মেইন ম্যেনু

দেশের মাটিতে ব্রাজিলও তো সাত গোল খায় : সালাউদ্দিন

অবশেষে মুখ খুললেন বাফুফে সভাপতি ও কিংবদন্তি ফুটবলার কাজী সালাউদ্দিন। তবে পদত্যাগ নয়, ধ্বংস্তুপের ওপর দাঁড়ানো বাংলাদেশ ফুটবল নিয়ে আবারও স্বপ্ন দেখালেন। বাফুফে সভাপতি হিসেবে আরও সাড়ে তিন বছর সময় হাতে আছে তার। নানামুখী পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই সময়ে দেশের ফুটবলের চেহারা পাল্টে দেবেন বলে ঘোষণা দিলেন তিনি।

রবিবার বিকালে বাফুফে ভবনে আয়োজিত সাংবাদ সম্মেরনে সালাউদ্দিন বলেন, ‘আমি জাতীয় দলের জন্য সবকিছু্ করেছি। কাড়িকাড়ি টাকা খরচ করে বিদেশি কোচ, ট্রেনার, ফিজিও রেখেছি। সব ধরনের সুযোগ সুবিধে নিশ্চিত করেছি। আমি একটা জিনিসই পারিনি এবং সেটা হলো মাঠে গিয়ে খেলে দিয়ে আসা। লিগে এবং অন্যান্য পর্যায়ে তাদের যা পারফরম্যান্স ও কমিটমেন্ট দেখেছিলাম, তাতে এমন একটা ফল আমি আশঙ্কাই করেছিলাম। ভুটানের কাছে হেরে যাওয়ায় আপনারা যেমন কষ্ট পেয়েছেন, দেশবাসী যেমন হতাশ, তেমনি আমিও হতাশ এবং কষ্ট পেয়েছি।’

১০ অক্টোবর ভুটানের কাছে বাংলাদেশের ৩-১ গোলে হারার পর থেকেই তার মুখে তালা। ফুটবল নিয়ে কোনো কথাই বলেননি তিনি এতদিন। ভুটান ট্র্যাজেডির পর ফুটবল নিয়ে হতাশ পুরো দেশ। যে ভুটানকে এক সময় ৭/৮ গোল দিয়েছে বাংলাদেশ, সেই ভুটানের কাছে এমন হারে বিস্মিত, ক্ষুব্ধ সবাই। ফুটবল ফেডারেশন ভবনের বাইরে এ নিয়ে বিক্ষোভ হয়েছে দুদিন, রবিবারও হয়েছে। সেখানে সালাউদ্দিনের পদত্যাগের জন্য সোচ্চার বিরুদ্ধবাদীরা। করা হচ্ছে মণ্ডুপাত। যে মিডিয়া তার সবসময় পাশে থেকেছে, সেই মিডিয়াও পরিস্থিতির কারণে অবস্থান পাল্টিয়েছে। যাদের সঙ্গে তিনি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নির্বাচন করেছেন এবং জয়ী হয়ে ফেডারেশন ভবনে বসেন, তাদের অনেকেই এখনো তার পাশে নেই।

কঠিন এ পরিস্থিতিতে সাংবাদিক সম্মেলন ডেকে আগামী সাড়ে তিন বছরের জন্য ফুটবল নিয়ে তার নতুন পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। নতুন এ পরিকল্পনা বাস্তাবায়ন করতে না পারলে তিনি পদত্যাগ করবেন বলেও জানান। সালাউদ্দিন বলেন, ‘আমি জাতীয় দলে টানা ১৬ বছর খেলেছি। অধিনায়ক ছিলাম। সাফের দুই বারের প্রেসিডেন্ট আমি। বাফুফেতে তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়েছি। আমার উপর সবার আস্থা আছে বলেই তারা আমাকে নির্বাচিত করেছেন। আমি সালাউদ্দিন। আমি মনে করি দেশবাসীরও আমার ওপর আস্থা রয়েছে। আপনারা, সাংবাদিকরাও আস্থা রাখেন। যদি না পারি, বলাও লাগবে না, আমি পদত্যাগ করব। কিন্ত জানি, আমি পারব।’

নিজের কিছু সাফল্য টেনে সালাউদ্দিন বলেন, ‘আমি যখন দায়িত্ব নিয়ে এখানে এসেছি, তখন মাঠে ফুটবল ছিল না। খেলোয়াড়রা লিগের জন্য আন্দোলন করেছে। আমি মাঠে ফুটবল ফিরিয়েছি। হ্যাঁ, জাতীয় দল পারেনি। ফুটবলে এটা হতেবই পারে। নিজেদের মাটিতে গত বিশ্বকাপে ব্রাজিল সাত গোল খেয়েছে। ব্রাজিল যে মানের দল তাদের তো প্রতিবারই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কথা। ২০০০ বিশ্বকাপে জার্মানির মতো দল দ্বিতীয় রাউন্ডেই খেলতে পারেনি। ইংল্যান্ডকে দেখেন, ১৯৬৬ সালের পর তারা আর চ্যাম্পিয়নই হতে পারলো না। আসলে ফুটবল এমনই। এটা একটা সার্কেল। এখানে ভালো হবে, খারাপ হবে। এটাই স্বাভাবিক। ভুটানের কাছে হেরেছি বলে সবকিছু শেষ হয়ে যায়নি। ফুটবলে এমন হতেই পারে।’

আগামী সাড়ে তিন চার বছরের জন্য নতুন ফুটবল পরিকল্পনা তিনি হাতে নিচ্ছেন বলে জানান। যে পরিকল্পনায় অগ্রাধিকার দেয়া হবে প্রতিভা অন্বেষণ, স্কুল ফুটবল, বিভিন্ন বয়সভিত্তিক লিগ বা টুর্নামেন্ট। জাতীয় দলকে দেয়া হবে দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ।

এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে বছরে চার কোটির টাকার মতো দরকার হবে জানান। আর এই অর্থ যেভাবেই হোক ম্যানেজ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। সালাউদ্দিন বলেন,‘ সব কিছুর জন্য টাকা দরকার। আমাকে কত টাকা দেয়া হয়? আমাকে ভিক্ষা করে টানা জোগাড় করতে হয়। ফেডারেশনের খরচ চালোতে হয়। তবে হ্যাঁ, আগামী সাড়ে তিন বছরের জন্য যে পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে, এর জন্য যে টাকার দরকার, তা আমি যেভাবেই হোক জোগাড় করব। অমি কথা দিচ্ছি ফুটবলে সুদিন আসবেই।’

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ‍ছিলেন বাফুফে সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সালাদ মুর্শেদী, সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ প্রমুখ।






মন্তব্য চালু নেই