মেইন ম্যেনু

দেশ গঠনের আলোকবর্তিকা বাহক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা: আপেল মাহমুদ

মো. ওয়াহিদুল ইসলাম: বাংলাদেশে ইতিহাস পর্যালোচনা করতে গেলে আমরা দেখতে পাই ৫২’র ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট এবং স্বৈরাচারী শাসন আমল ও ১/১১ এর সামরিক সরকার উৎখাতে ছাত্র আন্দোলন তথা ছাত্ররাজনীতি ব্যাপক ভুমিকা পালন করেছে এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। আমাদের এই দেশের ইতিহাসে ছাত্ররাজনীতি বিভিন্ন সময়ে বিতর্কের মধ্যে পড়েছে এটা যেমন সত্যে আবার ছাত্ররাজনীতির কারনেই এদেশকে বিভিন্ন বিপদ থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে এটাই তেমন সত্য। আর ছাত্ররাজনীতির কথা বলতে গেলে গৌরবময় যে অধ্যায় চলে আসবে সেক্ষেত্রে সবার প্রথমেই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নাম উঠে আসবে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংগঠন সমুহের মধ্যে সবচেয়ে গৌরবময় ও ঐতিহ্যবাহী সংগঠন হলো বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

প্রসঙ্গত ছাত্রলীগ একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠন হলেও বিভিন্ন সময়ে কতিপয় অসাধু ব্যক্তিদের প্ররোচনায় এবং কিছু নামধারী অসাধু ব্যাক্তি এই সংগঠনের নাম বিক্রি করে বারবার সংগঠনটিকে সমালোচিত করেছে। সমালোচনার আর বিভিন্ন বিতর্কিত কার্যক্রমে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ছাত্রলীগ এর নাম জড়িয়ে দেওয়ায় মিডিয়ায় বেশিরভাগ সময়ে ঐতিহ্যবাহী এই ছাত্র সংগঠনের সুনাম ক্ষুন্ন করা হয়। তাই দেশ গঠনের আলোকবর্তিকা বাহক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা অনেক ভাল কাজ করলেও তা প্রচার করতে দেখা যায় না পক্ষান্তরে ছাত্রলীগ এর নাম ব্যবহার করে কেউ তিলসম অপরাধ করলেও তা তাল পরিমান দেখিয়ে মিডিয়ার অনেক সাংবাদিকরা অতি উৎসাহী হয়ে সুনাম ক্ষুন্ন করার মতো সংবাদ ফলাও করে প্রচার করে। বর্তমানে ছাত্রলীগ কিছু অসাধু নেতাকর্মীদের অপকর্মের দায়ভার ও বদনাম এই সংগঠনকে বইতে হচ্ছে। তাই দেশ্রপ্রেমে উজ্জিবীত এই সংগঠন বলতে অনেক অজ্ঞ ব্যাক্তিরা বুঝে ছাত্রলীগ মানে টেন্ডারবাজী বা দাঙ্গা হামলা ও সহিংসতা সৃষ্টিকারী একটি সংগঠন। ছাত্রলীগের মাঝেও যে সোনার পিদিম আছে এবং সেসব সোনার পিদিমদের কারনেই হয়তো এই সংগঠনটি এতো ঘাত প্রতিঘাত সহ্য করে মাথা উঁচু করে আজো দাড়িঁয়ে আছে। ঐতিহ্যবাহী ছাত্রলীগ নামক সংগঠনের তেমনই এক সোনার পিদিম রয়েছে সদ্য বিভাগ ঘোষিত জেলা ময়মনসিংহের ত্রিশালে। ছেলেটির নাম আপেল মাহমুদ জন্ম ৩১ ডিসেম্বর ১৯৯১। জন্ম ও বাসস্থান দুটোই ময়মনসিংহের ত্রিশালে। তার পিতা ইব্রাহীম খলিল, যিনি পেশায়-সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, এবং রাজনীতির পরিচিতিতে তার পিতা সাবেক পৌর আওয়ামীলীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট, মাতা: সখিনা বেগম- গৃহিণী । ৩ ভাই ১ বোনের সবার ছোট আপেল মাহমুদ।

শিক্ষা জীবন বিবেচনায় অত্যান্ত মেধাবী একজন শিক্ষার্থী আপেল মাহমুদ। ছোট বেলা থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত এই ছোট্ট ছেলেটির শৈশব কাটে ময়মনসিংহ বিভাগের ত্রিশাল উপজেলায় । তিনি ছাত্র হিসেবে কখনোই খারাপ ছিলেন না । তিনি ৮ম শ্রেণীতে বৃত্তি পেয়েছেন। এর পর ইসলামিয়া একাডেমী স্কুল হতে এসএসসি তে ত্রিশাল উপজেলায় ৩য় স্থান অধিকার করেন এবং ময়মনসিংহের ক্যান্টনমেন্ট স্কুল এন্ড কলেজ হতে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন ও অনার্স: চারুকলায় (গ্রাফিক্স ডিজাইন বিভাগে) বর্তমানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় এর মাস্টার্স ২য় সেমিস্টারে অধ্যয়নরত তিনি।

ছাত্ররাজনীতিতে কিভাবে আসা এমন প্রশ্নের জবাবে জানা যায়, সেই ৪র্থ শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় একবার নৌকা’র মিছিলের পেছন পেছন ছুটতে গিয়ে হারিয়েছে তার পাদুকা খানি ।এখন কি করা মা র বকুনি শুনতে হবে ভেবে চিন্তায় পড়ে গেলো সে । সেদিনের সেই মিছিলে হারিয়ে এসেছিল এক জোড়া পাদুকা কিন্তু সেই দিনের সেই মূহুর্ত থেকে আজ পেয়েছে অনেক কিছু। সেদিন তিনি মিছিলে গিয়ে এক জোড়া পাদুকা হারিয়েছেন বটে কিন্তু তার জালাময়ী বক্তব্যে আজ হাজারো যুবক তাদের পাদুকা হারালেও হারানোর ব্যাথায় এতোটা বিচলিত হয় না। আপেল মাহমুদ রাজনৈতিক জীবন অনেকটাই বর্নিল ও ইতিবাচক। কেননা সকল জীবনের শুরুতে অর্থাৎ ৭ম শ্রেনীতে ত্রিশাল পৌর ছাত্রলীগের সদস্য, ৯ম শ্রেনীতে ত্রিশাল পৌর ছাত্রলীগের যুগ্ন আহবায়ক। ২০১২ সালে জাককানইবি শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক,২০১৩ সালে যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক, ২০১৫ সালে জাককানইবি শাখা ছাত্রলীগের পূর্ণাংগ কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক। ব্যাক্তি জীবন পর্যালোচনায় আপেল নিতান্তই সাদা মনের মানুষ।

সাধারনত দেখা যায়, ক্ষমতাসীন দলের কোন পাতি নেতা হলেও তার মাঝে “বাদশাহী এলাহি কারবার”এমন ভাবসাব নিয়ে চলাফেরা আর কথায় কথায় আর হুংকার ছাড়েন কিন্তু আপেল মাহমুদ এর ক্ষেত্রে ঠিক তার উল্টো। অহংকার আর দাম্ভিকতার নাগালের বাইরে থাকেন তিনি। অত্যান্ত সাধারণ হাস্যেউজ্জ্বল, সাদাসিদে মানুষ, সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে মিশে যেতে পারে খুব সহজেই, সাধারণ শিক্ষার্থীদের যে কোন বিপদে এগিয়ে আসেন সবার আগে শুধু রাজনৈতিক ব্যাক্তি হিসেবে নয় সাধারণ ও সচেতন ছাত্র হিসেবে রাজনীতি করেন । তাও সাধারণ ছাত্র সমাজের জন্য নিজের জন্য নয়। বাসে যখন চলাফেরা করে তখন সামনের সীটে না বসে বসেন পিছনের সীটে পাছে নিজের মনে দাম্ভিকতা চলে আসে তাই। তার এই গ্রহনযোগ্য চলাফেরায় অনেক সাধারন ছাত্রের কাছে তিনি অধিক জনপ্রিয়। তার সমালোচকরা ঈর্ষান্বিত হয়ে ব্যাঙ্গাত্মক সূরে হয়তো বলতে পারেন তিনি কি তাহলে ফেরেশতা নাকি একেবারে ধোয়া তুলসী পাতা? না কোন মানুষই ফেরেশতা যেমন নয় তেমনি তিনিও নন। তবে এটা নিশ্চিত করে বলা যায় তিনি প্রথম সারির একজন ভাল মানুষ। মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করার জন্যে ফেরেশতা হতে হয় না প্রয়োজন ভাল ব্যাক্তিত্ব এবং সেটাই আপেল মাহমুদ এর স্বভাবজাত। আর ভাল মানুষকে ফেরেশতারাই নম নম করে। তার রাজনৈতিক আদর্শ ও ব্যাক্তিত্বে অনুপ্রানীত হয়ে অনেক সাধারন ছাত্রছাত্রীরা রাজনীতি জড়িয়েছেন। অনেক রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা তরুন এই নেতার বক্তব্য শোনার জন্যে আগ্রহ দেখান এবং যুব সমাজকে তেজদীপ্ত করতে তার ভাষন অতুলনীয়। লেখাপড়া আর রাজনীতিতেই নিজেকে সীমাবদ্ধ নন তিনি। নিজের প্রিয় ক্যাম্পাসে তার অবদান অনেক। ক্যাম্পাসে উলে¬খযোগ্য কাজগুলোর মধ্যে তার উদ্যেগে সর্ব প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিমূর্তি জয়বাংলা স্থাপন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল লাইব্রেরির সামনে বঙ্গবন্ধুর ম্যোরাল স্থাপন, তার সম্পাদনায় বঙ্গবন্ধু কে নিয়ে “অভেদ” নামে কবিতার বই প্রকাশ,বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বপ্রথম বঙ্গবন্ধুর চিত্রকর্ম প্রদর্শনী অন্যতম । মাননীয় প্রধান মন্ত্রী ও গনতন্ত্রের মানস কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা এক সভায় বলেছিলেন- শুধু ভাল কর্মী হলে চলবে না ভাল ছাত্র হতে হবে এবং গঠনমূলক ও অনুকরনীয় হতে হবে। সেসব দিক বিবেচনায় এ ছাত্রনেতার হাতেই ছাত্রলীগের পবিত্র মশাল শোভা পায়।






মন্তব্য চালু নেই