মেইন ম্যেনু

দেশ থেকে দেশে বিচিত্র যত প্রাণী পূজা!

সেই প্রাচীনকাল থেকে মানব সভ্যতায় বেশ বড় একটা জায়গা করে নিয়েছে পূজা। কী নেই সেই পূজার উপাদান হিসেবে? জীব-জড়, আকাশ-মাটি, পানি-সূর্য- কোন কিছুকেই বাদ দেয়নি মানুষ। করেছে আলো আর অন্ধকারের পূজার। তবে এক্ষেত্রে সবচাইতে এগিয়ে রয়েছে প্রাণী পূজা। কত-শত প্রাণী পূজাই তো হয় হরহামেশা। কিন্তু এমন কিছু প্রাণী আছে যাদেরকে পূজা করা হয় এটা নিজে চোখে না দেখলে বিশ্বাসই হবে না আপনার।

১. তিমি

কেবল ডাঙ্গার প্রাণীদেরকেই নয়, মানুষ পূজা করে সমুদ্রবাসী নানারকম মাছকেও। যেগুলোর ভেতরে প্রথমেই নাম চলে আসে তিমি মাছের। বিশ্বের নানা স্থানে, নানা সময়ে তিমিকে দেখা হয়েছে শ্রদ্ধার সাথে, বসানো হয়েছে দেবতার আসনে। তবে বর্তমানে এ পূজা সবচাইতে বেশি চালু আছে ভিয়েতনামে। কেবল তিমি মাছই নয়, ভিয়েতনামে এ জাতীয় কোন প্রাণী, যেমন- ডলফিন ও পরপয়সকেও ধরা কিংবা মারার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এদেরকে মারা মানে বাজে ভাগ্যকে যেচে ডেকে আনা বলে মনে করেন ভিয়েতনামাসীরা। এখানকার প্রধান ধর্ম বৌদ্ধধর্ম বা কনফুসিয়ানিজমের সাথে তিমি পূজার কোনরকম সম্পর্ক না থাকলেও বহু বছর ধরেই এখানে চলে আসছে এ রীতি।

২. কুকুর

কুকুরকে সাধারনত বাড়ি-ঘর পাহারা দেবার পক্ষে প্রচন্ড সহায়ক মনে করা হলেও ভারতের কিছু অংশে একে পূজা করা হয়। হিন্দুরা কুকুরকে যম বা মৃত্যু দেবতার বার্তাবাহক বলে ধারণা করে। মনে করে স্বর্গের রাস্তাও পাহারা দেয় এই কুকুরই। অন্যদিকে নেপালেও কুকুর নিয়ে কম কিছু করা হয়না। কুকুরদের উপলক্ষ্যে বিশেষ দিন আছে এখানে। নভেম্বর মাসে পালিত হয় সেই দিন। এছাড়াও কুকুরকে পূজা করতে খিচা পূজা নামক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় এখানে। তবে এ জায়গাগুলো ছাড়াও পশ্চিম এশিয়ার নোসারি আর জাভারকারাঙদের ভেতরে বেম পরিচিত কুকুর পূজা।

৩. নেকড়ে

ইন্দো ইউরোপিয়, আমেরিকা আর তুর্কিক মানুষদের ভেতরে বেশ পরিচিত এই নেকড়ে পুজো। বিশেষ করে তুর্কিকরা মনে করে তাদের জন্ম হয়েছে নেকড়ে থেকেই। এক্ষেত্রে বেশ বিখ্যাত একটি পৌরাণিক কাহিনী রয়েছে তাদের। যেখানে একবার চীনা সৈন্যদের দ্বারা তুর্কিকদের সবাই মারা গেলে এসনা নামের এক নেকড়ে বাঁচায় এক শিশুকে। যাদের থেকে জন্ম নেয় এক আধা-মানব, আধা-নেকড়ে সন্তান। যে কিনা জন্ম দেয় তুর্কিকদের। আর তাই নেকড়ের ওপর একটা আলাদা টান রয়েছে এদের অনেক আগে থেকেই।

৪. কাক

শুধু কাক নয়, কাক, পেঁচা ও ঈগল- এই তিনটিকেই একত্রে অষ্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটা জায়গা দেওয়া হয়। এছাড়াও তিহারে হিন্দুদের পূজার প্রথম দিনটাই শুরু করা হয় কাক পূজা দিয়ে। এসময় কাকেদের জন্যে নানারকম খাবার থালে করে সাজিয়ে রাখা হয়। মনে করা হয় কাকের কা কা ডাক পরিবারে কষ্ট আর দুঃখ নিয়ে আসে। আর তাই তাদেরকে খাবার দিয়ে সেগুলোকে তাড়াতে চায় সবাই।

৫. ইদুর

হিন্দু ধর্মালম্বীদের ভেতরে ইদুর পূজা বেশ পরিচিত একটি পূজা। ভারতের কিছু কিছু মন্দিরে কয়েক শতক ধরেই চলে আসছে এই পূজা। যদিও একে অনেকেই এড়িয়ে চলে, তবে হিন্দু দেবতা গনেশের সাথে যোগ থাকায় অনেকে পূজা করে এর। এচাড়াও মড়কের জন্যেও চলে পূজা। অন্যভাবে বলা হয়, যারা টিকে থাকতে পেরেছে তাদের সবাইই শ্রদ্ধার দাবিদার। তবে এ পূজার সবচাইতে বিখ্যাত মন্দিরটি হচ্ছে কর্ণি মাতা মন্দির। আরো অনেক আকর্ষণের পাশাপাশি এতে রয়েছে সাদা রঙের ইদুর। যাদেরকে দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ভিড় করে মানুষেরা।

৬. বিড়াল

কেবল ইঁদুরই নয়, মানুষের পূজা পেতে পিছিয়ে নেই ইঁদুরের চিরশত্রু বিড়ালও। পৌরাণিক নানা কাহিনী থেকে শুরু করে বর্তমান সময় অব্দি বিড়ালের পূজা করে আসছে মানুষ। তবে এর চল সবচাইতে বেশি ছিল মিশরে। বর্তমানে অবশ্য চীন আর পোল্যান্ডে ছড়িয়ে আসে এই পূজা। খারাপ শক্তিকে দূরে সরিয়ে রাখে আর ক্ষেত-খামারে সাহায্য করে বলে নাম আছে বিড়ালের। আর সেজন্যেই বিগালদেরকে পূজা করে বিশেষত কুষকরাই।

৭. ছাগল

ছাগলের মাংস খেতে পছন্দ করেন অনেকেই, তাই বলে ছাগলকে পূজা? কিন্তু সত্যি বলতে কি এটাও হয়। আর ব্যাপারটি হয় সিরিয়াতে। বর্তমানে কমে গেলেও আগে অনেক বেশি পরিমানে হত এটি। মনে করা হত ছাগল হচ্ছে শয়তানের বাহক। আর তাই রাজার বিয়ের দিন সেটাকে সাজিয়ে গুজিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হত। এছাড়াও আফ্রিকার কিছু অংশ, মিশর, গ্রীস, চীন এবং ইউরোপের কিছু অংশে পূজা করা হয় ছাগলকে।

তথ্যসূত্র-

10 most sacred worshipped animals

তথ্যলিংক- http://listdose.com/10-most-sacred-worshipped-animals/






মন্তব্য চালু নেই