ার নামে তিনটি করে সংবেদনশীল তন্তু থাকে। পাতার ভেতরে পিঠে হালকা লাল রঙের প্রলেপ থাকে। আর বাইরের কিনার সুচের মতে অসংখ্য সুড়। এই সুড়গুলোকে বলে সিলিয়া। তাতে আবার মধু উৎপন্ন হয়।

কীট-পতঙ্গরা লাল রং আর মধুর গন্ধে আকৃষ্ট হয়ে যেই না পত্রফলকের ওপর বসে তখন ট্রিগার হেয়ারে টান পড়ে। আর ঝিনুকের খোলসের মতো পত্রফলক দুটি বন্ধ হয়ে। তার ভেতর আটকা পড়ে হতভাগ্য কীট-পতঙ্গ। পত্রফলক বন্ধ হওয়ার পরপরই পাতার ভেতরে থাকা সুক্ষ রন্ধ্র দিয়ে একধরনের তরল পদার্থ নির্গত হয়ে আটকে পড়া পোকাকে ডুবিয়ে দেয়। এই তরলেই থাকে পরিপাকে সহযোগী এনজাইম।

এই এনজাইমের প্রবাহ ধীরে বাড়তে থাকে এবং এই এনজাইম পোকার দেহের নরম অংশগুলো গলিয়ে ফেলতে পারে। তবে শক্ত অংশগুলো অগলিত অবস্থায় থেকে যায়। এগুলো পরে ফাঁদ খুলে বের করে দেয় ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপ। একটা ফাঁদ তিনবার পর্যন্ত শিকার ধরতে পারে। তারপরে সেটা নষ্ট হয়ে যায়। তবে তাতে উদ্ভিদের কোনো ক্ষতি হয় না।
কারণ একেকটা গাছে এমন বহু পাতার ফাঁদ থাকে। আবার নতুন পাতাও গজায়। যেগুলো পরবর্তীতে ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার করে গাছ।

ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপের বৈজ্ঞানিক নাম : Dionaea muscipula.

সূত্র : আর্কাইভ ডট অর্গ, হাউস্টাফওয়ার্ক






মন্তব্য চালু নেই